• শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মুন্সীগঞ্জে বিদ্যুতের ভৌতিক বিলে দিশেহারা গ্রাহক

  রিয়াদ হোসাইন, মুন্সীগঞ্জ

০৪ জুন ২০২০, ২১:২১
মুন্সীগঞ্জ
ছবি : দৈনিক অধিকার

মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলায়  পল্লী বিদ্যুতে ভৌতিক বিলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ বিল অসঙ্গিতপূর্ণ, এ বিষয়ে অভিযোগ করে কোনো সুরাহা না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন গ্রাহকরা।  করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া এসব মানুষের উপর বাড়তি বিদ্যুৎ বিল চাপিয়ে দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এ যেনো মরার উপর খাড়ার ঘাঁ।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির টংগিবাড়ী উপজেলা জোনাল অফিসে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাহকরা কয়েক মাসের অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এসময় ওই পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মাধব নাথে সাথে গ্রাহকরা কথা বলতে চাইলেও তাদের কোনো পাত্তাই দেয়নি এ কর্মকর্তা ।

গ্রাহকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, গত কয়েক মাস টংগিবাড়ী  উপজেলার কোনো বাড়িতেই পল্লী বিদ্যুতের কোনো মিটার রিডার আসেননি রিডিং নিতে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে না আসার সুযোগ নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ তাদের মনগড়াভাবে অসংখ্য গ্রাহকের বিল তৈরি করেছেন। বিগত কয়েক মাসে মিটারে রিডিং কম থাকলেও বিলের কাগজে তা বেশি লেখে গ্রাহকদের হাতে বিল ধরিয়ে দেয়া হয়েছে । যা সাধারণ গ্রাহকদের পক্ষে পরিশোধ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

উপজেলার আব্দুল্লাহপুর এলাকার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক আব্দুর রাহিম বলেন, বিগত দুই মাসে ৫৪৫ টাকা বিল আসলেও একই গতিতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করার পর এ মাসে তা চার-পাঁচ গুন বৃদ্ধি পেয়ে বিল এসেছে ১ হাজার ৩২ টাকা। এ নিয়ে অফিসে বার বার বললেও টাকা দিয়ে চলে যেতে বলছে। শুনেছিলাম করোনার জন্য বিদ্যুৎ বিল মাশুল ছাড়া পরে দিলেও চলবে এখন দেখছি আগের তুলনায় বেশি দিতে হচ্ছে।

হাসাইল-বানারী ইউনিয়নের গ্রাহক মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমার নামে আগে স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল আসত ৪’শ থেকে ৫’শ টাকা। অথচ  মে  মাসে তা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে বিল এসেছে ১ হাজার ৬৩ টাকা।

সোনারং-টংগিবাড়ী ইউনিয়নের মো. মোতালেব দেওয়ান বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাবে জনগণ অর্থনৈতিক সংকটে আছেন। এর মধ্যে সঠিক বিদ্যুৎ বিল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাও আবার অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এমন কর্মকাণ্ডে আমরা হয়রানির স্বীকার হচ্ছি। প্রতি মাসে গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বিল আসলেও এই মাসে তা কয়েকগুণ বেড়ে ৯১২ টাকা বিল এসেছে।

আগের তুলনায় চলতি মাসে বিদ্যুৎ বিলে অতিরিক্ত টাকা লিখা হয়েছে বলে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার বিল দিতে আসা শতাধিক গ্রাহকরা জানান।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির টংগিবাড়ী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম)  মাদব নাথ বলেন, বিগত বছরের একই মাস অনুযায়ী আমরা বিল করেছি।  পাশাপাশি  লকডাউনের কারণে মানুষ বাড়িতে থাকায়  বিদ্যুৎ বেশি খরচ হয়েছে যার ফলে এই মাসে বিদ্যুৎ বিল বেশি হইতে পারে। তবে , গ্রাহকদের সাথে অসাধাচরনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি।

মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. শফিউর আলম বলেন, মুন্সীগঞ্জ জেলায় করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে রিডিং ছাড়াই  আনুমানিকভাবে বিল তৈরি করা হয়েছে। হয়তো কিছু বিল অস্বাভাবিক হয়েছে। আমাদের কাছে যারা অভিযোগ করেছে তাদের বিল আমরা সংশোধন করেও দিয়েছি। আমরা এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি, তারা সবসময়ই সমন্বয় করে বিদ্যুৎ বিলের ভুল সংশোধনের কাজ করে চলছে।

টংগিবাড়ী জোনাল অফিসের ডিজিএম মাধব নাথের অসাধাচরনের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ডিজিএম যদি গ্রাহকদের সাথে অবহেলা বা দুর্ব্যবহার করে থাকে তাহলে সে মোটেও তা ঠিক করেনি। আমি তার সাথে এ বিষয়ে কথা বলবো।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড