• রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন

ট্রেনের ৫০০ টাকার টিকিট ১২০০ টাকা!

  পীরগঞ্জ প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও

১২ জুন ২০১৯, ০২:৫৬
পীরগঞ্জ রেল স্টেশন
পীরগঞ্জ রেল স্টেশন (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ রেল স্টেশনে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সিন্ডিকেটের কাছে দ্বিগুণেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে যাত্রীদের। পীরগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত ট্রেনের প্রতিটি টিকিটের মূল্য ৫০০ টাকা হলেও সিন্ডিকেট চক্রটি কৌশলে কাউন্টার থেকে টিকিট কিনে ১ হাজার ২শ টাকায় বিক্রি করছে। তবে রেল স্টেশন মাস্টার বলছেন, সিন্ডিকেট চক্র বন্ধে তাদের কিছু করার নেই। 

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, রেল স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে সমঝোতা করেই কালোবাজারি সিন্ডিকেট চক্রটি টিকিটের এই রমরমা বাণিজ্য দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসছে। সিন্ডিকেট চক্রের কালোবাজারির ভাগবাটোয়ারার টাকার একটি অংশ রেল স্টেশন মাস্টারের পকেটে ঢুকে। তবে এই বিষয়টি অস্বীকার করেন স্টেশন মাস্টার। 

রেলস্টেশন মাস্টারের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী একতা এক্সপ্রেসে পীরগঞ্জ রেল স্টেশনের জন্য শোভন চেয়ারের আসন সংখ্যা মাত্র ২২টি বরাদ্দ আছে। এসি বা কেবিনের কোনো আসন বরাদ্দ নেই। ট্রেনটি পীরগঞ্জ ছেড়ে যায় প্রতিদিন রাত ১০টা ৫ মিনিটে। অপরদিকে, দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনে পীরগঞ্জ স্টেশনের যাত্রীদের জন্য মাত্র ৩০টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। ট্রেনটি প্রতিদিন সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে পীরগঞ্জ ছেড়ে যায়। 

যাত্রীদের অভিযোগ, লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ট্রেনের টিকিট কেনার আগেই টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। সিন্ডিকেট চক্রটির সদস্যরা সবার প্রথমে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কিনে পরে ৫০০ টাকার টিকিট বাইরে বিক্রি করছে ১ হাজার ২শ টাকায়। ট্রেনে ভ্রমণ নিরাপদ হওয়ায় যাত্রীরা বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ টাকা দিয়েই টিকিট কিনছেন।

রাণীশংকৈল উপজেলা থেকে আসা রিপন বলেন, ‘লাইনে দাঁড়িয়েও কাউন্টার থেকে টিকিট কিনতে পারিনি। পরে আরেকজনের মাধ্যমে ১২০০ টাকা দিয়ে টিকিট কিনেছি। ট্রেন যাত্রায় দুর্ঘটনার টেনশন থাকে না। তাই বাধ্য হয়েই বেশি টাকা দিয়ে টিকিট কিনেছি।’ 

গার্মেন্টস কর্মী নজরুল ইসলামের অভিযোগ চড়া দামে টিকিট কিনতে বাধ্য হয়েছি। এ সময় তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসছিলাম। ছুটি শেষ এখন আবার ফিরতে হবে কর্মস্থলে। ট্রেনের টিকিট তো কাউন্টার থেকে কিনতে পারলামই নাহ। মাইনকা চিপায় পড়ে ১ হাজার ২শ টাকা দিয়েই টিকিট নিয়েছি। সরকার ইচ্ছে করলেই এসব বন্ধ করতে পারে। আমাদের মতো মানুষদের কাছে এত দামে টিকিট কেনা কষ্ট সাধ্য হলেও কিনতে হয়েছে।’

রাণীশংকৈল উপজেলার সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিব বলেন, হরিপুর, রাণীশংকৈল ও পীরগঞ্জ এই তিন উপজেলার মানুষের যেহেতু স্টেশন পীরগঞ্জ। তাই এখানে ঠাকুরগাঁও স্টেশনের থেকেও বেশি টিকিট দরকার। কিন্তু এখানে যাত্রীর তুলনায় টিকিট খুবই কম। আসন সংখ্যা বাড়ানো উচিৎ। আর সিন্ডিকেটের জন্য বর্তমানে কাউন্টারে তো টিকিট পাওয়াই যায় না। এইসব সিন্ডিকেটও বন্ধ করা উচিত প্রশাসনের। 

পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন দুলাল সরকার বলেন, পীরগঞ্জ রেল স্টেশনের কর্মকর্তার সঙ্গে সিন্ডিকেট চক্রের যোগসাজশ আছে নিশ্চয়ই। তবে এইসবের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততা না থাকলেও সিন্ডিকেট বন্ধে রাজনৈতিক মহলের চুপ থাকার বিষয়টি রহস্যজনক। দ্রুত ট্রেনের টিকিট সিন্ডিকেট বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান তিনি। 

স্টেশন মাস্টার গোলাম রব্বানী জানান, যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় পীরগঞ্জে ট্রেনের আসন বরাদ্দ খুবই কম। কারণ পীরগঞ্জ স্টেশনে পার্শ্ববর্তী রাণীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার যাত্রীরাও আসেন। যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী, প্রতিদিন একতা এক্সপ্রেসে পীরগঞ্জ রেল স্টেশনের আসন প্রয়োজন ১০০টি। তাহলে যাত্রীদের চাহিদা পূরণ হবে। সেখানে টিকিট বরাদ্দ মাত্র ২২টি। যাত্রীদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

সিন্ডিকেটের বিষয়ে তিনি বলেন, কে সিন্ডিকেটের লোক সেটা তো আমি চিনে রাখি না। প্রতিদিন বেলা ১১টায় আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট ছাড়া হয়। এ সময় যারাই আগে এসে লাইনে দাঁড়ায় তারাই টিকিট পায়। 

তবে পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও সদর রেল স্টেশনের টিকিট অনলাইনে চালুর পর বর্তমানে পীরগঞ্জ রেলস্টেশনে সিন্ডিকেটে টিকিট বিক্রি হয় না বলে তিনি দাবি করেন। 

গোলাম রব্বানী আরও বলেন, ‘পীরগঞ্জ রেল স্টেশনের টিকিট লাইনে দাঁড়িয়ে কেনার পর সেই টিকিট বাইরে কে বেশি দামে বিক্রি করছে সেটা তো আমার পক্ষে সনাক্ত করা সম্ভব নয়।’

সিন্ডিকেট বন্ধে তাদের পক্ষ থেকে কিছু করার নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে যতক্ষণ টিকিট আছে আমি ততক্ষণ বিক্রি করি। টিকিট শেষ আমার কাউন্টারও বন্ধ।’ 

ওডি/এএসএল

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড