• সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নওগাঁয় অপরাধের রাজ্য গড়েছে সোনামুল গ্যাং

  কাজী কামাল হোসেন, নওগাঁ

২৩ জানুয়ারি ২০২২, ২০:২৩
অভিযুক্ত সোনামুল (ছবি : অধিকার)

নওগাঁর রাণীনগরে বহুল আলোচিত মাদক কারবারি সোনামুল-বুলবুলি গ্যাংয়ের খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছে বহু মানুষ। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সোনামুলের পরিকল্পনায় বুলবুলি ওরফে বুলির প্রেমের ফাঁদে ফেলে ইতোমধ্যেই প্রায় শতাধিক মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে লাখ লাখ হাতিয়ে নিয়েছে সোনামুল গ্যাং। এছাড়া তাদের মাদকব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখল ও বিভিন্ন মানুষকে টার্গেট বানিয়ে সুকৌশলে মাদক কিংবা অস্ত্র রেখে পুলিশি হয়রানি ও মিথ্যে মামলার সমঝোতার নামে অর্থ আদায়সহ হাজারো অবৈধ কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। যেন অপরাধের রাজ্য গড়ে তুলেছে সোনামুল গ্যাং।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার রাণীনগর উপজেলার গোনা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের সমতুল খন্দকারের ছেলে সোনামুল খন্দকার এক সময় পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতো। সোনামুল এলাকার বেশকিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে তৈরি করেছে এক ভয়ংকর গ্যাং। এই গ্যাংয়ের প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে আরেক মাদক কারবারি বুলবুলি বিবি। স্বামী পরিত্যক্তা এই বুলবুলির প্রেমের ফাঁদে ফেলে চলছে সোনামুল গ্যাংয়ের ব্ল্যাকমেইল কর্মকাণ্ড।

প্রথমে এলাকার অর্থশালী, ব্যবসায়ী ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের ব্যক্তিদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে বুলিবুলিকে সরবরাহ করে সোনামুল। এরপর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নাম ধারণ বুলবুলি ওই ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার ২-৩ দিনের মধ্যে কোনো এক বাসা কিংবা পার্কে দেখা করার কথা বলে ডেকে নিয়ে অন্তরঙ্গ অবস্থায় ছবি তোলে। এ সময় পূর্ব থেকেই প্রস্তুত থাকা ওই গ্যাংয়ের সদস্যরা ডিবি পুলিশ সেজে ওই লোককে ভয়ভীতি দেখিয়ে সবকিছু কেড়ে নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে। এরপর সমঝোতার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় সোনামুল।

এছাড়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষকে টার্গেট করে প্রথম সাক্ষাতেই উপহারের প্যাকেটে করে তাদের হাতে অথবা বাড়িতে মাদক/অস্ত্র রেখে ব্ল্যাকমেইল করে লাখ লাখ টাকা সমঝোতার নামে আদায় করে আসছে। সোনামুল গ্যাংয়ের খপ্পরে পড়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির শতাধিক মানুষ তাদের সর্বস্ব হারিয়ে এখন পথে পথে ঘুরছে। এলাকার মানুষ বর্তমানে চরম আতঙ্কে রয়েছে। প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও ছিনতাই করা এই গ্যাংয়ের নিত্যদিনের কাজ। পুলিশ ও আদালতের খাতায় সোনামুল ও বুলবুলির নামে প্রায় অর্ধশত মামলা রয়েছে। বহুবার হাজতবাস করলেও অদৃশ্য শক্তির কারণে জামিনে মুক্ত হয়ে বহাল তবিয়তে থাকে এই গ্যাং।

ঘোষগ্রামের আ. কাদের মন্ডলের ছেলে ভুক্তভোগী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, প্রথমে আমার ছোট ভাইকে ব্ল্যাকমেইল করে সোনামুল গ্যাং। ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে আমি নিজেও বুলবুলির ফাঁদে পড়ে যাই। এই ফাঁদ থেকে বাঁচতে লোক মারফত সোনামুল আমার কাছে ১০ লাখ দাবি করে। পরে আমাকে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দিয়ে বিভিন্ন সময় আমার কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা আদায় করে নেয়। বর্তমানে আমি ও আমার ছোট ভাই নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। আমি এই বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, কিন্ত এখন পর্যন্ত কোনো লাভ হয়নি।

এছাড়া আতাইকুলা গ্রামের মৃত ওছমানের ছেলে মোকলেছুর রহমান, দুর্গাপুর গ্রামের হাফেজ মো. কেফায়েত উল্লাহ, বাবুল সরদার, সোনামুলের বড় ভাই সামিনুর খন্দকার সোনামুল গ্যাংয়ের শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগী সামিনুর খন্দকার বলেন, সোনামুল আমাকেও ছাড়েনি। সোনামুল একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। সে বর্তমানে আমার নির্মাধীন বাড়ি জোরপূর্বক দখল করে সেখান থেকেই এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। সোনামুল বর্তমানে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। প্রমাণাদিসহ থানা ও আদালতে মামলা করেও কোনো লাভ হচ্ছে না।

এ বিষয়ে বর্তমানে পলাতক অভিযুক্ত সোনামুলের মোবাইল নাম্বার বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

গোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক বলেন, সোনামুল গ্যাংয়ের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। আমি প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে চেষ্টা করছি সোনামুলের কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে। কিন্তু তা আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ আর স্থানীয়দের প্রচেষ্টাই পারে সোনামুলের গ্যাং কে নির্মূল করতে।

রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিন আকন্দ জানান, সোনামুল একজন চিহ্নিত মাদক কারিবারি। আমি চেষ্টা করছি সোনামুলকে আটক করে আইনের হাতে সোর্পদ করতে। কিন্তু সে ও তার দলের সদস্যরা পলাতক থাকায় আটক করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন : ভূঞাপুরে সাবেক চেয়ারম্যানের বাসভবনে আগুন

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ওডি/এএম

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড