• মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ ৪৩ হাজার কোটি টাকা

  অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

২৪ জুন ২০১৯, ১৫:৫৭
সঞ্চয়পত্র
ছবি : সংগৃহীত

২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১০ মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে নেট বিনিয়োগ এসেছে ৪৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা; যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৬৬ শতাংশ বেশি। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।  

ব্যাংক আমানতের সুদের চেয়ে দ্বিগুণ মুনাফা এবং পুঁজিবাজারে আস্থাহীনতা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রবণতা ও বিনিয়োগের মন্দাভাবের কারণেই সাধারণ মানুষ সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছেন বলে জানা গেছে।  

তথ্য অনুযায়ী, সরকার চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি  টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। বছর না ঘুরতেই জুলাই-এপ্রিলে এখান থেকে ঋণ এসেছে ৪৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এটি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১৬৫ শতাংশ। সে হিসেবে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত থেকে সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮১ হাজার ২৪১ কোটি টাকা।  

অন্যদিকে, এই মার্চ থেকে এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়। এছাড়া নানাভাবে নজরদারিও বাড়ানো হয়। কিন্তু তাও সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেনি।

সূত্র থেকে জানা গেছে, জাতীয় সঞ্চয় স্কিমগুলোতে শুধু এপ্রিলে নেট (প্রকৃত) বিনিয়োগ আসে ৩  হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। গত বছরের একই মাসে যার পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা।

সাধারণত সরকার সঞ্চয় স্কিমগুলোতে বিনিয়োগকৃত অর্থের ওপর একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর মুনাফা দেয়। আর স্কিমের মেয়াদ শেষ হলে বিনিয়োগকৃত অর্থও ফেরত দেওয়া হয়। প্রতিমাসে  বিক্রি হওয়া সঞ্চয় স্কিমগুলো থেকে প্রাপ্ত বিনিয়োগের হিসাব থেকে আগে বিক্রি হওয়া স্কিমগুলোর মূল ও মুনাফা বাদ দিয়ে নেট ঋণ হিসাব করা হয়। সরকারের কোষাগারে সে অর্থ জমা থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সরকার বাজেটে নির্ধারিত বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে তা কাজে লাগায়। এজন্য অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নেট বিনিয়োগকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

কিন্তু যে হারে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ছে, সেখানে সরকার সুদ ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ মেটাতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার সঞ্চয়পত্র কিনতে বিভিন্ন শর্ত আরোপ করে। 

২০১৯-২০ প্রস্তাবিত অর্থবাজেটে সরকার সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করে। আর গত মার্চ থেকে সঞ্চয়পত্রের সব ধরনের লেনদেন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে করা বাধ্যতামূলক করা হয়। শুধু তাই নয়, লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র   কিনতে টিআইএন বাধ্যতামূলকও করা হয়েছে। এতকিছুর পরও সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকছেন গ্রাহকরা।

এর আগে ২০১৫ সালের ১০ মে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদহার গড়ে ২ শতাংশ কমানো হয়েছিল।  

পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ০৪ শতাংশ, পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ, পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এই হার ২০১৫ সালের ২৩ মের পর থেকে কার্যকর আছে। এর আগে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ছিল ১৩ শতাংশেরও বেশি।
 

ওডি/টিএফ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড