সোনারগাঁওয়ে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে সরিষা চাষ

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:০৮

  নজরুল ইসলাম শুভ, নারায়ণগঞ্জ

চলতি বছর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এখানে মাঠের পর মাঠ সরিষার আবাদ করা হয়েছে। সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে যেন গোটা উপজেলা সুরভিত হয়ে উঠেছে। 

সোনারগাঁও উপজেলা কৃষি অফিসার আশেক পারভেজ জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২শ ৫০ হেক্টর। তবে এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে  ৭শ ৮০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। গত বছর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩শ ৯০ হেক্টর জমিতে, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৪শ ৮৯ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছিল। গত বছরের তুলনায় এ বছরও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। এ বছর ভাল ফলনের জন্য বারি-৯, ১৪ ও ১৫, ১৭ জাতের সরিষা চাষ করেছেন শতকরা ৯৯ ভাগ কৃষক। বাকি এক ভাগ চাষ হয়েছে দেশি সরিষাসহ অন্যান্য জাতের। 

উপজেলার সনমান্দী ফতেপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আলী বলেন, জমিতে চাষ দিয়ে বীজ বপনের উপযুক্ত হলে এক বিঘা জমিতে ১৪ কেজি ইউরিয়া সার, ৮ দশমিক ৫ কেজি পটাশ, টিএসপি ১৮ কেজি, জিপসাম ১২ দশমিক ৫ কেজি, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ২ কেজি, জিংক সালফেট ৩ দশমিক ৭৫ কেজি, বরিক এসিড ৭ দশমিক ৭৩ কেজি ও প্রয়োজন মতো গোবর সার মিশিয়ে জমিতে ছড়িয়ে দিয়ে সরিষার বীজ বপন করেন। পরে আরেকবার প্রয়োজন মতো সার ওষুধ ও সেচ দিয়েছেন। এতে তিনি ভালো ফলনের আশা করছেন।
  
কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, সরিষার ফলন প্রতি বিঘায় অর্থাৎ ৩৩ শতাংশ জমিতে সাড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৪ মন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাবে। কৃষকরা এ বছর সরিষার বীজ বেশি চাষ করেছেন। এ ছাড়া তিনি উপজেলা বিভিন্ন গ্রামের ক্ষেত পরিদর্শনসহ ভালো ফলন পেতে চাষাবাদের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রনোদনার আওতায় ৯শ জন কৃষককে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া রাজস্ব প্রদর্শনীর আওতায় ৭০ জন কৃষককে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। 

মৌমাছি সরিষার কোনো ক্ষতি করে না। তারা সরিষার ফুলে বসে পরাগায়ন ছড়ায় বিধায় বিঘা প্রতি শতকরা ২৫ থেকে ৩০ ভাগ ফলন বেশি হয়। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার ভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশাবাদী।