• সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অপার সম্ভাবনা, রপ্তানি হচ্ছে ভোলার পান

  ভোলা প্রতিনিধি

২৩ অক্টোবর ২০১৮, ২২:২৮
বরজ
পানের বরজ (ছবি: সংগৃহীত)

অনুকুল আবহাওয়া আর উৎকৃষ্ট মানের মাটি থাকায় ভোলায় উৎপাদিত পান দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। তবে রপ্তানি হলেও জলবায়ু পরিবর্তন আর পোকার আক্রমনে দিন দিন আগ্রহ হারাতে বসেছেন এখানকার পান চাষীরা। 

অন্যদিকে ভারতীয় পান বাংলাদেশে আমদানি হওয়ায় বাজার হারাতে বসেছে দেশে উৎপাদিত পান। নানা রকম ভেষজ গুন সম্পন্ন পান বাংলাদেশের একটি অন্যতম অর্থকারী ফসল। বিভিন্ন ধরণের ধর্মীয় উৎসবসহ, বিয়ে-শাদীতে পানের চাহিদা আছে। আমাদের দেশে বরিশাল, ভোলা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, জামালপুর, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে পানের চাষ হয়।

প্রাচীনকাল থেকেই বরিশাল অঞ্চলের পানের চাষ হতো। বরিশাল বিভাগের অন্তর্গত ভোলা জেলায় পানের আবাদ তুলনামূলকভাবে বেশী। এখানকার পান সুস্বাদু হওয়ায় দেশে বিদেশে এর বেশ চাহিদা রয়েছে অনেক। এখানে আবাদ হচ্ছে ভারতীয় বাংলা প্রজাতির গাছপান, ভবানী, বেনারসী, রাজনগর ইত্যাদি জাতের পান।

এছাড়াও বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র রহমতপুর থেকে উচ্চফলনশীল, বিভিন্ন গুণাবলী সম্পন্ন এবং রোগ প্রতিরোধে সক্ষম বারিপান-১, বারিপান-২ এবং বারিপান- ৩ নামে তিনটি পানের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। সাধারণত সনাতন র্ধমাবলম্বীরা পান চাষ করেন একটু বেশি। পান চাষে তাদের সাফল্যে বর্তমানে মুসলান চাষীরাও পান চাষে আগ্রহী হয়েছে।

অনেক আবার বাড়ির আঙ্গিনায় পান চাষ করেছেন। কৃষি জমিতে ধান চাষের পাশাপাশি পান চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন হাজার হাজার চাষী। গ্রামের ভাষায় পান গাছকে 'টাকার গাছ' ও বলা হয়। সারা বছর এর চাষ করা যায় এবং অর্থ উপার্জন করা যায় বলে অনেকে এ লাভজনক পান চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। বর্তমানে প্রতিটি পানের মূল্য ২/৩ টাকা থেকে ৫/১০ টাকা কোন কোন ক্ষেত্রে এর দাম ২০/৫০ টাকা পর্যন্ত, কিন্তু কৃষক একটি পান বিক্রি করে ২৫ পয়সারও কম দামে। এভাবে কৃষকরা কম দামে পেয়ে দিন দিন ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সাধারণত বরজ তৈরি করে পানের চাষ করতে হয়। সাড়িবদ্ধ ভাবে নির্দিষ্ট দূরত্বে পানের চাড়া রোপন করা হয়। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া পান চাষের জন্য উপযোগী।

সারিবদ্ধ পানের চারা (ছবি: সংগৃহীত)

সূর্যের আলোতে পান ভালো হয়না তাই পাট খড়ি দিয়ে পানের মাচা তৈরি করে ছায়ার সৃষ্টি করতে হয়। উচু জমি যেখানে পানি দাড়ায় না এমন দো-আশ মাটি পান চাষের জন্য নির্বাচন করা হয়। আমাদের দেশে বর্ষার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পানের চারা লাগানো যায়। চারা রোপন করা হলে ৫-৬ মাস পর থেকেই পাতা তোলা শুরু হয়। একটি পাতা সম্পূর্ণভাবে পরিণত হতে ৬-৮সপ্তাহ সময় লাগে। এরপর তা বাজারে বিক্রির উপযোগী হয়। পান সংগ্রহের পর তা বাছাই করে স্থানীয় বাজারে পাইকারদের কাছে বিক্রি করে চাষীরা। পাইকাররা দেশের পানের চাহিদা মিটিয়ে তা বিদেশেও রপ্তানি করছেন। 

উন্নত পদ্ধতিতে ভালো জাতের পান চাষ করে তা রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। কিন্তু ভারতীয় পান বাংলাদেশের বাজারে আসায় আমাদের দেশে উৎপাদিত পানের চাহিদা দিন দিন কমতে শুরু করেছে। তাই ভারতীয় পান বাংলাদেশে প্রবেশ বন্ধের দাবী জানিয়েছেন পান চাষীরা। বর্তমানে ভোলায় মোট ৫৩৬ হেক্টর জমিতে পানের চাষ হচ্ছে।

বিগত কয়েকবছর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পান চাষে ঝুকির মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে পান গাছের গোড়া পচা ও পাতার দাগ রোগ, পাতায় মাছি পোকার আক্রমণতো রয়েছেই এর ওপর পুষ্টি ঘাটতি, সেচ ব্যয়, ও কীটনাশক প্রয়োগের কারণে রপ্তানি সমস্যা পান চাষকে অবক্ষয়ের মধ্যে ফেলছে। এ অবস্থা থেকে উওরণের জন্য সরকারি পদক্ষেপ না নিলে পান চাষে চাষীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রমেন্দ্র নাথ বাড়ৈ জানান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পান চাষ করে চাষী যাতে বেশী লাভবান হতে পারেন সে জন্য পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন তারা। অর্থকরী ও ভেষজ গুণ সম্পন্ন এ ফসলটি উৎপাদনে সরকারী সাহায্য প্রদানের মাধ্যমে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলবে এটাই দাবী সংশ্লিষ্টদের।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪, ০১৯০৭৪৮৪৮০০ 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড