• বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রাষ্ট্রপতির উদ্বোধন ফলকেই সীমাবদ্ধ বাকৃবির হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউট

  বাকৃবি প্রতিনিধি

০২ মার্চ ২০২১, ১০:৪৪
বাকৃবি
বাকৃবির হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন ফলক। ছবি : দৈনিক অধিকার

২০১৮ সালের ২২ জুলাই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) চত্বরে হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। উদ্বোধনের আড়াই বছর অতিবাহিত হলেও কোনো অগ্রগতি নেই ইনস্টিটিউটের।

হাওর ও চরাঞ্চলের মানুষের কষ্ট লাঘব ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে হাওর ভূমিপুত্র খ্যাত প্রয়াত সাংবাদিক ড. নিয়াজ পাশা ২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে একটি প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির একান্ত ইচ্ছায় ইনস্টিটিউটটি প্রতিষ্ঠিত হলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ভিত্তিপ্রস্তরের ফলকেই আটকে আছে অবকাঠামো। এ পর্যন্ত ৩ জন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলা নিয়ে হাওর এলাকা গঠিত। এছাড়া বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরসহ বিভিন্ন জেলায় রয়েছে বিস্তীর্ণ চর। আর এসব হাওর ও চরে সীমাহীন দুঃখ-কষ্টে কাটে মানুষের জীবন। এসব অঞ্চলের মানুষের কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নের সাথে জীবনমান উন্নত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির নির্দেশনায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যসেবা কমপ্লেক্স সংলগ্ন জায়গায় ইনস্টিউটটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়।

এ ইনস্টিটিউটের অধীনে হাওরের গতিপ্রকৃতি, পরিবেশ ঠিক রেখে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে গবেষণা এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেওয়া হবে।

হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম দৈনিক অধিকারকে বলেন, ইনস্টিটিউটটির প্রথম প্রস্তাবনায় বাজেট ছিল ৫০ কোটি টাকা। পরবর্তীকালে নতুন প্রস্তাবনায় বাজেট ১ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন প্রস্তাবনায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মূল কেন্দ্র রেখে কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, গোপালগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়াতে ৬টি উপকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেই প্রস্তাবনার ওপর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) একটি প্রেজেন্টেশনও দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে ইউজিসি ৬টি উপকেন্দ্রের জায়গায় ৪টি উপকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবনা দিয়ে কিছু সংশোধনী দেন। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে সেই সংশোধনী দেওয়া সম্ভব হয়নি।

তিনি জানান, নতুন সংশোধনী ইউজিসি কর্তৃক গৃহীত হলে বাজেট পাশ করানো সম্ভব হবে। আর বাজেট পাশ হলেই অবকাঠামোগত কাজ শুরু করতে পারব। খুব শীঘ্রই নতুন সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হবে। সাথে ইনস্টিটিউটটির জন্য উপকেন্দ্রসহ জায়গা নির্ধারণ, নির্ধারিত জায়গা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য একটা বাজেট চাওয়া হবে।

জনবল নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, বাজেটের জন্যই অপেক্ষা করা হচ্ছে। তবে জনবল নিয়োগের একটা খসড়া ইতোমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে।

ইনস্টিটিউটের আওতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, এই ইনস্টিটিউটের অধীনে ‘Land Resources and Sustainable Agriculture’ নামে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেওয়া হবে। তবে আগের পরিচালকের সময়ে শিক্ষক নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। খুব শীঘ্রই নতুন করে আবারও বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন : ঢাবির সাত শিক্ষার্থী স্থায়ী বহিষ্কার

তিনি বলেন, স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এ বছরের অক্টোবর-মার্চ সেমিস্টার থেকে শুরু করার জন্য চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে আমরা ডিগ্রিটির পাঠ্যক্রমের (কারিকুলাম) খসড়া প্রস্তুত করেছি। অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সেটি পাশ করিয়ে সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করে চূড়ান্ত করা হবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি।

আপনার ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, আয়োজন/ অসন্তোষ সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: inbox.odhika[email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড