• বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সামাজিক সেবা সংগঠন ও দৃষ্টান্ত স্থাপন করা একজন মানবিক মানুষ

  ফরিদ মিয়া, টাঙ্গাইল

২৩ মে ২০২০, ১২:৫৯
টাঙ্গাইল
মোজাম্মেল হোসেন তালুকদার

নাম মোজাম্মেল হোসেন তালুকদার। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ধুলটিয়া গ্রামে তার জন্ম। ছোট বেলা থেকেই গ্রামের সবুজ শ্যামল পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। মানুষের দুঃখ কষ্ট গুলো দেখেছেন খুব কাছ থেকে। তার পিতা আব্দুস সবুর তালুকদার ছিলেন গ্রামের খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের বন্ধু। বাবার মৃত্যুর পর তিনি তার নিজ আদর্শে কিভাবে গ্রামের সহজ সরল মানুষদের পাশে দাঁড়ানো যায় তা নিয়ে ভাবতে থাকেন। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে দারিদ্র্যতার সাথে শুরু হয় তার সংগ্রামী পথ চলা। দারিদ্র্যতার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করে সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মানুষ গুলোর মুখে হাসি ফোটাতে ১৯৯৮ সালে গড়ে তোলেন “সামাজিক সেবা সংগঠন” নামক একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান। তার দক্ষতা, মানবিকতা, সমাজের প্রতি ভালবাসা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। খুব অল্প সময়ে স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠে প্রতিষ্ঠানটি।

এক সময় পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর নজর কারেন তিনি। তাদের সহযোগিতায় অবশেষে শাখা অফিস গুলোর মাধ্যমে সারাদেশে বিস্তৃত হতে থাকে সামাজিক সেবা সংগঠনের ঋণ কার্যক্রম। তখন থেকে আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। সহজ শর্তে ও স্বল্প মুনাফায় ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করার পাশাপাশি জনকল্যাণ মূলক কাজ গুলো আন্তরিকতার সাথে সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দেন তিনি। তার দানশীলতা, উদারতা, সমাজের মানুষের প্রতি ভালবাসা তাকে পরিচয় এনে দিয়েছেন “তিনি একজন মানবিক মানুষ”।

সম্প্রতি মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষ গুলোর ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি পাথরাইল ইউনিয়নের ২০ টি গ্রামের বেশ কিছু হত দরিদ্র মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে। শুধু তাই নয় কেউ যেন ঈদের আনন্দ থেকে বি ত না হয় সে লক্ষ্যে ঈদ উপহার পৌঁছে দেয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস রোধে সচেতনতা মূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে লিফলেট, ব্যানার ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জনগণকে প্রতিনিয়ত সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

এছাড়াও সামাজিক সেবা সংগঠনে কর্মরত প্রায় ৪৯৫ জন স্টাফদের বৈশাখী বোনাস সহ মার্চ ও এপ্রিল মাসের পুর্নাঙ্গ বেতন প্রদান করা হয়েছে। স্টাফদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে ২৬ মার্চ থেকে ঈদের ছুটিসহ ২৯ মে পর্যন্ত ছুটি বর্ধিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয় চলতি মে মাসের ঈদ বোনাসসহ পুর্নাঙ্গ বেতন দেয়া হয়েছে। যেখানে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বেতনাদির জন্য কর্মীদের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে হচ্ছে সে দুঃসময়ে কর্মীদের পাশে থাকার এমন দৃষ্টান্ত সত্যিই বিরল বলে মনে করছেন অনেকেই।

সরকারের সাথে একযোগে করোনা মোকাবেলার অংশ হিসেবে সামাজিক সেবায় কর্মরত চাকুরীজীবীদের বেতন থেকে একদিনের বেতন কর্তন করে সরকারের ত্রাণ তহবিলে ২লাখ ২২ হাজার আটশত নব্বই টাকা জমা করা হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় পর্যায়ে ৬ লাখ আশি হাজার সত্তর টাকার ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ কর্তা হয়েও একজন সাধারণ স্টাফকে ফোন করে তার খোঁজ খবর নিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মোজাম্মেল হোসেন তালুকদার। যা বর্তমান সময়ে সত্যিই অকল্পনীয়। তার এমন মহানুভবতা, দানশীলতা, বেকারত্ব মোচনের প্রতি দৃঢ়তা এবং মানবিক কাজগুলো অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য দৃষ্টান্ত হওয়া উচিৎ বলে মনে করছেন জেলার সুশীল সমাজ।

এছাড়াও সমাজ সেবার অংশ হিসেবে সামাজিক সেবা সংগঠনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন, রাস্তাঘাট, মসজিদ, চিকিৎসা, বাল্য বিবাহ রোধ, খেলাধুলা, শিক্ষা বিস্তার ইত্যাদি জনসেবা মূলক কাজ সম্পাদন করা হচ্ছে।

শিক্ষার প্রতি গভীর শ্রদ্ধার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দিতে “উৎসাহ ভাতা” এবং প্রতিষ্ঠানে যে সকল ফিল্ড অফিসার মাস্টার্স পাশ করেছে তাদের মাসিক বেতনের সাথে বাড়তি “শিক্ষা ভাতা” দেয়া হচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা মানবসেবা তথা জনকল্যাণ মূলক কাজ গুলো সম্পাদন করায় জেলায় প্রশংসার জোয়ারে ভাসছে সামাজিক সেবা সংগঠন নামক এই প্রতিষ্ঠানটি। আর এসব কিছু যার দেশপ্রেম, আন্তরিকতা ও মানবিক চিন্তা চেতনার কারণে পরিচালিত হচ্ছে তিনি হচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মোজাম্মেল হোসেন তালুকদার।

তার নিজ এলাকাবাসী জানান, তিনি একজন সাদা মনের মানুষ। গ্রামের প্রতিটি মানুষের প্রতি তার রয়েছে অকৃত্রিম ভালবাসা। সুখে দুখে তিনি আমাদের পাশে দাঁড়ান। আমরা তাকে ভালবাসি, তিনি আমাদের ভালবাসেন।

এ ব্যাপারে সামাজিক সেবা সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক মোজাম্মেল হোসেন তালুকদার জানান, দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এটা আমার ঈমানি দায়িত্ব। আমার গ্রাম, সমাজের মানুষ ও কর্মরত সকল স্টাফ আমার পরিবারের একটি অংশ। আর এমন দুর্যোগ কালীন সময়ে আমার পরিবারের কেউ অনাহারে থাকবে সেটা হতে পারেনা। আর তাই চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে এই করোনা কালীন সময়ে মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারি। সামাজিক সেবা সংগঠন সবসময় মানুষের পাশে ছিল এবং থাকবে। আমি সাধারণ মানুষের মুখের হাসিতেই হাসতে চাই।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: +8801703790747, +8801721978664, 02-9110584 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড