• বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দিনে আটক রিকশা, রাতের আঁধারে বিক্রি

  মো. আরিফুর রহমান, সাভার

০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৫:৩৪
সাভার
সাভার হাইওয়ে থানা (ছবি : সংগৃহীত)

মহাসড়কে দুর্ঘটনার মূল কারণ ধীর গতির যানবাহন। তাই এই বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় সাভার হাইওয়ে থানা পুলিশ। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে কোনো যন্ত্র চালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক বা ভ্যান উঠলেই, তা আটক করা হচ্ছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এমন থানায়, গত শনিবার রাতে ঘটেছে বিচিত্র একটি ঘটনা। রাতের আঁধারে আটককৃত রিকশা বিক্রি করার সময়, রিকশা ও পুলিশের হোন্ডাসহ জনতার হাতে আটক হয়েছে হাইওয়ে থানার এক সোর্স।

হাইওয়ে সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস যাবত কোনো যন্ত্র চালিত অটোরিকশা ও ভ্যান ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে উঠলেই, তা আটক করছে সাভার হাইওয়ে থানা পুলিশ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে, প্রতিদিন আটক করা হয় প্রায় ১০ থেকে ১৫টি অটোরিকশা।

এমন অপরাধ করলে কোনো রিকশা চালককেই ছাড় দেন না, থানার নতুন ওসি মো. গোলাম মোর্শেদ তালুকদার। এক্ষেত্রে তিনি এতটাই কঠোর যে, শত চেষ্টা বা তদবির করলেও তিনি একটি রিকশাও থানা থেকে ছাড়েন না। সারা দিন রোদের মধ্যে থানা গেটে বসে থেকে রাতে খালি হাতে বাসায় ফিরে যান ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী অটোরিকশা চালক হাসান জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি রিকশা চালান। গত ছয় মাস আগে আশুলিয়ার হাসেম প্লাজার সমনে থেকে তার একটি রিকশাটি আটক করে হাইওয়ে থানা পুলিশ। সে সময় তিনি ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে অটো রিকশাটি ছাড়িয়ে নিয়ে যান। গত শুক্রবার আবার একই জায়গা থেকে তার রিকশাটি আটক করা হয়। পূর্বের গাড়ি ছাড়ানোর অভিজ্ঞতার সূত্র ধরে হাসান গত দুই দিন হাইওয়ে থানায় চেষ্টা করেও, তার রিকশাটি ছাড়াতে পারছিলেন না।

পরে শনিবার গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পথে তিনি দেখেন, হাইওয়ে থানা থেকে একটি রিকশা ও একটি ভ্যান নিয়ে যাচ্ছেন, থানার কয়েকজন লোক। এ সময় তাদের সাথে পুলিশের স্টিকার লাগানো একটি হোন্ডাও ছিল। তার সন্দেহ হলে তিনি, তাদের পেছন পেছন জাহাঙ্গীরনগর প্রান্তিক গেটের সামনে গিয়ে, তাদের পথ আটকে দাঁড়ান। এ সময় একজন পালিয়ে গেলেও বাকি তিনজনকে আটকাতে সক্ষম হয় উপস্থিত জনতা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘটনাটি আশুলিয়া থানা পুলিশকে জানালে, আশুলিয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মামুন হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি রিকশা, একটি ভ্যান ও একটি হোন্ডা উদ্ধার করেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আশুলিয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মামুন হোসেন জানান, শরিফুল ইসলাম, শাহেব আলী ও মোকলেছসহ উদ্ধার করা যানবাহন সাভার হাইওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মমিনুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও জানা যায়, শরিফুল ইসলামের কাছে পুলিশের স্টিকার লাগানো একটি সাদা রঙয়ের ইয়ামাহা এফজেড হোন্ডা (ঢাকা মেট্রো-ল, ২৫-৭৫৮৩) পাওয়া যায়। আর শাহেব আলী ও মোকলেছ উপস্থিত জনতার কাছে জেরার মুখে স্বীকার করেছেন, তারা থানার (সোর্স) শরিফুল ইসলামের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে রিকশা ও ভ্যানটি কিনেছেন।

হাইওয়ে থানায় খোঁজ করলে জানা যায়, উদ্ধার করা ইয়ামাহা এফজেড হোন্ডাটির মালিক হাইওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মমিনুল ইসলাম।

ধৃত শরিফুল ইসলাম (সোর্স) গভীর রাতে তার নিবন্ধনকৃত হোন্ডটি ব্যবহার করার কারণ জানতে চাইলে উপপরিদর্শক (এএসআই) মমিনুল ইসলাম বলেন, শরিফুল তার মামাতো ভাই।

অনুসন্ধান করে আরও জানা যায়, উপপরিদর্শক (এএসআই) মমিনুল ইসলাম সাভার হাইওয়ে থানায় বদলি হয়ে আসার পর থেকে তার মামাতো ভাই শরিফুল ইসলাম বিভিন্নভাবে তার কাজে সহযোগিতা করে আসছেন।

অন্যদিকে, এই শরিফুলের মাধ্যমেই প্রায় প্রতি রাতে সাভার হাইওয়ে থানা থেকে রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক বিক্রয় করা হয়।

অভিযানে আটক করা যানবাহন রাতের আঁধারে থানা থেকে বিক্রি করার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোর্শেদ তালুকদার সাংবাদিকদের এই বিষয়ে কথা বলার জন্য থানায় দেখা করতে বলেন।

এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর (রিজিয়ন)-এর পুলিশ সুপার আলী আহম্মেদ খাঁনা বলেন, থানা থেকে যানবাহন বিক্রি করার সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পেলে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ওডি/এমবি

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড