• সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বিলুপ্তির পথে ‘বাবুই’ পাখির বাসা

  নজরুল ইসলাম শুভ, সোনারগাঁও প্রতিনিধি

১৮ জুন ২০১৯, ১৬:১৬
বাবুই পাখি
তালগাছের ডালে ঝুলছে বাবুই পাখির বাসা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

‘বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়াই- কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই’ রজনীকান্ত সেনের কালজয়ী ‘স্বাধীনতার সুখ’ কবিতাটি আজও মানুষের মুখে মুখে। শিল্পে খাসা সেই বাবুই পাখি ও তার বাসা এখন বিলীন হওয়ার পথে। ১০ থেকে ১২ বছর আগেও গ্রাম-গঞ্জে তাল, নারকেল ও সুপারি গাছে দেখা যেত বাবুই পাখির নিপুণ কারুকাজে তৈরি দৃষ্টিনন্দন এসব বাসা।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলাসহ আশেপাশের এলাকার বিভিন্ন গ্রামে এখন আর আগের মতো বাবুই পাখির বাসা চোখে পড়েনা। এসব বাসা শুধুমাত্র শৈল্পিক নিদর্শনই ছিল না, মানুষের মনে চিন্তার খোরাক জাগ্রত ও তাদের স্বাবলম্বী হতেও উৎসাহিত করত। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে আজ এ পাখিটি আমরা হারাতে বসেছি। ফলে বাবুই পাখি ও তার বাসাও আজ স্মৃতির অন্তরালে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলার সনমান্দী গ্রামে দেখা যায়, রাস্তার পাশে কিছু কিছু গাছসহ তাল গাছের ডালে বাবুই পাখি বাসা বেঁধেছে। শোনা যাচ্ছে বাবুই পাখির ডাক। কালের বিবর্তনে এ রকম দৃশ্য তেমন একটা চোখে পড়ে না। গাছে ঝুড়ির মতো চমৎকার বাসা বুনে বাস করায় এ পাখির পরিচিতি দেশজুড়ে। এ জন্য কেউবা একে তাতি পাখি আবার কেউবা ডাকে দর্জি পাখি। 

বাংলাদেশে তিন প্রজাতির বাবুই পাখির বাসা দেখা যায়। খড়, তাল গাছের কচি পাতা, ঝাউ ও কাশবনের লতাপাতা দিয়ে উঁচু তালগাছে চমৎকার বাসা তৈরি করে বাবুই পাখি। সেই বাসা দেখতে যেমন আকর্ষণীয় তেমনি মজবুত। প্রবল ঝড়েও তাদের বাসা ভেঙে পড়ে না। বাবুই পাখির শক্ত বুননে এ বাসা টেনেও ছেঁড়া যায় না।

বাবুই পাখির অন্যতম বৈশিষ্ট হলো রাতের বেলায় ঘর আলোকিত করতে জোনাকি পোকা ধরে নিয়ে বাসায় রাখা এবং সকাল হলেই আবার ছেড়ে দেয়া। একটি বাসা তৈরির পর পুরুষ বাবুই পাখি সঙ্গীর খোঁজে নামে। সঙ্গী পছন্দ হলে স্ত্রী বাবুই পাখিকে সাথী বানানোর প্রয়োজনে পুরুষ বাবুই নিজেকে আকর্ষণীয় করতে খাল, বিল ও ডোবায় ফুর্তিতে নেচে বেড়ায় গাছের ডালে ডালে।

প্রজনন সময় ছাড়া অন্য সময় পুরুষ ও স্ত্রী বাবুই পাখির গায়ে কালো কালো দাগসহ তাদের পিঠ হয় তামাটে বর্ণের। নিচের দিকে কোনো দাগ থাকে না। ঠোঁট পুরো মোসাকার ও লেজ হয় চৌকা। তবে প্রজনন ঋতুতে পুরুষ পাখির রং গাড় বাদামি হয়। বুকের ওপরের দিকটা হয় ফ্যাকাশে। অন্য সময় পুরুষ ও স্ত্রী বাবুই পাখির চাঁদি পিঠের পালকের মতই বাদামি হয়। বুকের কালো ডোরে তা ততটা স্পষ্ট নয়।

এ পাখি সাধারণত তাল, খেজুর, নারকেল ও আখ ক্ষেতে বাসা বাঁধে। ধান, চাল, গম ও পোকা-মাকড় প্রভৃতি তাদের প্রধান খাবার। এক সময় বিলাইছড়িসহ আশপাশ এলাকার বিভিন্ন গ্রামে দেখা যেত শত শত বাবুই পাখির বাসা। বর্তমানে যেমন তালগাছসহ বিভিন্ন গাছ নির্বিচারে নিধন করা হচ্ছে, তেমনি হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখিও। 

সোনারগাঁও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি লেখক বাবুল মোশারফ বলছেন, বাবুই পাখির এ শৈল্পিক নিদর্শনকে টিকিয়ে রাখার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার।

ওডি/আইএইচএন

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড