• বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ডিমের পরিমাণ কম হলেও সংগ্রহকারীদের মুখে হাসি

  আবিদ মাহমুদ, রাউজান (চট্টগ্রাম)

২২ মে ২০২২, ২১:০৭
ডিমের পরিমাণ কম হলেও সংগ্রহকারীদের মুখে হাসি
হালদায় ডিম সংগ্রহকারীদের ব্যস্ততা (ছবি: অধিকার)

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদার রেণু বেচাকেনা শেষ হয়েছে। গত শনিবার (২১ মে) শুরু হয়ে রবিবার (২২ মে) বিকেল পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। হালদার রেণু দ্রুতবর্ধনশীল ও সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। এবার ডিমের পরিমাণ কম হওয়ায় রেণু উৎপাদন হয়েছে কম। এ কারণে মাত্র কয়েকদিনে রেণু বিক্রি হয়ে যাওয়ায় দুর-দুরান্ত থেকে আসা ক্রেতাদের ফিরে যেতে হয়েছে।

এবার ডিমের পরিমাণ কম হলেও হতাশাগ্রস্ত ডিম সংগ্রহকারীদের মুখে হাসি ফুটেছে রেণুর দামে। হালদা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন এবার প্রায় ৬০ কেজি রেণু উৎপাদন হয়েছে। প্রতিকেজি রেণু বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা, সর্বনিম্ন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। গড়ে প্রতিকেজি রেণু বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকায়। সে হিসেবে মোট রেণু বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা।

দুই যুগ ধরে ডিম সংগ্রহকারী কামাল সওদাগর বলেন, তুলনামূলকভাবে রেণুর পরিমাণ কম হওয়ায় দুদিনের মধ্যে রেণু বিক্রি শেষ হয়েছে। কোনো কোনো ডিম সংগ্রহকারীর কুয়ায় মাত্র ৫০ থেকে ১০০ গ্রাম রেণু উৎপাদন হয়েছে। যাদের নৌকা বেশি তাদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন আধাকেজি বা আধাকেজির বেশি রেণু উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন।

একাধিক ডিম সংগ্রহকারী জানিয়েছেন, শনিবার বেশিরভাগ রেণু বিক্রি হয়ে গেছে। রবিবার কিছু পরিমাণ রেণু বিক্রি হয়েছে। স্থানীয় (রাউজান ও হাটহাজারী) মৎস্য চাষীদের কাছে বিক্রি ও ডিম সংগ্রহকারীদের মধ্যে যাদের জলাশয় আছে তারা নিজেদের উৎপাদিত রেণু জলাশয়ে অবমুক্ত করায় এবার দূর-দূরান্তের ক্রেতারা রেণু কেনার সুযোগ পায়নি। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা রেণু ক্রেতারা ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, গত বছর প্রতিকেজি রেণু ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ দেড়লাখ টাকায় বিক্রি হয়। ডিম আহরণকারীদের মতে, ডিম সংগ্রহের ৪/৫দিনের মাথায় রেণুতে পরিণত হয়, ১৫ দিনের বেশি সময় পর পরিণত হয় পোনায়। তবে হালদা ডিম ছাড়ার ৪/৫দিন পর হ্যাচারী বা মাটির কুয়ায় রেণু ফোটলে এক সপ্তাহের মধ্যে রেণু বিক্রি উৎসব শুরু হয়। ৪০ কেজি ডিম থেকে ১ কেজি রেণু হয়। এক কেজি রেণু থেকে প্রায় আড়াই লাখ পোনা উৎপাদন হয়। হালদা বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬০ কেজি ডিমে ১ কেজি রেণু উৎপাদন হয়। পরিবেশ-পরিস্থিতিতে কম-বেশি হতে পারে।

হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, হালদা রেণু বিক্রি শেষ। হ্যাচারীতে বর্তমানে রেণু নেই। কেউ বিক্রি করেছেন, আবার কেউ কেউ নিজস্ব জলাশায়ে ছেড়ে দিয়েছেন। এবার প্রায় ৬০ কেজি রেণু উৎপাদিত হয়েছে। প্রতিকেজি রেণু বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৯০ হাজার টাকাায়, সর্বনিম্ন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায়।

এবার ডিম কম ছাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন ‘বজ্রপাতসহ বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢল না থাকায় মা মাছ বেশি পরিমাণ ডিম ছাড়েনি। সব ঠিক থাকলে আগামী জো’তে ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা আছে।

প্রকৃতির উপর নির্ভর উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃতি সহায় হলে বেশি পরিমাণ ডিম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: জমি বিক্রি না করলে মেরে ফেলার হুমকি

উল্লেখ্য, প্রত্যেক বছর এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি থেকে জুন মাস পর্যন্ত নদীতে কার্প জাতীয় মা মাছ (রুই, কাতাল, মৃগেল, কালিবাউশ) নিষিক্ত ডিম ছাড়ে।

ওডি/এমকেএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড