• বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নিরলস কাজ করছেন এমপি ব্যারিস্টার সেলিম 

  তরিকুল ইসলাম তরুণ, কুমারখালী

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৭:৪৭
জর্জ
সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ (ছবি সংগৃহীত)

উন্নয়নের ছোঁয়ায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী-খোকসা উপজেলাকে বদলে দিতে চান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ। এ লক্ষ্যে নিরলস কাজ করছেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ।

কুমারখালী ও খোকসা উপজেলা মূলত কৃষিপ্রধান এলাকা। অধিকাংশ পরিবার কোনও না কোনোভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত থেকে দেশের খাদ্যের জোগান দিচ্ছেন। আছেন তাঁতী, জেলে, কামার, কুমারসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। হিন্দু, মুসলমান ও ক্যাথলিক খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারীদের এক মিলনমেলা এ দুই উপজেলা। প্রত্যন্ত এই জনপদ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। সৌহার্দ্য ও আন্তরিক পরিবেশের সঙ্গে যুগ যুগ মিলেমিশে বাস করছেন এখানকার অধিবাসীরা। এত কিছুর পরও কৃষিসমৃদ্ধ এই অঞ্চল পিছিয়ে ছিল দীর্ঘ সময়। বর্তমান সরকারের দুই বছরে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ আছে গোটা অঞ্চলে। বিগত যে কোনও সময়ের তুলনায় ব্যারিস্টার সেলিম অলতাফ জর্জের আমলে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চোখে পড়ার মতো।

স্কুল শিক্ষক নুর ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত কেউ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জের মতো এগিয়ে থাকতে পারেননি। অন্যরা এমপি হওয়ার পর আর জনগণের ধারেকাছে আসেননি। কিন্তু সংসদ সদস্য জর্জ সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তিনি প্রতি সপ্তাহে কুমারখালী- খোকসা গ্রামগঞ্জে চষে বেড়ান, সভা-সমাবেশ করেন, উন্নয়ন কাজ তদারকি করেন উপস্থিত থেকে।

সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে স্বাধীনতার পর যারা কুষ্টিয়া-৪, কুমারখালী-খোকসা আসনের সংসদ সদস্য হয়েছিলেন তারা কেউই (কুমারখালী- যদুবায়রা) সংযোগ সেতু নির্মাণের চেষ্টা করেননি। কুমারখালীর পাঁচ ইউনিয়নের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারেনি অন্যান্য মানুষেরা। ফলে অসহায় মানুষগুলো বছরের পর বছর দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে চলছেন।

অবহেলিত অঞ্চল ও মানুষের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে বর্তমান সংসদ সদস্য জর্জের রাজনীতিতে আগমন ঘটে। তিনি কুমারখালী-খোকসা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে নিরলস কাজ করছেন। এখন মাইলের পর মাইল আর হাঁটতে হয় না। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক তৈরি ও উন্নয়নমূলক কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন আছে। নির্মিত হচ্ছে ৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুল প্রত্যাশিত শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতু। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচরের নামে নামকরণ করা হচ্ছে এই সেতুর। যা কুমারখালীর সাথে দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত করবে।

শুধু তাই নয় এখন উপজেলার ৯৮% এলাকায় পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ। যার কারণে এখন তথ্যপ্রযুক্তিতেও এগিয়ে চলেছে খোকসা-কুমারখালী উপজেলা। সবার হাতে মোবাইল থাকায় প্রবাসে স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক রক্ষা করছেন যোগাযোগ।

কুমারখালী বাসিন্দা মো. রাসেল হোসেন বলেন, বর্তমানে কুমারখালী-খোকসার মানুষ অনেক শান্তিতে বাস করছেন। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন নেই। কোনও সংখ্যালঘুর সম্পত্তি কেউ দখল করে ভোগ করতে পারছে না। এমপি জর্জ কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

তিনটি প্রধান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বর্তমান সংসদ সদস্য। কুমারখালী-যদুবায়রা সংযোগ সেতু, স্কুল-কলেজ সরকারীকরণ, সাধারণ মানুষের শান্তিতে বসবাসের ব্যবস্থা। গত দুই বছরে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক সহযোগিতায় গড়াই তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পেরেছেন। যা চাপড়া এবং খোকসা পর্যন্ত চলমান আছে। এর বাইরে অসহায় দুস্থদের চিকিৎসার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রায় ২ কোটি টাকার চেক বিতরণ করেছেন। বিভিন্ন স্কুলে প্রায় দুই কোটি টাকার বেঞ্চ ও মাল্টিমিডিয়া বিতরণ করেছেন। আড়াই কোটি টাকার ব্রিডিং নির্মাণ করেছেন।

প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি আমলে ৬০-৭০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৯০ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। সংসদ সদস্য জর্জ গত দুই বছরে উন্নয়ন কাজ রেকর্ড শুরু হয়েছে যা স্বাধীনতাপরবর্তী কুমারখালী-খোকসার উন্নয়নে সর্বোচ্চ ব্যয়। এছাড়া দুর্যোগ মন্ত্রণালয়, সড়ক ও জনপথ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্বাস্থ্য ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। দুর্গম এলাকায় পাকা রাস্তা ছিল না। বর্তমানে প্রায় সব রাস্তাই পিচ ঢালাই করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি এমপি জর্জের কারণেই আজ আমরা উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা পেয়েছি।

এ ব্যাপারে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমান সরকারের উদ্যোগে কুমারখালী উন্নয়নের জোয়ার বইছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের নির্দেশনায় সরকারি বিধি মোতাবেক এলজিএসপি, এডিপি, হতদরিদ্র, টিআর, কাবিখাসহ উন্নয়নের কার্যক্রম চলমান আছে। এছাড়া সার্বিক আইনশৃঙ্খলাও ভালো আছে উপজেলায়।

আরও পড়ুন : আবেগ, অনুভূতি আর বাস্তবতার মিশেল ঢাকাস্থ কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরাম

কুমারখালী উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, বর্তমান সরকার গ্রাম ও শহরের ব্যবধান কমিয়ে আনতে নিরলস কাজ করছে। সংসদ সদস্যের প্রচেষ্টায় অনেক কাজ হচ্ছে। এমপির প্রকল্পের কোটার বাইরেও তিনি ব্যক্তিগত তদবির করে এলাকার উন্নয়নে অনেক বরাদ্দ আনতে সক্ষম হয়েছেন বলে স্বীকার করেন তিনি।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড