• বুধবার, ০৪ আগস্ট ২০২১, ২০ শ্রাবণ ১৪২৮  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

'হেয়ার ক্যাপ' তৈরি করে স্বাবলম্বী বেকার নারীরা

  শাকিল রেজা, মেহেরপুর

১৪ এপ্রিল ২০২১, ১৫:৩২
dfghghj
ছবি : দৈনিক অধিকার

মেহেরপুরের মুজিবনগরে গড়ে উঠেছ কিছু পরচুল বা ‘হেয়ার ক্যাপ’ তৈরির কারখানা আর এ সকল কারখানায় কাজ করছেন শতাধিক দরিদ্র নারী ও স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।

টাক মাথার জন্য ব্যবহার করা এসব পরচুল তৈরি করে প্রতি মাসে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা আয় করছেন তারা। ফলে নিজেদের লেখাপড়াসহ সংসারের খরচে ভূমিকা রাখছে তাদের এ আয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, মুজিবনগর উপজলায় প্রায় ৮-১০ টি রয়েছে হেয়ার ক্যাপ’ তৈরির কারখানা। নারীদের হাতের কারিশমায় তৈরি ‘হেয়ার ক্যাপ’ বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যেমে চীনসহ মধ্যপ্রাচ্যর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

প্রায় ২ মাস আগে মুজিবনগর উপজলার বাগায়ান ইউনিয়নের ভবেরপাড়া গ্রামের দিলিপ মল্লিক, সোনাপুর গ্রামের সোহরাব হুসেনসহ কয়কজন ব্যক্তির উদ্যোগে গড়ে ওঠে পরচুল ‘হেয়ার ক্যাপ’ তৈরির কারখানা। সেখানেই এলাকার শত শত বেকার শিক্ষিত নারীরা খুঁজে পায় বাড়তি আয়সহ নতুন কর্মসংস্থান। তবে করোনাভাইরাসের কারণে অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে এই শিল্পের কাজ।

করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থবিধি মেনে এখন সীমিত আকারে হেয়ার ক্যাপ তৈরির প্রশিক্ষণ চলছে। তাদের তৈরি করা হেয়ার ক্যাপ যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।

স্থানীয়রা জানান, এমন একটি কারখানা হওয়ায় আমাদের গ্রামের অনেক গরিব পরিবারের মেয়েরা এখানে কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে। এমনকি যারা লেখাপড়া করে তারাও এখানে কাজ করে তাদের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাচ্ছে।

'হেয়ার ক্যাপ' কারখানার শ্রমিক মুক্তা খাঁন জানান, আমরা যারা মেয়েরা আছি, যেকোনো জিনিস কেনার জন্য বাবা কিংবা স্বামীর কাছে হাত পাততে হয়। আমাদের এখানে কারখানা হওয়ায় আমরা এখানে কাজ করে নিজেরা আয় করতে পারছি তাই এখন আর বাবা কিংবা স্বামীর কাছ হাত পাততে হচ্ছে না। যা রোজগার করছি তাই দিয়ে নিজেদের খরচ করেও সংসারের কাজে টাকা ব্যয় করতে পারছি।

কারখানায় কর্মরত কলেজ শিক্ষার্থী দৃষ্টি মল্লিক ও ফারজানা খাতুন জানান, করোনার কারণে আমাদের কলেজ বন্ধ। সারাদিন চুপচাপ বসে থাকি, কোনো কাজ থাকে না। তাই অবসর সময় আমরা এই কাজ করি। চুল দিয়ে একটি ক্যাপ তৈরি করতে পারলে আমরা ৫ শত থেকে ১হাজার টাকা পর্যন্ত পাই। একটি ক্যাপ তৈরি করতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে। এতে আমাদের যা ইনকাম হয় তাই দিয়ে আমাদের নিজেদের খরচ উঠে যায়। এখন বাসায় আর কারো কাছে টাকার জন্য আর হাত পাততে হয় না।

ববিতা খাতুন জানান, পারিবারিক সমস্যার কারণে আমার ও আমার স্বামীর মাঝে ডিভোর্স হয়ে যায়। তারপর আমি আমার বাবার বাসায় চলে আসি। আমার বাবা একজন দিনমজুর। তিনি ঠিকমত কাজ কাম করতে পারেন না। তিনি যা ইনকাম করেন, তাই দিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে আমাদের পরিপূর্ণ চাহিদা পূরণ করতে পারেন না। আমার দুইটা ছোট ভাই রয়েছ, তারা কেউ কাজ করার মতো না। তাই বাধ্য হয়ে আমি এই কাজটা করে পরিবারের হাল ধরেছি। এখান থেকে আমার যা আয়-রোজগার হয় তাই দিয়ে আমার বাবাকে সহযোগিতা করি।

ভবেরপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য দিলিপ মল্লিক জানান, আমি প্রথমত কয়েকজনকে নিয়ে পরচুলা 'হয়ার ক্যাপ' তৈরির কাজ করতাম। পরে ধীরে ধীরে অনেক মেয়েরা এই কাজের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে। এখন আমার কারখানায় বর্তমানে ৭০ জন নারী কাজ করে। আর এই কাজের মাধ্যমে অনেক হতদরিদ্র পরিবারের মেয়েরা তাদের কর্মসংস্থান তৈরি করছে।

সোনাপুর গ্রামের হেয়ার ক্যাপ কারখানার মালিক সোহরাব হোসেন জানান, ২ মাস আগে প্রথমে নিজের সংসারের কথা চিন্তা করে হেয়ার ক্যাপ বা পরচুল তৈরির কাজ নিয়ে আসলেও বর্তমানে গ্রামের অনেক শিক্ষিত ও বেকার নারী আগ্রহী হয়ে উঠেছে পরচুল তৈরির কাজ করতে।

তিনি আরও জানান, আমার কারখানায় ৪০ থেকে ৫০ জন মেয়ে কাজ করতো। তবে করোনার কারণে আগের থেকে কাজ কমে গিয়েছে। বর্তমানে কয়কজন মেয়ে নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরচুল তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এ কাজের জন্য সরকারি কোনো সহযোগিতা পেলে আরও বড় করা সম্ভব হতো। এতে গ্রামের আরও অনেক হত-দরিদ্র নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতো।

এ বিষয়ে যোগাযাগ করা হলে বাগায়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আয়ূব হোসেন জানান, এই ধরনের শিল্প কারখানার মাধ্যেমে গ্রামীণ অর্থনৈতিক অবকাঠামোর পরিবর্তন ঘটবে। প্রতিটি গ্রামে যদি এরকম ছোট ছোট শিল্প গড়ে ওঠে তাহলে গ্রামের হত-দরিদ্র পরিবারের আর্থিক উন্নয়ন ঘটবে।

মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন সরকার জানান, মুজিবনগর উপজেলা সমগ্র বাংলাদেশের জন্য রোল মডেল। এখানে অনুকূল পরিবেশের কারণে দরিদ্র ও বেকার যুবক-যুবতীরা এ ধরনের কাজে নিয়োজিত থেকে আয় করছে এটা জেনে ভালো লাগছে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা হিসেবে অনেকের এ পেশায় বিকাশ ঘটছে। উভয়ই স্বাবলম্বী হচ্ছে, তারা নিজের ও দেশের অর্থনতিক, সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন।

ওডি/

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড