• মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শরীয়তপুর মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পদ্মার পানি বৃদ্ধি, দিশেহারা কৃষক

  শরীয়তপুর প্রতিনিধি

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৩৮
শরীয়তপুর
চরাঞ্চল ও নিম্মাঞ্চল প্লাবিত

শরীয়তপুর মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে চরাঞ্চল সহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কয়েক দিন পূর্বে বন্যায় জেলার ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এই ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই আবার ও পানিতে আগাম ফসলে ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা কৃষক।

২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার শরীয়তপুর কৃষি বিভাগ ও সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে,পদ্মা নদীর পানি গত ২/৩দিনে ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে চরাঞ্চল ও নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পদ্মা নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ও ২/৩ ফুট বৃদ্ধি পেয়ে জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলা চরাঞ্চল ও নিন্মাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।

নড়িয়া ইশ্বরকাঠি গ্রামের কৃষক জলিল বলেন, কিছুদিন আগে বন্যার পানি চলে যাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে পাই। এরপর ধারদেনা করে জমিতে শাক সবজি আমন মরিচ ও মাসকলাই রোপণ করি। হঠাৎ করে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে আবারও আগাম ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। এখন কিভাবে বউ ছেলে মেয়ে নিয়ে বাঁচবো চিন্তা করে কুল পাইনা।

চলতি মৌসুমে বর্ষার শুরুতেই বন্যায় জেলার ১৯ হাজার ৭৬৯জন চাষির ৮৮২ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, রোপা আমন, আউশ, বোনা আমন পাট শাকসবজি, আখ পান, ফলবাগান বিনষ্ট হয়েছে।

এতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১২ কোটি ১৮লাখ ৬০ হাজার টাকার ফসল। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ফের বন্যার পানিতে আমন শাকসবজি মাসকলাই ও চারা মরিচের জমি পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে ২/৩ দিন নিমজ্জিত থাকাতে সকল ফসল সমূলে বিনষ্ট হয়ে যাবে।

শরীয়তপুরের দিশেহারা কৃষকেরা বার বার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে হিমশিম খাচ্ছে। যে সব কৃষকদের ফসলের উপর পরিবারের ব্যয় বহন করতে হয়। তাদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। ব্যাংক থেকে লোন করে ফসল করে বার বার অনাবৃষ্টি ও বন্যার পানিতে বিষ্ট হলে এ ক্ষতি পোষিয়ে উঠা দুসাধ্য। পাশাপাশি জেলার মানুষের তরিতরকারি ও শাকসবজির অভাব দেখা দিবে।

বন্যার পরে যে সব জমিতে শাকসবজি রোপন করা হয়েছে ধীরে ধীরে তা বাজার জাত করা শুরু হয়েছিল। তা বিনষ্ট হলে তরি তরকারী পাওয়া কষ্ট হবে।

এ ব্যাপারে জাজিরার কৃষক নুরুল আমিন বলেন, বার বার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা আমাদের জন্য কষ্টকর। কয়েকদিন পূর্বে বন্যায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। আবার নুতন করে ফসল করেছি। আবার পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত হয়েছে। এখন মহা মসিবতে পড়েছি।

নড়িয়া এলাকার কৃষক সুজন খান বলেন, ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে এদিকে ফসল করছি। আরেক দিকে অনাবৃষ্টি ও বন্যায় নষ্ট হয়ে যায়। এখন আমরা কি করবো। আমরা দিশেহারা।

আরও পড়ুন : বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ঢল

নড়িয়া কৃষি কর্মকর্তা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান দৈনিক অধিকারকে বলেন,কয়েকদিন পূর্বে বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পুনরায় নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফসলী জমি প্লাবিত হয়েছে। ২/৩দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801703790747, +8801721978664, 02-9110584 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড