• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

পাবনায় বাদামের বাম্পার ফলন

  পাবনা প্রতিনিধি

২৮ মে ২০১৯, ১৭:৩৩
বাদাম চাষ
ঘোড়ার গাড়িতে করে বাদাম বহন করে আনছেন চাষি (ছবি : দৈনিক অধিকার)

পাবনার বেড়া ও সুজানগর উপজেলায় পদ্মা-যমুনার তীর অঞ্চলে এ বছর বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাদাম ঘরে তুলতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। ভালো ফলন ও অন্যান্য ফসলের চেয়ে ভালো দাম পেয়ে তারা বেশ খুশি। 

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,  এ বছর সুজানগর উপজেলার পদ্মা পাড়ে প্রায় ৭০০ হেক্টর জমিতে বাদাম রোপণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু কৃষকরা এর চেয়েও বেশি জমিতে বাদামের আবাদ করেছেন। আর বেড়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে যমুনার বুকে ১ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে বাদামের আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে যা পাবনাসহ সারা দেশে বিক্রি হবে।    

বেড়ার যমুনা পাড়ে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নদীতে বান না ডাকলেও ভরা ফসলের মাঠে কৃষকের হাসি বান ডেকেছে। এ সময়ের ফসল বলতে বাদাম। চর কোলচিনাখরা, চর মধুপুর, চর গনপদ্দিয়া, চর দেউনাই, চর পুকুরপাড়, চর সিংহাসন, চর বোরামারা, চর শাফুল্লা, চর যদুপুর, চর লক্ষ্মীপুরসহ প্রভৃতি চরে হাজার বিঘা জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে। 

চাষিরা জানান, বেড়ায় ঢালারচর ইউনিয়নে বাদামের চাষ করা হয় সবচেয়ে বেশি। তাছাড়াও হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়ন, নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়ন, পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের চরগুলোতে ব্যাপক হারে বাদাম চাষ হয়ে থাকে। 

নগরবাড়ী এলাকার বাদাম চাষি শের আলী মিয়া, আবু সুফিয়ান, শাহীন, মোক্তার হোসেন জানান, এ অঞ্চলে সাধারণত ডিজি-১ ও ডিজি-২ জাতের বাদাম চাষ করা হয়। এবার বাদামের ফলনও খুব ভালো হয়েছে। 

এ দিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুজানগর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি বাদাম চাষাবাদ হয়ে থাকে- ভায়না, সাতবাড়িয়া, মানিকহাট, নাজিরগঞ্জ ও সাগরকান্দি ইউনিয়নে। এসব চরাঞ্চলের জমিতে ধান-পাট ও অন্য ফসল তেমন ভালো হয় না। এ কারণে কৃষকরা বেশিরভাগ সময় এ সকল জমিতে ধান-পাট আবাদ করে লোকসানে পড়েন। লোকসান থেকে বাঁচতে এ বছর তারা উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে পদ্মার চরাঞ্চলের বেশিরভাগ জমিতে বাদম চাষ করেছেন।

সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের তারাবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ দৈনিক অধিকারকে বলেন, ‘গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর জমিতে বাদামের খুব ভালো ফলন হয়েছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘অন্যান্য বছর যেখানে এক বিঘা জমিতে ৭-৮ মণ বাদাম পেতাম, এ বছর সেখানে ৯-১০ মণ বাদাম আমরা ঘরে তুলতে পারছি।’ 

সাতবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল আলম বলেন, এ বছর অন্যান্য ফসলের তুলনায় বাদামের ফলনটা খুব ভালো হয়েছে। আর আমি আশা করব আগামীতে আরও কীভাবে ভাল ফলন কৃষকরা পেতে পারেন। সে বিষয়ে তাদের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে উপজেলা কৃষি অফিস। 

সুজানগর উপজেলা কৃষি অফিসার ময়নুল হক সরকার জানান জানান, কোনো কোনো এলাকায় চাষিরা বাদামের সঙ্গে ‘সাথী ফসল’ চাষ করেছেন। বাদাম ক্ষেতে বুনে দেওয়া হয়েছে ধান, তিল, কাউন। কাউন ও তিল আগে উঠে যায়। বিঘা প্রতি এক থেকে দুই মণ তিল ও দুই মণ কাউন পাওয়া যায়। এরপর পাওয়া যায় বাদাম। 

পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আজাহার আলী জানান, বেড়া- সুজানগরে পদ্মা-যমুনায় এ বছর বাদাম উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। কারণ আবহাওয়া অনুকূলে ছিল এবং উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে চাষিদের পরামর্শমূলক বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছিল। আর আগামীতে সরকার চাষিদের বাদামের বীজ প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিলে তা চাষিদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।   

ওডি/এএসএল

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড