• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পেয়ারা বাগান ঘিরে আদর্শ বিনোদন কেন্দ্র

  হাসান আরেফিন, ঝালকাঠি

১৬ জুলাই ২০১৯, ১১:৫৩
পেয়ারা বাগান
তিন সীমান্তবর্তী উপজেলার ৫৫ গ্রামটি নিয়ে গড়ে উঠেছে পেয়ারা বাগান ( ছবি : দৈনিক অধিকার)

ঝালকাঠি-স্বরুপকাঠি ও বানারিপাড়া (ঝালকাঠি-বরিশাল ও পিরোজপুর জেলা) তিন জেলার তিন সীমান্তবর্তী উপজেলার ৫৫ গ্রামটি নিয়ে গড়ে উঠেছে পেয়ারা বাগান। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই পেয়ারার কারণে পাল্টে যায় ওই অঞ্চলের চিত্র। পেয়ারা বেচা-কেনার জন্য এখানে রয়েছে ভাসমান বাজার। 

প্রতিদিন শত শত নৌকায় চাষিরা আসেন পেয়ারা বিক্রি করতে। ট্রাক ও বড় বড় ট্রলার নিয়ে আসেন পাইকাররা পেয়ারা কিনতে। প্রাকৃতিক অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন ভ্রমণ পিপাসুরা। শুধু দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই নয়, বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশিরাও আসেন পেয়ারা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। 

বিশেষ করে এ মৌসুমে বিভিন্ন এলাকা থেকে উঠতি কিশোর-যুবকদের ভিড় থাকে সবচেয়ে বেশি। সরকারি পৃষ্ঠ-পোষকতায় নির্ধারিত কোনো পর্যটনকেন্দ্র না থাকায় কিশোর-যুবকরা পেয়ারা বাগানে নির্বিঘ্নে প্রবেশ করে পেয়ারা নষ্ট ও ডালপালা ভেঙে তছনছ করে ব্যাপক পরিমাণে ক্ষতি সাধন করে থাকে। এতে দিন দিন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন পেয়ারা চাষিরা। 

বিভিন্ন এলাকা থেকে উঠতি কিশোর-যুবকদের ভিড় জমায় পেয়ারা বাগানে ( ছবি : দৈনিক অধিকার)

পেয়ারা চাষিদের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা, রুচি সম্মত পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করে পর্যটকদের ভ্রমণের আনন্দ দিতে স্থানীয় শিক্ষিত বেকার যুবকদের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে একাধিক পার্ক। ভীমরুলী জলেভাসা পেয়ারা হাটের মাত্র ৫০ গজ পূর্বে তিন বিঘা জমির ওপর তৈরি করা হচ্ছে লেক ভিউ ইকোপার্ক।

স্থানীয় শিক্ষিত বেকার যুবক অনুপ হালদার (২৫) এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি জানান, পৈত্রিক সম্পত্তির তিন বিঘা জমি নিয়ে লেক ভিউ ইকো রিসোর্টের কার্যক্রম শুরু করি। পুরোটাতে পেয়ারা বাগান রয়েছে। এখানে ৬০/৭০ জন মানুষ নির্বিঘ্নে ঘুরে ভ্রমণ আনন্দ নিতে পারবেন।

কির্ত্তীপাশা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুশ শুক্কুর মোল্লা জানান, দক্ষিণাঞ্চলের পেয়ারাবাগান ও ভাসমান পেয়ারাহাট হিসেবে ভীমরুলী বিখ্যাত। এখানে স্থানীয় কয়েকজন বেকার ও শিক্ষিত যুবকদের উদ্যোগে কয়েকটি পার্ক গড়ে উঠেছে। যা বিনোদন প্রেমীদের জন্য নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। 

ভীমরুলীতে ভাসমান এ পেয়ারা হাট পরিদর্শন করেন ২০১৮ সালে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রীংলা। গত ১১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) পরিদর্শন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। সঙ্গে তার সফর সঙ্গিরাও ছিলেন। সবাই মিলে ঘুরে ঘুরে দেখলেন পুরো ভাসমান বাজার। এ সময় ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী, পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিনসহ জেলার বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন। 

 ভাসমান পেয়ার হাট ( ছবি : দৈনিক অধিকার)

পরিদর্শনকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার মন্তব্য করেন, থাইল্যান্ড-ভিয়েতনামের বিভিন্ন বড় বড় শহরে এমন জলেভাসা বাজারের দেখা মেলে। কিন্তু বাংলাদেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে জলেভাসা বাজার-হাট গড়ে ওঠা সত্যিই অবাক করার মতো! তাও আবার জমজমাট হাট।

 অর্ধবাংলায় তিনি বলেন, এটি দেখতে সত্যিই চমৎকার! অদ্ভুত সুন্দর ভাসমান এ হাট ও তার আশপাশের প্রকৃতি যে কতটা নজরকাড়া হতে পারে, এটি এখানে না এলে বোঝার উপায় নেই!

জানা গেছে, বাংলার আপেল খ্যাত পেয়ারা উৎপাদন কেন্দ্র ঝালকাঠি-স্বরুপকাঠি ও বানারিপাড়া (ঝালকাঠি-বরিশাল ও পিরোজপুর জেলা) এই তিন উপজেলার সীমান্তে ৫৫ গ্রাম জুড়ে বিস্তৃত বাগানে প্রতি বছরই কোটি কোটি টাকার পেয়ারা উৎপাদিত হয়। ভরা মৌসুমে জমে উঠেছে ভীমরুলী খালে বসে ভাসমান পেয়ারার হাট। 

আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র এ তিন মাস পেয়ারার মৌসুম। এসময় পাকা পেয়ারার মৌ মৌ গন্ধ নিতে এবং সবুজের সমারোহ দেখতে আসে দেশ ও বিদেশের অনেক মানুষ। স্থানটির নাম ঝালকাঠি সদর উপজেলার কির্ত্তিপাশা ইউনিয়নের ভীমরুলী গ্রাম, বাংলাদেশের দক্ষিণের একটি উপক‚লীয় জেলা ঝালকাঠি। সদর উপজেলার উত্তরদিকে অবস্থিত ভীমরুলী গ্রাম। পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি, বরিশালের বানারীপাড়া এবং ঝালকাঠি সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি গ্রাম। 

দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রেতারা পাইকারি দরে পেয়ারা কেনেন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

সেখানে গিয়ে মনে হতে পারে, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার বাইচ চলছে। কিন্তু তা নয়, এটি কোনো প্রতিযোগিতা নয়। জলেভাসা পেয়ারার বাজার চারদিকে। ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় পণ্য নিয়ে শুরু হয় বেঁচা-কেনা। পানির ওপর জলজ্যান্ত একটি হাট। ঝালকাঠি সদর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত এ জলবাজারে প্রধান পণ্য পেয়ারা। সারি সারি নৌকার ওপর সবুজ-হলুদ পেয়ারা। এর ভারেই নৌকাও ডুবেছে অর্ধেক খানিক। হাটুরেদের হাঁক-ডাকে গম গম পুরো এলাকা। এক কথায় খালের ওপর এ এক আজব-অবাক করা বাজার! 

ভীমরুলী জলে ভাসা হাটে পেয়ারা বোঝাই ডিঙি নৌকাগুলো একবার এ পাশ, একবার ওপাশ, চাষিদের ভালো দামের আশায় এমন নড়াচড়া। খালের দুপাশে ব্যবসায়ীদের আড়ৎ। তারাই কিনবেন এসব পেয়ারা। বাংলাদেশের সিংহভাগ পেয়ারা উৎপাদনকারী অঞ্চলের চাষিরা ডিঙিতে বসে বিকিকিনিতে মগ্ন। প্রতিবছর শত শত দেশি-বিদেশি পর্যটক এ স্থানে ভিড় জমান পুরো পেয়ারা মৌসুম জুড়েই। বাংলাদেশিদের জন্য যা হতে পারে অপূর্ব এক পর্যটনকেন্দ্র।


ওডি/ এফইউ
 

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড