• মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

বিলুপ্তির পথে বাসা তৈরির সুনিপুণ কারিগর বাবুই পাখি

  আব্দুর রউফ রুবেল, গাজীপুর

০৮ জুলাই ২০১৯, ১৫:৪৬
বাবুই পাখির বাসা
বাবুই পাখির বাসা ( ছবি : দৈনিক অধিকার)

‘বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই।’ বাসা তৈরিতে যে এমন সুনিপুণ কারিগর সে তো  শিল্পের বড়াই করতেই পারে। কিন্তু কবি রজনীকান্ত সেনের কালজয়ী কবিতাটির নায়ক আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নিপুণ বাসা তৈরির কারিগর বাবুই পাখি আজ বিলুপ্তির পথে। 

এক সময়ে বিভিন্ন গ্রামের আনাচে-কানাচে তালগাছের পাতায় পাতায় দেখা যেত বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান গ্রাম বাংলার সেই চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী নিপুণ বাসা তৈরির কারিগর বাবুই পাখি ও তার বাসা। এখন দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলায় গ্রামাঞ্চলে আগের মতো বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা আজ আর তেমন চোখে পড়ে না।

সাধারণত বাবুই পাখি খড়, ঝাউ, তালপাতা ও কাশবনের লতাপাতা দিয়েই উচু তাল গাছ এবং খেজুর গাছে বাসা বাঁধে। বাবুই পাখি বাসা বানানোর জন্য খুবই পরিশ্রম করে থাকে। বাবুই প্রথমে ঠোঁট দিয়ে ঘাসের আস্তরণ সারায় এবং যত্ন করে পেট দিয়ে ঘষে অর্থাৎ পালিশ করে মসৃণ করে বাসা তৈরি করে। সাধারণত উঁচু তালগাছে খড়-কুটো দিয়ে তৈরি বাসা দেখতে খুব সুন্দর, আকর্ষণীয় ও মজবুত যা প্রবল ঝড়েও ছিঁড়ে পড়ে না।

বাবুই পাখির শক্ত বুননের সঙ্গে শিল্পের অনন্য সমন্বয় সৃষ্টি করে। যা একজন মানুষও সহজে টেনে ছিঁড়তে পারবে না। বাসা তৈরির শুরুতে বাবুই পাখির বাসায় দুটি নিম্নমুখী গর্ত থাকলেও সম্পূর্ণ বাসা তৈরির পর বাবুই একদিকের গর্ত বন্ধ করে তাতে ডিম রাখার স্থান তৈরি করে। আর অপরদিকটি লম্বা করে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ তৈরি করে। 

বাসা তৈরির কাজের এক পর্যায়ে পুরুষ বাবুই পাশবর্তী বাবুইয়ের বাসায় গমন করে সঙ্গীর খোঁজে। সঙ্গী পছন্দ হলে পুরুষ বাবুই পাখি স্ত্রী বাবুই পাখিকে সঙ্গী বানানোর জন্য ভাব-ভালোবাসা নিবেদন করে। সেই সঙ্গে বাসা তৈরির কাজ অর্ধেক হতেই স্ত্রী বাবুইকে কাঙ্খিত বাসা দেখায়। কারণ বাসা পছন্দ হলেই কেবল স্ত্রী বাবুই সম্পর্ক গড়ে তোলে। স্ত্রী বাবুই পাখি বাসা পছন্দ হলে বাকি কাজ শেষ করতে পুরুষ বাবুই পাখির সময় লাগে মাত্র চার থেকে পাঁচ দিন। 

স্ত্রী পাখির প্রেরণায় পুরুষ বাবুই পাখি মনের আনন্দে বিরামহীনভাবে বাসা তৈরির কাজ শেষ করে। একটি পুরুষ বাবুই পাখি একটি মৌসুমে প্রায় পাঁচ থেকে ছয়টি বাসা তৈরি করতে পারে।  তবে প্রেমিক বাবুই পাখি যতই ভাব ভালোবাসা প্রকাশ করুক না কেন প্রেমিকা বাবুই পাখি ডিম দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রেমিক বাবুই আবার সঙ্গী খোঁজার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। 

শ্রীপুরের কাওরাইদ কে এন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অভিজিৎ রায় বলেন, আমি তৃতীয় শ্রেণীতে থাকা কালীন রজনীকান্ত সেনের কবিতাটি পড়ে ছিলাম। ছোট বলে তখন আমি কবিতাটির অর্থ বুঝতে পারিনি। এখন বুঝি এ কবিতার মধ্যে বাবুই পাখির শৈল্পিককর্মের কথা কতটা নিপুন ভাবে মিশে আছে। কিন্তু বর্তমানে হারিয়ে যাচ্ছে নিখুঁত কারিগর পাখি বাবুই পাখির বাসা।

শ্রীপুর বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সরকারি কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশে তিন প্রজাতির বাবুই রয়েছে। পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে বর্তমানে বাবুই পাখি বিলুপ্তির পথে। তাছাড়া বাবুই ফসলি জমিতে অতিরিক্ত কিটনাশক ব্যবহারের ফলে বাবুই হারিয়ে যাচ্ছে। বাবুই প্রধানত তাল-খেজুর গাছে বাসা বাঁধে। এসব গাছ বিলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে পাখির ও  বিলুপ্ত হচ্ছে ।

বর্তমানে দেশের সর্বত্রই বিলুপ্তির পথে প্রকৃতির শৈল্পিক কারিগর পাখি বাবুই ও তার বাসা। পরিবেশের বিপর্যয় আর নগরায়নের কারণে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলা পাখি আজ বিলুপ্তের পথে। তাছাড়া ক্ষেত খামারে বিভিন্ন রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারের ফলে বাবুই পাখি রহস্যজনকভাবে মারা যাচ্ছে তাছাড়া ছোট শিশুদের আগ্রহজনিত কারণে তারা বাবুই পাখির বাসা গুলো ভেঙে দিচ্ছে ঢিলা ছুড়ে। এখন সময়ের দাবি প্রকৃতিপ্রেমী পাখি বাবুইকে টিকেয়ে রাখা সকলের নৈতিক দায়িত্ব। ঐতিহ্যবাহী পাখি বানানোর এই কারিগরকে ফিরিয়ে আনতে সকলকে এক সঙ্গে চেষ্টা করতে হবে।  

ওডি/ এফইউ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
SELECT id,hl2,parent_cat_id,entry_time,tmp_photo FROM news WHERE ((spc_tags REGEXP '.*"location";s:[0-9]+:"গাজীপুর".*')) AND id<>73769 ORDER BY id DESC LIMIT 0,5

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড