• শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পায়ের ঘষাতেই উঠে যাচ্ছে রাস্তার কার্পেটিং

  মো. জাবেদ শেখ, শরীয়তপুর

১৬ জুন ২০২১, ১০:১৯
শরীয়তপুরে পায়ের ঘষাতেই উঠে যাচ্ছে রাস্তার কার্পেটিং
উঠে যাচ্ছে রাস্তার কার্পেটিং (ছবি : দৈনিক অধিকার)

শরীয়তপুর বৃষ্টির মধ্যে চলছে রাস্তার কার্পেটিং কাজ। হাত-পায়ের ঘষাতেই উঠে যাচ্ছে রাস্তার কার্পেটিং। ইঞ্জিনিয়ারের সামনেই চলে এসব অনিয়ম। ঠিকাদার শরীয়তপুর সদরের লোক বলে ভয়ে কিছু বলেন না গ্রামের মানুষ। এখনও চলমান রয়েছে রাস্তার কাজ। এমন অভিযোগসহ একটি ভিডিয়ো ফুটেজ রবিবার (১৪ জুন) ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

ওই দিন বেলা ১১টায় ডামুড্যা উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল ইসলামকে বিষয়টি জানালে তিনি মুঠোফোনে বলেন, আমি দাঁড়িয়ে থেকে এই কাজ করিয়েছি। কাজ খুব ভালো হচ্ছে।

জানা যায়, রাস্তাটির কাজ চলছে ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নে ৯নং ওয়ার্ডের পৈতকাঠি এলাকা হতে ইসলামপুরের সাবেক মালগাওঁ এলাকার সংযোগ সড়ক পর্যন্ত। রাস্তাটিতে বর্তমানে কার্পেটিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে।

এরপর সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গেলে এলাকার আবু কালাম (৪৬) বলেন, রাস্তার কাজ একটুও ভালো হয়নি। বৃষ্টির ভেতর একদিকে রাস্তার কাজ করছে অন্যদিকে রাস্তা ভেঙ্গে পড়ছে।

স্থানীয় ছালাম হাওলাদার (৪৮) দৈনিক অধিকারকে বলেন, বৃষ্টির ভেতর রাস্তার কাজ করতেছে। মাটির উপর কোন রকম কার্পেটিং করে গেছে। কিছু জায়গায় রোলার দিয়ে রাস্তা না ডলে কাঠের তক্তা দিয়ে রাস্তা পিটিয়ে ঠিকঠাক করেছে। তারা তিন ভাগের এক ভাগ কাজও করছে না। ঠিকাদার শরীয়তপুর সদরের হওয়ায় আমরা কিছু বলতে পারি না।

এ বিষয়ে ঠিকাদার মজিবুর মোল্লাকে অভিযোগের কথা জানালে তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, আপনার নিউজ করার কথা করেন। ইঞ্জিনিয়ার বলছেন রাস্তার কাজ ভালো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির মধ্যে কাজ হয়নি।

এলাকার এক সংবাদকর্মী মিরাজ শিকদার (৩৫) বলেন, আপনারা নিজের চোখে দেখুন। আমরাও আজ সরজমিন গিয়ে দেখলাম প্রাইম কোট নামেমাত্র দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বৃষ্টির মধ্যে তাড়াহুড়ো করে কাজ শেষ করার জন্য মানের দিকে তাদের কোন নজর নেই। রাস্তার বিষয়ে আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পাবলিশ করেছি। আমরা মাননীয় এমপি নাহিম রাজ্জাকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। সরকারের উন্নয়ন এ ভাবেই এক শ্রেণির অসাধু ঠিকাদার গিলে খাচ্ছে। এ বিষয়ে এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সাধারণ জনগণ সকলেই নিশ্চুপ।

এ বিষয়ে ডামুড্য উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মো. রফিকুল ইসলাম দৈনিক অধিকারকে বলেন, ত্রুটি ইচ্ছায় হোক, অনিচ্ছায় হোক হয়েছে। রাস্তায় ত্রুটি আছে। আমি যাচাই-বাছাই করে সংশোধন করে দিব। আমাদের লোকবল কম। ১৯ জনের জায়গায় সাতজন কাজ করে।

উল্লেখ্য, রাস্তাটির দৈর্ঘ্য ১৬শ ৪৬ মিটার। ১ কোটি ৩২ লাখ ৪২ হাজার ৯০১ টাকা ২০ পয়সার ব্যয়ে এই কাজ করা হচ্ছে।

ওডি/এফই

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet