• শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ৩১ বৈশাখ ১৪২৮  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র ‘আলতাফ মাস্টারের ঘাট’

  রাকিব হোসেন আপ্র, লক্ষ্মীপুর

৩১ মার্চ ২০২১, ১৩:১৯
আলতাফ মাস্টারের ঘাটে দর্শনার্থীর ভিড়।
আলতাফ মাস্টারের ঘাটে দর্শনার্থীর ভিড়। (ছবি : দৈনিক অধিকার)

উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরের সম্ভাবনাময় একটি পর্যটনকেন্দ্র আলতাফ মাস্টারের ঘাট। জেলার রায়পুর উপজেলার চরবংশী ইউনিয়নে এটি অবস্থিত। সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন ভ্রমণ পিপাসু মানুষজন। উন্নত মানের খাবার এবং মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে আলতাফ মাস্টারের ঘাট হিসেবে পরিচিত মেঘনা নদীর ছোট্ট এই উপকূলটি।

রায়পুর উপজেলা শহর থেকে গণপরিবহন অথবা ব্যক্তিগত যানবাহনে করে হায়দরগঞ্জ যেতে হবে। এরপর দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে পাকা সড়কে মাত্র ২ থেকে ৩ কিলোমিটারের পথ। পর্যটন সম্ভাবনাময় এই উপকূলে রয়েছে, মেঘনা নদীর বালুময় তীর, দিগন্তজোড়া ফসলি মাঠ, নদীর মাঝখানে ছোট্ট একটি চর আর বেশ কিছু নান্দনিক রেস্তোরা বা খাবার হোটেল। যা পর্যটকদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করছে। প্রতি শুক্র ও শনিবার এখানে হাজার হাজার মানুষের ভিড় জমে। অধিকাংশ পর্যটক মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাস যোগে এখানে আসতে দেখা যায়।

পর্যটকরা জানান, আলতাফ মাস্টারের ঘাট খুবই সুন্দর একটি জায়গা। যাতায়াতে তেমন কোনো অসুবিধা নেই। আর এখানে এসে প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে দেখা যায়। উন্নতমানের খাবার অথবা নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ভালোই। তাছাড়া কলাপাতা হোটেল অ্যান্ড চাইনিজ রেস্তোরার আকর্ষণীয় ডেকোরেশন আসলেই দেখার মতো। রাতের দৃশ্যটা লাল-নীল রঙের আলোতে খুবই ভালো লাগে।

কলাপাতা হোটেল অ্যান্ড চাইনিজ রেস্তোরার মালিক ও ব্যবস্থাপক মো. সবুজ খান জানান, এখানে মাছ ও মাংসসহ সব আইটেমের খাবার পাওয়া যায়। দিনে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বিক্রি হয়। সরকারি ছুটির দিনে এক লাখ টাকাও বেচা-কেনা হয়ে থাকে। এখানে ন্যায্য মূল্যে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়।

লক্ষ্মীপুরের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকেও এখানে শিক্ষা সফরে আসা হচ্ছে। নিজের জেলাকে চেনার আগ্রহ যাদের আছে, তারা এ সুযোগ লুফে নিচ্ছেন।

লক্ষ্মীপুর হলি গার্লস স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম সুমন বলেন, করোনার কারণে প্রায় এক বছর ধরে অনেকটা গৃহবন্দীর মতো ছিলাম। তাই সম্প্রতি স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা রায়পুরের আলতাফ মাস্টারের ঘাটে শিক্ষা সফর করেছি। একদিনের এই সফরে খুবই ভালো সময় কাটিয়েছি সবাই। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল- লক্ষ্মীপুরের দর্শনীয় এই স্থানটি আমাদের শিক্ষার্থীদের জানার ও দেখার সুযোগ করে দেওয়া।

সালমা বেগম দিবা নামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, সত্যিই মনোমুগ্ধকর একটি জায়গা। নিজের জেলায় এত সুন্দর জায়গা আছে, এটা আগে জানা ছিল না। আমরা শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারগণ পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে আনন্দ ভ্রমণ করতে এসেছি।

বর্তমানে সড়কের কিছুটা অংশে খানাখন্দ থাকায় সম্ভাবনাময় এই পর্যটন এলাকায় আসতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে পর্যটকদের। তবে এ সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি এই পর্যটন এলাকাকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন হাওলাদার।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সড়ক উন্নয়নের জন্য প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আশা করি, শীঘ্রই সড়কটির উন্নয়নে কাজ করা যাবে। তবে আলতাফ মাস্টারের ঘাট হিসেবে পরিচিত মেঘনা নদীর ছোট্ট এই উপকূলটি ব্যক্তি মালিকানাধিন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন হাওলাদার।

তিনি আরও বলেন, আলতাফ মাস্টারের ঘাটে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঘুরতে আসে, কারও কোনো অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে না। আমরা সার্বিক বিষয়ে তদারকি করছি। সুপরিকল্পিতভাবে এই পর্যটন এলাকাকে আমরা আরও সমৃদ্ধ করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

পর্যটকদের সরব উপস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে ছোট্ট এই উপকূলটি লক্ষ্মীপুর জেলার একটি অমূল্য সম্পদে পরিণত হতে পারে। এমনটাই মনে করছেন পর্যটন বিশেষজ্ঞরা।

ওডি/জেআই

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড