• বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ৯ আষাঢ় ১৪২৮  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

করোনা জয় করলেন বৃদ্ধা মা ও তার ছেলে

  আরেফি রিয়াদ, মুন্সীগঞ্জ

২৭ এপ্রিল ২০২০, ১৫:১৯
মুন্সীগঞ্জ
করোনা জয় করা বৃদ্ধা মা ও তার ছেলে

হাহাকারের মাঝে আশার আলো। মৃত্যুর মাঝে জীবনের জয়গান। করোনার আক্রমণে রোজই হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে প্রতিদিন। প্রায় প্রতিদিন সকাল থেকেই মৃত্যুর খবরে বাড়ছে উদ্বেগ, আশঙ্কা। এই পৃথিবী আদৌ আর সুস্থ হবে তো! এমন সময় এক টুকরো স্বস্তির খবর টানা ১৭ দিন করোনার সঙ্গে লড়াই করে যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা । তবে, তিনি একাই সুস্থ হয়নি, করোনা আক্রান্ত ছেলেকে সুস্থ করে একসঙ্গে আইসোলেশন ইউনিট থেকে বাড়ি ফিরেছেন।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন সেন্টার থেকে করোনা আক্রান্ত মা ও ছেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেন। তবে, করোনা জয় করা বৃদ্ধা গীতা রানীকে গত শনিবারই আইডিসিআর থেকে সুস্থ হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং আজ তার ছেলে অরুণ কুমার পালকে।

করোনা জয় করা গীতা রানী পাল (৭০) ও তার ছেলে অরুণ কুমার পাল (২৮) সিরাজদিখান উপজেলার আবিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

গীতা রানী পাল বলেন, গভীর মনোবল, আত্মবিশ্বাস ও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুসারে কাজ করায় দ্রুত সেরে উঠেছেন তিনি ও তার ছেলে।

এর আগে গত ১০ এপ্রিল থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ছিলেন তারা। আক্রান্ত ওই বৃদ্ধার সংস্পর্শে এসে তার ছেলে অরুণ ও আরো এক ছেলের বউ করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।

গীতা রানী ও তার ছেলে অরুণের সাথে মুঠোফোনে কথা বলে জানাযায়, চলতি মাসের ৩ তারিখ জ্বর-সর্দি নিয়ে স্থানীয় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে যান গীতা রানী। পরবর্তী ৭ তারিখ স্থানীয়দের পরামর্শে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে তার নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠায় । ১০ এপ্রিল ঢাকা থেকে ফোনের মাধ্যমে জানানো হয় তার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। পরদিন থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আইসোলেশন সেন্টারে ছিলেন তারা।

করোনা জয়ী ছেলে অরুণ পাল জানান, প্রথমে তার মাকে একা আইসোলেশনে আনা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সে তার মায়ের সাথে হাসপাতালে চলে আসেন। ১৩ এপ্রিল তার মা এবং তারসহ পরিবারে আরো ৬ জনের সোয়াব নিয়ে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। পর দিন জানতে পারেন সে ও তার এক ভাবি আক্রান্ত হয়েছেন। তারা সাহস হারাননি। ভাবিকে হোম কোয়ারেন্টিনে থেকে চিকিৎসা নেন। আমরা মা-ছেলে হাসপাতালে থাকি। সেখানে মা মনোবল হারাননি। আমিও মাকে সব সময় সাহস দিয়েছি। দু’বেলা গরম পানির ভাপ নিয়েছি। খাওয়া থেকে সব কাজে গরম পানির ব্যবহার করেছি। প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি জাতীয় ফলমূল খাওয়ানো হয়। এতে করে সহজেই মা এবং আমি সেরে উঠি।

গীতা রানী ও তার ছেলে মনে করেন, গভীর মনোবল, আত্মবিশ্বাস ও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুসারে কাজ করলে যে কোন রোগী করোনা ভাইরাস থেকে দ্রুত সেরে উঠতে পারে।

সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.বদিউজ্জামান বলেন, ৭০ বছরের ওই নারীর পাশাপাশি তার ছেলে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ আছে। পরপর দুটি রিপোর্ট তাদের নেগেটিভ এসেছে। তাই তাদের আজ ছাড়পত্র দিয়ে আইসোলেশন ইউনিট থেকে বিদায় জানানো হয়। এছাড়া গীতা রানীর এক পুত্রবধূরও করোনা শনাক্ত হয়। তিনি বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে তিনি ভালো আছেন। আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। তার একটি রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। আগামী ২৯ এপ্রিল তার নমুনা সংগ্রহ করে আবার আইইডিসিআরএ পাঠানো হবে ।

এই চিকিৎসক আরো বলেন, আমরা তাদের চিকিৎসায় ওষুদের পাশাপাশি ভিটামিন সি, গরম পানির ভাপ, গরম পানির গড়গড়া ও ফলমূল খাবারের ব্যাপারে বিশেষ জোড় দেই। তারাও তা মেনে চলে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় মা- ছেলে দুজনেই সাহসী ও দৃঢ় মনোবলের মানুষ। তাই তারা দ্রুত সেরে উঠেছেন।

মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আইইডিসিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী এই নারী ও তার ছেলে এখন পুরোপুরি সুস্থ এবং করোনা মুক্ত। ৭০ বছরের নারী ও তার ছেলে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে করোনাকে জয় করেছে। ঘটনাটি সকল অসুস্থদের বিশেষভাবে শক্তি যোগাচ্ছে। এটি হতে পারে আরেকটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। অসুস্থদের মনে সাহস ও আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে। আজকে আনুষ্ঠানিকভাবে গীতা রানীর ছেলে এবং এরআগে গত শনিবার গীতা রানীকে সুস্থ হওয়ার বিষয়টি ঘোষণা করা হয়।

তিনি আরো বলেন, এই বৃদ্ধার ছেলের বউ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টিনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনিও ভাল আছেন।

সিভিলর সার্জন অফিস সূত্রে জানাযায়, এ পর্যন্ত জেলা থেকে ৬৩৪ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮২টির ফলাফল পাওয়া গেছে। এতে মৃত ৬ জন সহ ৭৫ জনের ফলাফল পজিটিভ পাওয়া যায়। এরমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন দুইজন।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড