• সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শঙ্খ চরে লাউয়ের বাম্পার ফলন, বিক্রি হচ্ছে পানির দরে

  কামরুল ইসলাম মোস্তফা, চন্দনাইশ

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫:১৪
শঙ্খ চরের লাউ
বিক্রির জন্য বাজারে শঙ্খ চরের লাউ (ছবি : দৈনিক অধিকার)

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খরস্রোতা শঙ্খ নদী তীরবর্তী চরে সারা বছর জুড়েই বিভিন্ন শাক-সবজি উৎপাদন হয়। এ অঞ্চলে শিল্পকারখানা না থাকায় শঙ্খ নদী তীরবর্তী লোকজন শাক-সবজি চাষের ওপর নির্ভরশীল। যাদের নিজস্ব জমি নেই তাঁরাও অন্যের জমি লিজ নিয়ে শাক-সবজি চাষ করেন। এতে শত শত পরিবার সচ্ছল ভাবে জীবিকা নির্বাহ করছে। শঙ্খ চরে চলতি রবি মৌসুমে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি লাউয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। বছরের সব সময়ে লাউয়ের চাষ করা যায়। স্বল্প জমিতে অধিকহারে লাউয়ের চাষ করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করলেও দাম কম থাকায় চাষিরা কিছুটা হতাশ।

শীতের সময় লাউ চড়া দামে বিক্রি হলেও চলতি মৌসুমে চাহিদার তুলনায় লাউয়ের উৎপাদন বেশি হওয়ায় চাহিদা না থাকায় অল্প দামে বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে চাষিদের। দক্ষিণ চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ পাইকারি সবজি বাজার দোহাজারী রেলওয়ে ষ্টেশন সংলগ্ন বাজারে প্রতিদিন সকালে চাষিদের থেকে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি লাউ কিনে ট্রাক বোঝাই করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করেন পাইকারেরা। তবে খেত থেকে লাউ তুলে বাজারজাত করার সময় চাষিদের চেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা।

বেশ কয়েকজন চাষির সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, গত বছর শীতের সময় চাষিরা বাজারে এনে খুচরা মূল্যে আকারভেদে প্রতি পিস লাউ বিক্রি করতেন ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ২০ টাকার নিচে কখনো লাউ বিক্রি করেননি। কিন্তু বর্তমানে প্রতিটি লাউ বিক্রি করছেন ৪ থেকে ৫ টাকা। আবার অনেক সময় লাউ অবিক্রিতও থেকে যাচ্ছে।

দোহাজারী ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মৃণাল কান্তি দাশ জানান, শঙ্খ চরে ১৩ হেক্টর জমিতে নাইচগ্রীণ, হাইগ্রীণ, লংগ্রীণ, মিট লং, রাজকুমার, শ্রাবন্তী, সুইটি, রাজকন্যা নামীয় হাইব্রীড জাতের লাউ চাষ করেছেন চাষিরা।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রাণী সরকার দৈনিক অধিকারকে বলেন, বাজারে লাউ বাদে অন্যান্য সবজিও বেশি পাওয়া যায়। এ কারনে এসময় লাউয়ের দাম কমে যাচ্ছে। বাজারে চাহিদার তুলনায় যোগান বেশি হলে দামটা কমে আসবে এটাই স্বাভাবিক।

প্রতি পিস লাউ ৭ থেকে ৮ টাকা বিক্রি করলেও কৃষকদের লোকসান হবে না উল্লেখ করে তিন বলেন, অন্য ফসল আবাদে যে পরিমান সার লাগে তার চেয়ে অনেক কম সার প্রয়োগ করেই লাউয়ের ভালো ফলন পাওয়া যায়। এছাড়া অন্য ফসলের ক্ষেতে নিড়ানি দেওয়াসহ অন্যান্য পরিচর্যায় বেশ টাকা খরচ হলেও লাউগাছ একবার মাচায় উঠে গেলে আগাছা দমনে কোনও নিড়ানী লাগেনা। এ কারণেও লাউ চাষ তুলনামূলক লাভজনক একটি ফসল।

চন্দনাইশ উপজেলায় ১শ ৬০ হেক্টর জমিতে লাউয়ের আবাদ হয়েছে উল্লেখ করে এই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, লাউ ছিদ্রকারী মাছি পোকার আক্রমণ প্রতিরোধ করতে লাউ ক্ষেতে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এ জন্য চলতি রবি মৌসুমে উপজেলার ৪টি স্থানে ৪বিঘা জমিতে লাউ ও ৪ বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়া ক্ষেতে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ প্রদর্শনী রয়েছে।

ওডি/

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড