• সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

তিন কিশোর নিহতের ঘটনায় সহকারী পরিচালকসহ গ্রেপ্তার ৫

  যশোর প্রতিনিধি

১৫ আগস্ট ২০২০, ১৭:২৪
সংবাদ সম্মেলন
সংবাদ সম্মেলনকালে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেনসহ অন্যরা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

দুই পক্ষের সংঘর্ষে যশোর শিশু উন্নয়নকেন্দ্রের (বালক) তিন কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় পাঁচ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক (সহকারী পরিচালক) আবদুল্লাহ আল মাসুদসহ পাঁচজনের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে যশোরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক ছাড়াও গ্রেপ্তার অপর চারজন হলো- সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মাসুম বিল্লাহ, সাইকোসোশ্যাল কাউন্সিলর মুশফিকুর রহমান, ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর শাহানূর আলম এবং কারিগরি প্রশিক্ষক ওমর ফারুক।

পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানান, শিশু উন্নয়নকেন্দ্রের তিন কিশোর নিহত হওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রের ১০ জনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর মধ্যে পাঁচ কর্মকর্তার জড়িত থাকার তথ্য বেরিয়ে এসেছে। যে কারণে তাদের কিশোর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় নিহত কিশোর পারভেজ হাসানের বাবা ও খুলনার দৌলতপুর উপজেলার মহেশ্বরপাশা পশ্চিম সেনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রোকা মিয়া যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় শিশু উন্নয়নকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তবে এজাহারে আসামিদের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

এ দিকে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল্লাহ আল মাসুদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

নিহত কিশোররা হলো- বগুড়ার শিবগঞ্জের তালিবপুর পূর্বপাড়ার নান্নু প্রামাণিকের ছেলে নাঈম হোসেন (১৭), একই জেলার শেরপুর উপজেলার মহিপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রাসেল ওরফে সুজন (১৭) এবং খুলনার দৌলতপুর উপজেলার মহেশ্বরপাশা পশ্চিম সেনপাড়ার রোকা মিয়ার ছেলে পারভেজ হাসান (১৭)। এছাড়া যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আহত আরও ১৫ কিশোর।

পুলিশ সুপার বলেন, ৩ আগস্ট কেন্দ্রের প্রধান নিরাপত্তা কর্মী নুরুল ইসলাম কয়েকজন কিশোরকে তার মাথার চুল কেটে দিতে বলেন, কিন্তু তারা তা দেয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নুরুল ইসলাম কয়েক কিশোরের বিরুদ্ধে মাদকসেবন করার অভিযোগ দেন কেন্দ্রের পরিচালকের কাছে। এই অভিযোগ করায় ওই কিশোররা ক্ষুব্ধ হয়ে নুরুল ইসলামকে মারপিট করে। এরপর কেন্দ্রের কর্মকর্তারা সিসিটিভির ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হন ১৩ কিশোর ও নুরুল ইসলাম মারপিটের সাথে জড়িত।

এরপর বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে কর্মকর্তারা ওই ১৩ কিশোরকে তাদের কাছে ডেকে নেন। সেই সাথে ডেকে আনেন তাদের অনুগত ৭ থেকে ৮ বন্দি কিশোরকে। পরে তাদের দিয়েই ওই ১৩ কিশোরকে মারপিট করা হয়। ওই সময় হাত-পা বেঁধে মুখে গামছা ভরে দিয়ে তাদের উপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়।

নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, মারপিটের সময় একজনকে জানালার ভেতর দিয়ে হাত ঢুকিয়ে অপর পাশ থেকে দু’জন তাকে টেনে ধরে রাখে। এরপর পা থেকে কোমর পর্যন্ত বেদম পেটানো হয়। কর্তৃপক্ষের কয়েকজনের নির্দেশনা ছিল, সেন্সলেস না হওয়া পর্যন্ত পেটানোর। বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলে এমন অভিযোগও আমরা পেয়েছি।

আরও পড়ুন : পুকুরে গোসলে গিয়ে ২ শিশুর মৃত্যু

তিনি বলেন, জড়িতদের আটক করা হয়েছে, তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। এরপর রিমান্ড আহ্বান করা হবে। মঞ্জুর হলে ঘটনার ব্যাপারে আরও তথ্য জানা যাবে।

সংবাদ সম্মেলনকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) তৌহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) গোলাম রব্বানীসহ পুলিশ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড