• রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন

পর্যটক বরণে প্রস্তুত রাঙ্গামাটির হোটেল-মোটেলগুলো

  এম.কামাল উদ্দিন, রাঙ্গামাটি

১৩ আগস্ট ২০১৯, ১২:৩৪
রাঙামাটি হোটেল-মোটেল
ঈদের পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রাঙ্গামাটির সবকটি হোটেল-মোটেল ( ছবি : দৈনিক অধিকার)

ঈদুল আজহা ঘিরে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রাঙ্গামাটির সবকটি হোটেল-মোটেল। প্রতিবছর পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে পর্যটকদের পদভারে রাঙামাটির পর্যটক স্পটগুলো মুখরিত থাকলেও এবার তুলনামূলক পর্যটক কম এসেছে। ঈদের টানা বন্ধে কিছু সংখ্যক পর্যটক ঢাকা এবং অন্য জেলা থেকে আসলেও এবার বেশির ভাগ পর্যটক এসেছেন আশ-পাশের জেলা ও উপজেলা থেকে। 

ঈদে টানা ছুটির সুযোগে ইট পাথরের শহর ও যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে আর একটু অবকাশের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণ পিপাসুরা পাহাড় ও হ্রদ ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসছেন রাঙামাটিতে। পর্যটকরা আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে পর্যটন স্পটগুলো ঘোরাঘুরি করছেন। তবে পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের ভিড় দেখা গেলেও অন্যান্য বছরের তুলনামূলকভাবে কম এসেছে। বেড়াতে পর্যটকদের অভিযোগ রাঙ্গামাটিতে ঝুলন্ত সেতু ছাড়াও আরও অনেক আকর্ষণীয়, দর্শনীয় ও আধুনিক মানের স্পট গড়ে তোলা দরকার।
  
তবে পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসকের ডাক বাংলো তথা বাস ভবন সংলগ্ন যেতে হাতের ডান পাশে চমৎকার দর্শনীয় পর্যটন স্পট ও বেশ কিছু আধুনিক কটেজ গড়ে তুলেছেন পুলিশ পলওয়েল পার্কে। পুলিশ পলওয়েল পার্কে কর্মরত অফিসার মো.মিজান জানান, পলওয়েল পার্কে যেকটি কটেজ আছে সবগুলো কটেজ বুকিং হয়েছে।

স্থানীয় ও বাইরে থেকে আসা পর্যটকেরা বলেন, রাঙ্গামাটিতে বর্তমানে পুলিশ পলওয়েল পার্কটি একমাত্র বিনোদনের ভালো ও নিরাপদ জায়গা। এ পার্কে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ইভেন্ট যেখানে শিশু তরুণ তরুণী ও বৃদ্ধ বয়সের লোকজন উপভোগ করতে পারে। তবে পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে মন কেড়েছে রাঙ্গামাটি পুলিশের পর্যটন স্পট পলওয়ে পার্ক, দৃষ্টি নন্দন করে এটি সাজানোর কারণে প্রতিদিন বিকালে এখানে ঘুরতে যায় পর্যটকরা। এখানে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম লাভ পয়েন্ট।
  
বিনোদনের খোঁজে পাহাড়ে আসা পর্যটকদের আনন্দ সাময়িক সময়ের জন্য হলেও ভুলিয়ে দিচ্ছে জীবনের নানা জটিলতা। সরকারি বন্ধে শহরের পর্যটন স্পট রাঙ্গামাটি জেলার নয়নাভিরাম বিশাল কাপ্তাই হ্রদ, সুবলং প্রাকৃতিক ঝর্ণা, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফের স্মৃতি সৌধ, পর্যটন মোটেল, ঝুলন্ত ব্রিজ, কাপ্তাই বাঁধ, কাপ্তাই হাইড্রো ইলেকট্রিক প্রজেক্ট, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র, রাজবাড়ি, রাজবন বিহার, উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, উপজাতীয় জাদুঘর, জেলা প্রশাসকের বাংলো, ঐতিহ্যবাহী জুম্ম ক্ষেতসহ অসংখ্য আদিবাসী গ্রাম এবং আদিবাসীদের বৈচিত্রপূর্ণ বর্ণাঢ্য জীবনধারা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন শত শত পর্যটক।

শহরের প্রাইভেট হোটেলগুলো এবং সরকারি পর্যটন কমপ্লেক্সের  রুমের বুকিং ভালো বলে জানিয়েছেন পর্যটন কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে পর্যটকরা রাঙ্গামাটি বেড়াতে এসে তাদের ভালো লাগা এবং সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

ঢাকা থেকে বেড়াতে কবির হোসেন জানান, ঈদের বন্ধে ঘুরতে আসলাম রাঙ্গামাটি খুব সুন্দর ভালো লাগছে, তবে শিশুদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা না থাকায় বাচ্ছারা খেলাধুলা করতে পারছে না, পর্যটন এলাকায় ভালো হোটেল নেই, আর পর্যটনের হোটেল দাম চড়া। সহনীয় পর্যায়ে রাখা প্রয়োজন।

 


সাজেক ভ্যালি (ছবি: দৈনিক অধিকার)

রাজশাহী থেকে বেড়াতে কামরুল হাসান জানান, আমি এর আগেও এসেছি, কোনো পরিবর্তন হয়নি। পর্যটকদের জন্য নতুন নতুন স্পট তৈরি করা প্রয়োজন। ভালো মানের হোটেল নেই, খাবারের দাম বেশি কিন্তু খাবার মানসম্মত নয়। শিশুদের খেলার জন্য খোলামেলা পার্ক দরকার। 

চট্টগ্রাম থেকে বেড়াতে আসা শেফালী আক্তার জানান, প্রায় ১০ বছর পর রাঙ্গামাটি আসলাম, কিন্তু লেকের পানি কমে যাওয়ায় আমরা নিজেদের মতো করে ঘুরতে পারছি না, মনটা খারাপ হয়ে গেছে। কাপ্তাই লেক সংস্কার করা দরকার। 

রাঙ্গামাটি শহরের রির্জাভবাজার এলাকার হোটেল মতি মহলের মালিক শফিউল আজম জানান, তাদের বুকিং মোটামুটি ভালো, সামনে হয়তো পর্যটক বাড়বে, আমরা পর্যটকদর সেবা দিতে প্রস্তুত।

পর্যটক উদ্যোক্তা ও গরবা রেস্টুরেন্টের নির্বাহী পরিচালক মো.বাদশা ফয়সাল বলেন, রাঙ্গামাটিতে পর্যটক নিয়ে কাজ করলে অনেক কাজ আছে। তবে এজন্য দরকার একটি শক্তিশালী টুরিজম বোর্ড। এর সঙ্গে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টুরিজম ব্যবসায়ীদের এসইমি লোনের আওতায় আনতে হবে। তাহলে এখানে পর্যটন খাতে সরকার প্রচুর রাজস্ব উপার্জন করা সম্ভব বলে মনে করেন। বিনিয়োগ করলে আয় অবশ্যই আসবে।

পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানান, পর্যটক দিন দিন বাড়ছে, আমরা আমাদের টার্গেটের কাছাকাছি পৌঁছেছি। এখন পর্যন্ত ফিফটি পার্সেন্ট বুকিং আছে। ঝড় বৃষ্টি না হলে হয়তো বা পর্যটক বাড়তে পারে।
 
সারা বছর রাঙ্গামাটির পর্যটনকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় করতে পর্যটন স্পটগুলোর সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তাসহ জাঁকজমক করা গেলে একদিকে প্রচুর পর্যটকদের আগমন ঘটবে। তেমনি করে অর্থনীতিতে রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্প বিরাট ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে পর্যটন সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

ওডি/ এফইউ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড