• রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বাবা-মায়ের বিয়ের মিষ্টি খেল দুই শিশু সন্তান

  রাকিব হোসেন আপ্র, লক্ষ্মীপুর

২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৩:১২
দম্পতি
দম্পতি ও তাদের দুই শিশু সন্তান ( ছবি : দৈনিক অধিকার )

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার উত্তর চরমার্টিন গ্রামের বাসিন্দা হাফেজ আহমদের মেয়ে রূপা আক্তার। ২০১১ সালে পারিবারিকভাবে একই গ্রামের হোসেন আহমদের ছেলে আবদুল জাহেরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি পারিবারিক কলহের জের ধরে আবদুল জাহের তার স্ত্রী রূপাকে তালাক দেয়। যে কারণে তাদের সাজানো সংসারটি ভেঙে যায়।

সম্প্রতি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে গ্রামীণ এ দম্পতির ভাঙা সংসার ‘জোড়া’ লেগেছে। জাহের তার ভুল বুঝতে পেরে নতুন কাবিননামা যোগে রূপাকে পুনরায় বিয়ে করেছে। যেহেতু এর আগেই তালাকনামা কার্যকর হয়েছিল। এই সুযোগে বাবা-মায়ের বিয়ের মিষ্টি খেয়ে বিরল অভিজ্ঞতা অর্জন করলো তাদের দুই শিশু সন্তান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবদুল জাহের একজন বেকারি শ্রমিক। স্বল্প আয়ে ভালোভাবেই চলছিল তাদের সংসার কিন্তু হঠাৎ করে ছোটখাটো বিভিন্ন সমস্যাকে কেন্দ্র করে রূপার সঙ্গে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ভুল বোঝাবুঝি দেখা দেয়। এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি জাহের তার স্ত্রী রূপাকে তালাক দেয়। কিন্তু রূপা তার সাজানো সংসারটি ভাঙতে নারাজ। আদালতে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করে অধিকার আদায় করবে? তাহলে তো অনেক টাকার দরকার! কিন্তু তার দরিদ্র বাবার পক্ষে এত টাকা যোগান দেওয়া সম্ভব নয়। অন্য দিকে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা অবস্থা তার। এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে রূপা তার বাবার বাড়িতে প্রায় ৪ মাস কাটিয়ে দিল। 

এরপর রূপা গত ১৬ মে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে গিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করে। তবে সেটি মামলা নয়। কারণ রূপা ইতোমধ্যে জেনেছে, মামলা ছাড়াই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ন্যায্য অধিকার আদায়ের আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে।

জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সিনিয়র সহকারী জজ ফাহদ বিন আমিন চৌধুরী বলেন, লিগ্যাল নোটিশ পেয়ে আবদুল জাহের অফিসে এসে জানায় তিনি সংসার করবেন না। আবার দেনমোহরের সব টাকা পরিশোধও করতে পারবেন না। যতটুকু পারেন কিস্তিতে পরিশোধ করবেন। তাকে মামলার কুফল ও সামাজিক মানহানি সম্পর্কে বোঝানো হয়। তবুও তিনি তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। এজন্য দেনমোহরের কিছু টাকাও জমা দিয়ে যান।

এ নিয়ে রূপা কিছুটা হতাশায় ভুগছিল। তবে সেই হতাশার রেশ কাটতে বেশি দিন লাগেনি। মাত্র ৩টি আপোষ বৈঠকের পর রূপা ও জাহেরের ভাঙা সংসার ‘জোড়া’ লেগে যায়। জাহের তার ভুল বুঝতে পেরে তালাক প্রত্যাহার করে নেন এবং রূপাকে পুনরায় বিয়ে করার সম্মতি জানান। পরে জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা তার অফিসে কাজী ডেকে বিয়ের আয়োজন করেন। এ সময় নববিবাহিত দম্পতি, তাদের দুই শিশু সন্তান, বিয়ের সাক্ষী, কাজী, ইউএসএআইডি ও এইড কুমিল্লার প্রতিনিধিসহ উপস্থিত সকলকে মিষ্টি খাওয়ানো হয়। 

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আবদুল জাহের ও রূপা আক্তারের আপোষ চুক্তিপত্র সম্পাদন করা হয়।

আবদুল জাহের বলেন, ‘মাথা গরম হওয়াতে অনেক বড় ভুল হয়ে গিয়েছিল। আমার সাজানো গোছানো সংসারটাই হারাতে বসেছিলাম। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের সহযোগিতায় আমি আমার সংসার ফিরে পেয়েছি। ফিরে পেয়েছি, আমার স্ত্রী ও সন্তানদের।’

জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ফাহদ বিন আমিন চৌধুরী বলেন, রাগ, জেদ থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত নেতিবাচক পরিণতি হয়। প্রকৃত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও ভালো-খারাপের ভারসাম্য যাচাই করলে যেকোনো বিরোধ থেকেই ইতিবাচক পরিণতির দিকে অগ্রসর হওয়া যায়। বিরোধ হলে শুধু মামলা নয়, লিগ্যাল এইড অফিসে আপোষও হয়।

ওডি/এসএএফ 

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড