• রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮  |   ৩৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ফেনীতে স্মার্টকার্ড বিতরণে ৭ লক্ষাধিক টাকা ভাগবাটোয়ারা

  এস এম ইউসুফ আলী, ব্যুরো প্রধান, ফেনী

০৩ এপ্রিল ২০২১, ১৩:০৬
স্মার্টকার্ড
স্মার্টকার্ড (ছবি সংগৃহীত)

ফেনীর দাগনভূঞায় স্মার্টকার্ড বিতরণে সরকারি রাজস্বের কথা বলে আদায়কৃত ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্বয়ং জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট থাকায় ভয়ে টিমের অন্য সদস্যরা মুখ খুলছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দাগনভূঞা উপজেলায় চলতি মাসের ৮ মার্চ থেকে স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। ঘোষিত শিডিউল মোতাবেক প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে স্মার্টকার্ড বিতরণ করেন টিম সদস্যরা। এ কাজে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও তাদের সহযোগিতা করে আসছেন।

নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, স্মার্টকার্ড বিতরণে নগদ কোন অর্থ নেয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামাল উদ্দিনের নির্দেশে সেখানে যেসব ব্যক্তির পুরাতন প্লাস্টিক কার্ড হারানো গেছে তাদের থেকে সরকারি রাজস্ব জমা দেয়ার কথা বলে ৩শ ৬৮ টাকা হারে আদায় করা হয়।

এজন্য রাজস্ব প্রদানকারী ব্যক্তিকে কোন ধরনের রশিদ দেয়া হয়নি। ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা রাজস্ব খাতে নগদ গ্রহন করে মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জমা দেন।

বাকি ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন পাটোয়ারী, দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন ও অফিস সহকারী জহিরুল ইসলাম হারুন ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নির্বাচন কার্যালয় থেকে জানা যায়, স্মার্টকার্ড গ্রহণকালে সকল নাগরিক পূর্বে ব্যবহৃত লেমেনেটিং করা জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিতে হয়। কিন্তু যেসকল ব্যক্তি পূর্বের কার্ডটি হারিয়েছেন তারা স্মার্টকার্ড গ্রহণকালে নির্ধারিত ফি মোবাইল ব্যাংকিং অথবা সরাসরি ব্যাংকে জমা দিয়ে রশিদ প্রদান করতে হবে। এছাড়া কোন ব্যক্তিকে স্মার্টকার্ড দেয়ার নিয়ম নেই। এক্ষেত্রে কোনভাবেই স্মার্টকার্ড বিতরণ কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তি নগদ টাকা গ্রহন করতে পারবেন না মর্মে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনু বিভাগের পরিচালক আবদুল বাতেন ২০১৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর একটি নির্দেশনা জারী করেন।

ওই নির্দেশনায় বলা হয়, ‘কারো লেমিনেটেড কার্ড হারিয়ে গেলে ব্যাংক চালান অথবা মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে হারানো কার্ডের জরুরী ফি জমা দিয়ে স্মার্টকার্ড নেয়া যাবে। স্মার্টকার্ড বিতরণ কেন্দ্রে কোন ভাবেই নগদ লেনদেন করা যাবেনা। নগদ অর্থ নিয়ে স্মার্টকার্ড বিতরণের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’

অথচ এ আদেশ অমান্য করে দাগনভূঞায় স্মার্টকার্ড বিতরণকালে লেমিনেটেড কার্ডের ফি বাবদ নগদ অর্থ আদায় করা হয়।

দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নে স্মাটকার্ড বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে দেখা যায়, সেখানে একটি পৃথক কক্ষে বসে যে সকল ভোটার পূর্বের লেমিনেটেড কার্ড জমা দিতে পারেননি তাদের থেকে ৩৬৮ টাকা হারে নগদ টাকা আদায় করছেন নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহকারী জহিরুল ইসলাম হারুন।

তিনি জানান, পূর্বের নির্দেশনা বাতিল করে ২০১৮ সালের ২১ জুন পরিচালক আবদুল বাতেন স্বাক্ষরিত আরেকটি নির্দেশনা পাওয়া গেছে। সেখানে মানুষের সুবিধার্থে জরুরী ফি নগদে জমা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে দাবী করেন তিনি।

প্রকৃতপক্ষে ওই পত্রেও নগদ টাকা জমা নেয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন নির্দেশনা ছিলো না। বরং সেখানে স্মার্টকার্ড বিতরণে পুরাতন লেমিনেটেড কার্ড পাঞ্চিং করার জন্য বলা হয়। একইসাথে বিতরণকৃত কার্ডের সাথে পুরাতন কার্ডের হিসাব মিলিয়ে দেখার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়।

এদিকে সংশ্লিষ্ট অপর একটি সূত্র জানায়, দাগনভূঞায় প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার স্মার্টকার্ড বিতরণ হচ্ছে। সেখানে লেমিনেটেড কার্ড জমা না দিতে পারায় প্রতিদিন ১৫০ থেকে ১৮০ ব্যক্তি থেকে ফি বাবদ নগদ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আদায় করে স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। দিনের শেষে ওই টাকা সরকারী খাতে জমা না দিয়ে ভাগবাটোয়ারা করছেন তারা।

নতুন কার্ড বিতরণ ও পুরাতন কার্ডের হিসাব মেলাতে দাগনভূঞার একটি লেমিনেটিং দোকানে ভূয়া কার্ড তৈরী করে পাঞ্চ করে কার্টুন ভর্তি করে রাখেন উল্লেখিত তিন ব্যক্তি। এতে করে যে কোন সময়ে গুনে আসল-নকল কার্ড চিহ্নিত করা না গেলে হিসাবও মেলানো যাবেনা বলে মনে করছেন তারা।

দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন জানান, যে পরিমাণ নগদ টাকা গ্রহন করা হয়েছে সবগুলোই সংশ্লিষ্ট খাতে জমা করা হয়েছে।

কোন আত্মসাতের ঘটনা ঘটেনি দাবী করে তিনি জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা পুরাতন কার্ড জমা না দিয়েই স্মার্ট কার্ড নিয়ে যাচ্ছেন। এদের থেকে ফি আদায় করা যাচ্ছে না। তাহলে পুরাতন কার্ড ও নতুন কার্ডের হিসাব কিভাবে মেলাবেন এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি।

দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার তানিয়া জানান, স্মার্টকার্ড বিতরণে নগদ অর্থ সংগ্রহের কথা আমি শুনেছি। রাজস্ব খাতে আদায়কৃত টাকা কেউ জমা না দিলে তাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।

আরও পড়ুন : লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জরুরি সেবা ও শিল্পকারখানা চলবে

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন পাটওয়ারী জানান, প্রতিদিনই কার্ডের হিসেব মিলিয়ে টাকা জমা দেয়ার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেয়া আছে। সে ক্ষেত্রে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আসলে জমাকৃত কার্ডগুলো গুনে দেখলেই প্রমাণ পাওয়া যাবে।

স্থানীয় বাজার থেকে ভুয়া লেমিনেটিং কার্ড প্রিন্ট করে হিসাব মেলানোর জন্য নির্বাচন অফিসে রাখা হচ্ছে এমন বিষয়টি তার জানা নেই। সরকারী টাকা আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত নন বলেও দাবী করেন তিনি।

ওডি/এএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড