• মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শ্রমিকের মজুরি ১৪০০, কৃষকের মাথায় হাত

  মো.মনোয়ার হোসেন রুবেল, ধামরাই (ঢাকা)

১৮ মে ২০২২, ১৩:০৪
শ্রমিকের মজুরি ১৪০০, কৃষকের মাথায় হাত
ধান কাটছে কৃষক। ছবি : অধিকার

ঢাকার ধামরাই উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ধান কাটা-মাড়াইয়ের শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে। শ্রমিকের মজুরি ১ হাজার থেকে ১৪০০ টাকা হওয়ায় একদিকে শ্রমিক সংকট অন্যদিকে শ্রমিকের মজুরি বেশি। তাই সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন উপজেলার কৃষকরা। অন্যদিকে শ্রমিকের দিকে না তাকিয়ে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটার পরামর্শ কৃষি কর্মকর্তাদের।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১৬ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় চলতি বছর ১৬ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্রি-ধান ২৯, ব্রি-ধান ২৮, ব্রি-ধান ৮৮, ব্রি-ধান ৯২, ব্রি-ধান ৫০ সহ হাইব্রিড জাতের বেশ কিছু ধানের আবাদ করেছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যেই সকল জাতের ধান পেকে গেছে। ধামরাইয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ জমির ধান কেটে ফেলা হয়েছে, আরও ৬০ শতাংশ জমির ধান কাটা বাকি রয়েছে।

উপজেলার গাংগুটিয়া ইউনিয়নের মারাপাড়া গ্রামের কৃষক চান মিয়া বলেন, আমি এবার ৬ বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছি। সব ধান পেকে মাঠে পড়ে আছে। দুঃখের বিষয় ধানগুলো কাটার শ্রমিকের মজুরি অনেক বেশি। দফায় দফায় বৃষ্টির কারণে আমার বেশ কিছু ধান জমিতে শুয়ে পড়েছে। এছাড়া কারেন্ট পোকার আক্রমণে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমার সব মিলিয়ে ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ৬ বিঘা জমিতে আমার ধান হবে ৯০ মণের মতো, এতে আমার ক্ষতিই হবে।

একই এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, এবার ৩ বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছি, ধান কাটা ও মাড়াই করার জন্য শ্রমিকের মজুরি ১৪ শত টাকা। কীভাবে কী করব কিছুই জানি না। ১ মণ ধানের দামের থেকে শ্রমিকের মজুরি বেশি। এবারই শেষ আর ধান চাষ করব না।

উপজেলার কাওয়াখোলা গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, ‘অন্য এলাকার শ্রমিক না পেয়ে আমি ৫ জন শ্রমিক দিয়ে ধান কাটা শুরু করছি। এবার ১০০ শতাংশ (১ একর) জমির ধান কাটার জন্য ১৮ হাজার টাকা চুক্তি করে শ্রমিক ঠিক করছি। একবেলা মাছ-মাংস দিয়া ভাতও খাওয়াইছি।’

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল হাসান জানান, প্রতিবারের চেয়ে এবার ধামরাইয়ে ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকরা খুবই খুশি ফলন বেশি হওয়ায়। জমির ধানগুলো ৮০ ভাগ পেকে গেলেই ধান দাঁড়ানো অবস্থায় কেটে ফেললে কৃষকদের ক্ষতি কম হবে। আর যারা শ্রমিক সংকটের জন্য ধান কাটতে পারছে না তাদেরকে আমি অনুরোধ করবো তারা যেন তার নিজ এলাকা বা আশেপাশে একটু খোঁজ নেয়। এবার উপজেলা থেকে ২৪টি হারভেস্টার মেশিন দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা খোঁজ নিয়ে হারভেস্টার মেশিন দিয়ে যেন ধান কেটে ফেলে। এতে কৃষকদের টাকা ও সময় দুটোই কম লাগবে।

ওডি/ওএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড