• রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মাঠ জুড়ে সোনার ধানে প্রাণ জুড়ানো দোলা

  নাসিম আজাদ, পলাশ (নরসিংদী)

১২ এপ্রিল ২০২২, ১৬:২৯
মাঠ জুড়ে সোনার ধানে প্রাণ জুড়ানো দোলা
মাঠ জুড়ে ধান খেত (ছবি: অধিকার)

কাঁচা ধানের ডগায় সন্তপর্ণে পা ফেলে নামছে বিকেলের রোদ। সাদা বকের নরম পালকের শব্দ আর সরু আলোরপথের ঘাস ফুলের সৌরভ চারিদিকে বয়ে আনে নেশার ঘ্রাণ। দূরের নীলিমা ভেদ করে উঁকি দিচ্ছে রঙিন সোনালি চিকন হাসি। এ সময় হালকা মাতাল মৃদুলয়ে দোল খাচ্ছে মাঠ ভরা বোরো ধানের রাঙ্গা হাসি। সবুজ ধানের পোয়াতি স্পর্শে থেকে এখন তরতর করে কাঁপছে ফসলের খেত। মাঠের পর মাঠ জুড়ে এখন রূপালী ধান যেন দিগন্ত ছুঁয়ে নতুনের জাগরণে মেতে উঠেছে। আর বাম্পার ফলনে কৃষকদের প্রাণে বয়ে বেড়াচ্ছে চাঞ্চল্য, আগামী সুখের হাতছানি।

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার মাইজবন্ধের কৃষক ফজলুল হক জানান, আমাদের মাঠে কৃষকরা জিরাশাইল, পারিজা, ব্রিধান-২৮, ২৯, ৫০, ৬৪, হাইব্রিড-৫, এসিআই-৬, বলিয়া-২সহ প্রভৃতি জাতের ইরি-বোরা ধানচাষ করেছেন। এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ তেমন একটা ছিলো না। যথাযথ পরিচর্যাসহ সময়মতো সার ব্যবহারে বাম্পার ফসল উৎপাদিত হয়েছে।

একই উপজেলার রাবান গ্রামের কৃষক সুকুমার দাসও বলেন, এ বছর খরা ও বন্যা তেমন ছিলো না। যে কারণে গত বছরের চাইতে এবার ফলন আরো ভাল হয়েছে। খেতের পরিচর্যা যেমন আগাছা নিড়ানি, মাটি কঁচলানি শেষে পরিমান মতো সার ও কিটনাশক প্রদান হয়েছে। আমাদের এলাকার প্রতিটি ইরি বোরো খেত এখন ধানের কঁচি শীষে পরিপূর্ণ রূপ নিয়েছে। মাঠের দিকে চোখ পড়লেই মনটা ভরে যাচ্ছে।

তিনিও আরো বলেন, দেখতে দেখতে চৈত্র চলে যাবে। বৈশাখের মাঝামাঝি ধান পুরোপুরি পেকে উঠবে। আবহাওয়া চরম বৈরী না হলে তখন ধান কাটতে শুরু করবো। এখন থেকেই আমাদের পুরাপুরি প্রস্তুতি চলছে। ধান কাটার কামলা এলেকায় মিলে না, তাই আমরা আগাম উত্তরাঞ্চলের মাঠ কামলাদের সাথে যোগাযোগ রাখছি। তখন সব কাজ বাদ দিয়ে শুধু ধান কাটা, মাড়াই ও ঘরে তোলার জন্য প্রস্তুত আমরা। তখন মাঠ সাজবে কৃষকের ফলানো সোনা রং ধানের ছড়াছড়িতে। চারিদিকে ভেসে বেড়াবে ধান নাড়ার মজা মৌ মৌ গন্ধ।

পলাশ উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় হাই ব্রীড, উফশীসহ স্থানীয় বিভিন্ন জাতের ধান রোপণ করা হয়েছে। বোরো আবাদের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ হাজার ১শ ৮২ হেক্টর জমি। এর মধ্যে আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ১শ ৮০হেক্টর জমিতে। যা থেকে ১৭ হাজার ৪শ ৪১ মেঃ টন ধান পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ স্থানীয় কৃষি অফিসের।

আরও পড়ুন: পাকা ঘরে থাকবো কোনো দিন স্বপ্নেও ভাবি নাই

পলাশ পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু নাদের এস এ সিদ্দিকী জানান, আমরা এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছি। ঘাম ঝরানো স্বপ্নের ফসল কিছু দিনের মধ্যেই ঘরে তুলে আনতে কৃষকদের আগাম প্রস্তুতি চলছে। আমাদের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে এবার কৃষকদের মাঝে পর্যাপ্ত কৃষি উপকরণ, সার ও কিটনাশক সরবারহ করেছি। নিবির পরিচর্যায় বিনিময়ে এবার বোরো ধানের ফলন অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে।

ওডি/এমকেএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড