• মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

১৪ বছর ধরে শিকলে বন্দি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র বজলুর রহমান

  মো. মজনু মিয়া, ভালুকা, ময়মনসিংহ

০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৪২
শিকলে বন্দি
শিকলে বন্দি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র বজলুর রহমান (ছবি: দৈনিক অধিকার)

ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র বজলুর রহমান (৪৯) গত ১৪ বছর ধরে শিকলে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের টুংরাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে। 

বজলুর রহমান ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে ১৯৯৬ সালে বিএসসি এজি অনার্স পাস করেন। সে সময় কারও সঙ্গে দেখা হলে অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলতেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের কী পরিহাস, সে দিনের সেই মেধাবী ছাত্রের এখন কাটাতে হচ্ছে শিকলবন্দি জীবন।

সরেজমিনে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি দরজা খোলা ঘরের ভেতরে পাতলা একটি কাপড় গায়ে জড়িয়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় বসে আছেন বজলুর রহমান। মেঝের মাঝখানে পোঁতা একটি বাঁকা লোহার সঙ্গে কয়েকটি তালা দিয়ে দেড়ফুট লম্বা শিকল পায়ের সঙ্গে লাগানো। ঘরে মধ্যে মলমূত্র ত্যাগ করায় প্রতিদিন ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করেন। তাছাড়া অপুষ্টিতে ভোগার কারণে শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ। তার চেহারায় দেখা যায় বার্ধক্যের ছাপ। কোনো কিছু জানতে চাইলে প্রলাপ বকেন। স্মৃতিভ্রষ্ট হওয়ায় নিজ সন্তানদের কথাও কিছু বলতে পারেন না তিনি।

বজলুর রহমানের বৃদ্ধা মা জানান, প্রায় ২০/২২ বছর আগে তার ছেলে মানসিক ভরসাম্যহীন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করিয়ে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তাকে বিয়ে করানো হয়। বিয়ের পর শিফাত ও সুপ্তি নামে দুটি কন্যা সন্তানের বাবা হন তিনি। পুনরায় তার অবস্থা খুব খারাপের দিকে গেলে পাঁচ/ছয় বছরের মাথায় তার দুই মেয়েকে রেখে স্ত্রী চলে যায়। 

এরপর মস্তিস্ক সম্পূর্ণ বিকৃত হওয়ার কারণে নানা রকম উৎপাত শুরু করায় নিরাপত্তার জন্য ভাইয়েরা তাকে শিকলে বেঁধে ঘর বন্দি রাখেন। ঘুমান কীভাবে জানতে চাইলে তিনি জানান, হাঁটু ঘেরে মেঝেতে উভো হয়ে কখনো বা বসা অবস্থায় ঘুমান। 

পারিবারিকভাবে জানা যায়, বজলুর রহমানের চাচাদের তত্ত্বাবধানে দুই মেয়ের লেখাপড়া চলাকালীন সিফাতের বিয়ে দেওয়া হয়। বজলুর ছোট মেয়ে সুপ্তি এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

এ ব্যাপারে কথা হয়, বজলুর রহমানের বন্ধু ও তার সহপাঠী ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অধ্যাপক ওমর ফারুক মানিকের সঙ্গে। তিনি জানান, ৮৮/৮৯ ব্যাচে তারা দুজনেই ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি এজি অনার্স ভর্তি হন। বজলু ‘এ’ সেকশনে সোহরাওয়ার্দী হলে আর তিনি ‘বি’ সেকশনে আশরাফুল হক হলে ছিলেন। বজলু লেখাপড়ায় বরাবরই এগিয়ে থাকত। দেখা হলে অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলত। সেশন জটের কারণে ১৯৯৬ সালে তারা অনার্স ফাইনাল সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়।

ভালুকা উপজেলা ধীতপুর ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আশরাফুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বজলুর রহমান অত্যন্ত ভালো একজন মানুষ। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। 

এ অবস্থায় এ লাকাবাসী বজলুর রহমানের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করে একজন কৃষিবিদকে অকাল মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করার সরকারের কাছে আকুল আবেদন ও দাবি জানান।

ওডি/ এফইউ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড