• বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

চাকরি ফিরে পেতে চান বরকলের জান্নাত মুন্সি

  এম. কামাল উদ্দিন, রাঙামাটি

২৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৫:৩৩
চাকরিচ্যুত জান্নাত মুন্সি (ছবি : অধিকার)

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দফতরি কাম প্রহরী নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও টাকা-পয়সার লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে রাঙামাটির বরকল উপজেলার এরাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রায় ৭-৮ বছর চাকরির পর গ্রাম্য পলিটিক্সে জড়িয়ে চাকরি হারান ওই এলাকার যুবক জান্নাত মুন্সি। তিনি তার চাকরি ফেরত পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জানা যায়, ২০১২/১৩ সালে আউট সোর্সিং নিয়োগের মাধ্যমে চাকরি পান জান্নাত মুন্সি। তিনি অধিকারকে বলেন, আমার স্থলে বেলালকে চাকরি দিতে কৌশলে আমাকে মামলায় জড়িয়েছেন মামুন চেয়ারম্যান, সবুর মেম্বার ও খায়ের। তারা মোটা অঙ্কের বিনিময়ে আমাকে বাদ দিয়ে বেলালকে আমার স্থলে নিয়োগ দিয়েছেন। তারা উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে ঠিক করে একটি প্যানেল তৈরি করে। সে প্যানেলকে বৈধ করতে মোটা অঙ্ক দিয়েছেন বেলাল। আর আমি আমার চাকরি ফেরত পেতে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কাছে গিয়েছি। তারা আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন- চাকরি ফেরত পাবো। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন করছি, আমার চাকরিটুকু যেন ফেরত পাই সে সুব্যবস্থা করে দিবেন।

জান্নাত মুন্সির পিতা মোতালেব মুন্সি বলেন, প্রথম নিয়োগে স্কুল কমিটি এবং সংশ্লিষ্টরা মিলে টাকা-পয়সা খেয়ে আমার ছেলেকে নিয়োগ দিতে অপারগতা দেখায়। পরে আমি বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির করলে আমার ছেলে জান্নাত মুন্সিকে ওই পদে নিয়োগ দিতে বাধ্য হয়। আমার ছেলের দফতরি কাম প্রহরী নিয়োগের পর থেকে তৎকালীন স্কুল সভাপতি সবুর মেম্বার, খায়ের, প্রধান শিক্ষক ও ভূষণছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মামুন মিলে আমার ছেলের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে তাকে চাকরিচ্যুত করে। ওই স্থানে বেলাল নামের একজনকে নিয়োগ দেয়।

মোতালেব মুন্সি আরও বলেন, আমি ও আমার ছেলে ষড়যন্ত্রের শিকার। মামুন চেয়ারম্যান এসব ষড়যন্ত্রের ইন্দনকারী। আমার ছেলের চাকরি চলে যাওয়ার পেছনে মামুন চেয়ারম্যান, সবুর মেম্বার ও খায়ের জড়িত রয়েছে। আমি মামুনের কথা মত চললেই আমার ছেলের চাকরি যেতো না।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, আপনি হয়তোবা অবগত আছেন, এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দু’পক্ষের মধ্যে একটি কোন্দল রয়েছে। সে সুবাদে পক্ষ-বিপক্ষ থাকতেই পারে। সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হলো- বিদ্যালয়ে দফতরি কাম প্রহরী নিয়োগ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে তা সঠিক না। কারণ, নীতিমালায় আছে- এ পদে নিয়োগ হবে স্কুল কমিটি ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস মিলে একটি প্যানেলের মাধ্যমে। এই নীতিমালা অনুযায়ী, কেউ যদি টানা ১৫দিন স্কুলে হাজির না থাকে তাহলে বিনা নোটিশে তার চাকরি চলে যাবে। যদিও লোকজন বলে, সরকারি চাকরি আসলে তা না। সম্পূর্ণ আউট সোর্সিং নিয়োগে কাজ আছে, বেতন আছে। কাজ নাই তো বেতন নাই। নিয়োগের ব্যাপারে আমার কোনো হাত নাই।

সাবেক স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি সবুর মেম্বার বলেন, আমি নিয়োগ দেব কিভাবে? নীতিমালা অনুযায়ী তার চাকরি চলে গেছে, তাতে আমরা কী করব? আমি কারও চাকরিচ্যুত করার কে বা চাকরি দেওয়ার কে? মোতালেব মুন্সি ও তার ছেলে যা বলছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবদুস সামাদ বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। তৎকালীন সময়ে আমি এই উপজেলায় ছিলাম না। জান্নাত মুন্সি কে? তাকে আমি চিনি না।

আরও পড়ুন : এলাকায় আতঙ্ক, বিদ্যালয়ে আসেনি কোনো শিক্ষার্থী

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী বলেন, এ ব্যাপারে আমাকে জান্নাত মুন্সি ও তা পিতা মোতালেব মুন্সি অবগত করেছেন। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছি।

ওডি/এএম

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড