• রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

ডেঙ্গু পরীক্ষায় ক্লান্ত শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ

  শরীয়তপুর প্রতিনিধি

২৪ আগস্ট ২০১৯, ০২:৩৭
শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল
তালাবদ্ধ সদর হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ ও পাশেই বসে আছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে করতে ক্লান্ত শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ। ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বন্ধ করে রেখেছেন প্যাথলজি বিভাগ। এদিকে ডেঙ্গু আতঙ্কে জ্বর নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের পরীক্ষার জন্য বাধ্য হয়ে রোগীরা যাচ্ছেন প্রাইভেট ক্লিনিক ও প্যাথলজিতে। 

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) বিকাল ৩টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগে একজন মাত্র ডাক্তার সেবা দিচ্ছেন পুরো হাসপাতালের রোগীদেরকে। হাসপাতালে আসা অনেক রোগী জ্বর বমি নিয়ে ডেঙ্গু রোগ পরীক্ষা করতে আসেন। প্যাথলজি তালাবন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালের আশপাশে থাকা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করান। 

এদিকে সদর হাসপাতালে দেখা গেছে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। গত ২৪ ঘণ্টায় আটজনসহ মোট ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে। এদের জন্য রয়েছেন মাত্র একজন ডাক্তার।

জরুরি বিভাগে কর্মরত ডাক্তার অমিত দেব ভট্ট বলেন, শুক্রবার তাই ডাক্তার নেই। আমি একাই আছি। ২৪ তারিখ সকাল পর্যন্ত থাকতে হবে। 

ডেঙ্গু জ্বর আতঙ্কে ধানুকা গ্রামের শারমিন বেগম এসেছেন সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে। সঙ্গে রয়েছে তার ১২ বছরের ছেলে তামজিদ। তিনি দৈনিক অধিকারকে বলেন, আমি বাসা থেকে দুপুর আড়াইটার সময় আসি। ডাক্তার আমাকে ও আমার ছেলের ব্যাপারে সব কিছু শুনে, আমাদের ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য টেস্ট করতে দেন। ডাক্তার বলেন বিনা পয়সায় ডেঙ্গু পরীক্ষা আমাদের হাসপাতালেই হয়। আমাদের হাসপাতালের প্যাথলজিতে যেতে বলেন। এসে দেখি তালা মারা। 

সেবা নিতে আসা জাকির বলেন, আমি প্যাথলজি বন্ধ দেখে হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের কাছে যায়। তত্ত্বাবধায়ক আমাকে জানান প্যাথলজির দায়িত্বে আসলাম আছেন, তিনি দুপুরের খাবার খেতে গেছে আসরের নামাজ পড়ে আসবে তখন আসেন। এখন মাগরিবের সময় হয়ে যাচ্ছে এখনো প্যাথলজি কক্ষে তালা মারা কেউ নেই। কিছুক্ষণ পর এসে রক্ত নিয়ে বলেন বিদ্যুৎ নেই সন্ধ্যার পর আসেন। 

এরপর সন্ধ্যার পর আসলে বলেন, এখন বিদ্যুৎ নেই, পরে আসেন। রক্ত নিয়েও একটা বিপদে পড়েছি। শুক্রবার বন্ধের দিন কেন এসেছেন। রাত ৮টার সময়ও দেখি প্যাথলজিতে তালা। রোগীর অবস্থা খুব খারাপ। 

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন খলিলুর রহমানকে জানালে তিনি বলেন, শুক্রবারে কোনো বন্ধ নেই। আপনি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে বলেন।

তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবদুল্লাহ বলেন, রোগীর অনেক চাপ। প্যাথলজিতে লোকবলের অভাব।  ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। আমি ফোন দিয়েছি তিনি বলেছে আসরের নামাজ পড়ে আসবে। ডাক্তারের বিষয় বললে তিনি বলেন, আটজন থাকার কথা। আছে একজন। আমিসহ দুইজন।  

ওডি/এএসএল

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড