• বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন, নেপথ্যে উগ্রবাদী আরসা

  শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার

১৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৯:২৯
আগুন (ফাইল ছবি)

কক্সবাজারের উখিয়া ক্যাম্পে লাগা আগুনে পুড়ে গেছে ২৯টি বসতি। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) রাত ২টার দিকে উখিয়ার ইরানী পাহাড়ের ৫ নম্বর ক্যাম্পে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও এপিবিএন সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন দেওয়া থেকে শুরু করে মাদক পাচার, অপহরণ, ডাকাতি, মুক্তিপণ আদায়, হত্যা, মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িত আরসা, আরএসও, আল ইয়াকিন ও ইসলামি মাহাসসহ কয়েকটি উগ্রবাদী সংগঠন। এ অভিযোগ স্থানীয় রোহিঙ্গাদের। মিয়ানমারের নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনীর ভাই মো. শাহ আলী (৫৫)কে অস্ত্র ও মাদকসহ আটক করার পরই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-১৪ (এপিবিএন)-এর অধিনায়ক নাইমুল হক জানান, মঙ্গলবার ভোররাতে ক্যাম্পে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আমাদের লোকজন পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। ঘণ্টা খানেকের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ক্যাম্প-৫ এর আওতাধীন মেইন ব্লক-বি, সাব ব্লক-বি/৩ এবং ডি/২ তে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। আগুনে সাব ব্লক-বি/৩ এর ২৫ টি এবং ডি/২ এর ৪টি বসতি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি বলে জানান এপিবিএন অধিনায়ক।

প্রসঙ্গত, গত ৯ জানুয়ারি উখিয়ার শফিউল্লাহ কাটা নামে একটি শরণার্থী শিবিরে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৬০০টি ঘর পুড়ে চার হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় হারিয়েছেন। এর আগে, গত ২ জানুয়ারি উখিয়ার বালুখালী ২০ নম্বর ক্যাম্পে জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা (আইওএম) পরিচালিত করোনা হাসপাতালে আগুন লাগে। এতে কেউ হতাহত না হলেও হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারের ১৬টি কেবিন পুড়ে যায়।

এছাড়া গত বছরের ২২ মার্চ উখিয়ার বালুখালীতে আরেক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যু হয় অন্তত ১২ জন রোহিঙ্গার। আগুনে পুড়ে যায় ১০ হাজারের বেশি ঘর।

এদিকে, রবিবার (১৬ জানুয়ারি) ভোররাতে ড্রোন ব্যবহার করে আর্মড পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় অস্ত্র ও মাদকসহ আটক করা হয় মিয়ানমারের নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনীর ভাই মো. শাহ আলীকে (৫৫)। এ তথ্য জানিয়েছেন ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক, পুলিশ সুপার নাইমুল হক।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল, উখিয়ার ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় কিছু দুষ্কৃতিকারী অবস্থান করছে। তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বড় ধরনের অঘটন ঘটাতে পারে। এমন তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে- আরসা নেতা আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনীর সাথে তার ভাই মো. শাহ আলীর যোগাযোগ ছিল। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে কোনো ধরনের অপতৎপরতা আছে কি-না, এ বিষয়ে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে আটক মো. শাহ আলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কতদিন ধরে, কোথায়, কিভাবে অবস্থান করছিলেন সে সম্পর্কে কোনো তথ্য জানাননি এপিবিএন-এর এই কর্মকর্তা।

নাইমুল হক বলেন, ড্রোন দিয়ে অভিযান পরিচালনা করে পরবর্তীতে শাহ আলীকে আটক করার সময় সেখানে চোখ বাঁধা অবস্থায় সাদিকুল নামে একজন ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। সাদিকুলকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, তাকে সেখানে আটকে রেখে নির্যাতন এবং টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা দিতে না পারলে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই স্থান থেকে অস্ত্র, ইয়াবা ও টাকা উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, আটক শাহ আলীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য উখিয়া থানায় সোর্পদ করা হয়।

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ’ তাদের এক রিপোর্টে বলছে, রাখাইন এবং আরবী এই দুটি ভাষাই তিনি অনর্গল বলতে পারেন। ২০১২ সালে আতাউল্লাহ সৌদি আরব থেকে অদৃশ্য হয়ে যান। এরপর ২০১৭ সালে আরাকানে নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর তার নাম শোনা যায়।

২০১৭ সালে মিয়ানমার জান্তা সরকারের রোষানলে পড়ে নিজের ভূখণ্ড ছেড়ে পালিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয় ১২ লাখ রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের জন্য করা হয় ক্যাম্প। সেখানে বসবাসের শুরু থেকেই ‘আরসা’র নাম ব্যবহার করে নানা ধরনের অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন : দুই স্কুল পাশাপাশি, শিক্ষার্থী নিয়ে টানাটানি

সর্বশেষ গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর কুতুপালং ক্যাম্পে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ। তখন মুহিবুল্লাহর পরিবার থেকে অভিযোগ তোলা হয়, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে কাজ করায় মুহিবুল্লাকে আরসা’র সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে। রোহিঙ্গাদের একটি অংশ মনে করেন, আতাউল্লাহ’র নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র সংগঠনটি মূলত মিয়ানমার সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে।

ওডি/এএম

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড