• বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

জামালপুরে নদী ভাঙনে ২ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত

  জামালপুর প্রতিনিধি

৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:০৮
নাদী
শেষ আশ্রয়স্থল বসতবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা মানুষ (ছবি : সংগৃহীত)

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দেখা দিয়েছে মাদারগঞ্জ, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলায় যমুনা নদী ও ব্রক্ষপুত্র নদের ভাঙন। তিন উপজেলার বেলগাছা, সাপধরী চিনাডুলি, নোয়ারপাড়া, চিকাজানী, ডাংধরা, চর আমখাওয়া, মেরুরচর, বগারচর নিলক্ষিয়া ইউনিয়নে বেস কয়েকটি স্থানে, নদ-নদীর ভাঙনে কেড়ে নিয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, ফসলের মাঠ সেই সঙ্গে নিয়েছে শেষ আশ্রয়স্থল বসতবাড়ি। চরাঞ্চলের গরিব মানুষ সব কিছু হারিয়ে অসহায়ের মতো দিন যাপন করছে।

জামালপুরে গেল বন্যায় সর্বকালে সকল রের্কড ভেঙে সর্বোচ্চ বন্যায় যে ক্ষতি হয়েছে, তাতে এই অঞ্চলের মানুষগুলো ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই শুরু হয়েছে ভাঙন তাণ্ডব। মাদারগঞ্জ, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় তিন হাজারের অধিক পরিবার চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদ-নদীগুলো হঠাৎ পানি বৃদ্ধি এবং তীব্র স্রোতে একের পর এক নদীগর্ভে বিলীন করে দিচ্ছে মানুষের বসতভিটা, বাজার, দোকান পাট, ফসলের মাঠ, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অসংখ্য স্থাপনা। ফলে প্রতিদিনই নতুন করে অসহায় মানুষের তালিকা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ দিকে, যমুনার শাখা নদী আলাই খালে তীব্র ভাঙনের কবলে পচাবহলা জয়তুন নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের তিনতলা বিশিষ্ট ভবন।

এছাড়া ভোলা মিয়ার ঐতিহ্যবাহী বাজারে হুমকির মুখে পড়েছে প্রায় ২শ ব্যবসায়ী। ইতোমধ্যে ১০টি দোকান নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন কবলিত মানুষগুলো এ থেকে মুক্তি চায় । দ্রুত সমাধানের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা জানান, নদী ভাঙনের শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ১৭৩টি পরিবারের তালিকা তৈরি করে জেলা অফিসের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। তবে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কারণে তালিকা প্রণয়নে একটু সমস্যা হচ্ছে।

জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা মো. নাযেব আলী জানান, উপজেলার থেকে নদী ভাঙন কবলিত পরিবারে তালিকা এসেছে। সেই তালিকা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। জেলা প্রশাসকের বরাদ্দ দিয়ে নদী ভাঙন কবলিত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নগদ ৫১ লাখ টাকা ও ১ হাজার ৭০০ বান্ডিল ঢেউটিন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক জানান, ব্রহ্মপুত্র নদ খনন করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প কাজ শুরু হবে খুব দ্রুত। আর যমুনা নদী খনন ও
স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প সরকারের কাছে আহ্বান করা হচ্ছে। তবে আপাতত ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

ওডি/টিএএফ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড