• রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

সাক্ষ্যগ্রহণে নুসরাতের ভাই ও মা

সহায়তা না করে আপত্তিকর প্রশ্ন করে মোয়াজ্জেম

  অধিকার ডেস্ক

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৫৫
মাদরাসাছাত্রী নুসরাত
হত্যাকাণ্ডের শিকার মাদরাসাছাত্রী নুসরাতের ছোট ভাই ও তার মা (ফাইল ফটো)

থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মোয়াজ্জেম সহায়তা না করে আপত্তিকর প্রশ্ন করে তা ভিডিও করেছিল। পরে সে ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়। সে দিন ওসি আইনি সহায়তা দিলে আপুকে (নুসরাত) পরপারে যাওয়া লাগত না। আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে এসব কথা জানায় হত্যাকাণ্ডের শিকার মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির ছোট ভাই রাশিদুল হাসান রায়হান। 

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সাইবার ট্রাইব্যুনালে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন নুসরাতের ভাই এবং তার মা। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

নুসরাতের জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর মামলায় সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার হওয়া ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন তার। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ সাক্ষীদের জেরা করেন। এ নিয়ে পাঁচজনের সাক্ষ্য নিয়েছেন আদালত। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে বাকি সাক্ষীর জন্য আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদলত।

নুসরাতের ছোট ভাই বলেন, ‘গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাই। সেখানে ওসি মোয়াজ্জেমের রুমে আপুকে ডেকে নেওয়া হয়। তবে আমাদের ভেতরে যেতে দেওয়া হয়নি। পরে ওসির রুম থেকে বের হওয়ার পর আপু (নুসরাত) কান্না করতে করতে বলে, ওসি মোয়াজ্জেম তার নেকাব সরিয়ে আপত্তির প্রশ্ন করেছে। সেদিন মামালা দায়ের করে থানা থেকে আমরা চলে আসি। গত ১২ এপ্রিল আমার ফেসবুক ভিডিওতে দেখি আপুকে আপত্তিকর প্রশ্ন করা হচ্ছে।’

নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বলেন, ‘২৭ মার্চ নুসরাতকে নিয়ে আমরা থানায় যাই। সেখানে নুসরাতকে একা ওসির রুমে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আমাদের যেতে দেয়নি। কিছু সময় পর বের হয়ে নুসরাত জানায়- তার কথা কেউ একজন ভিডিও করেছে।’

এ দিকে গত ১৬ জুন বিকালে হাইকোর্ট এলাকা থেকে সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমকে আটক করে পুলিশ। পরে ১৭ জুন মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত। গত ২৪ জুন মোয়াজ্জেমকে জেল কোড অনুযায়ী ডিভিশন দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলার আবেদন করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আবেদনটি গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামলা তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ ফেনীর সোনাগাজী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে শ্লীলতাহানির মামলায় আটক করে পুলিশ। মাদ্রাসার আলিমের ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির মা বাদী হয়ে এ মামলা করেন। পরে তিনি কারাগারে থেকেই নুসরাতের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে চাপ দিতে থাকেন। মামলা তুলে না নেওয়ায় নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় অধ্যক্ষের সহযোগীরা। গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। নুসরাতের মৃত্যুর পর দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় বইতে থাকে। আসামিদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

ওডি/এসএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড