• বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মুজিব পাগল বাদশার কাণ্ড!

  শাকিল মুরাদ, শেরপুর

১৬ মার্চ ২০২০, ১৩:৩৭
নালিতাবাড়ী
চিত্রশিল্পী চিত্রকর গোলাম বাদশা

দেশে এখনো কিছু মুজিবভক্ত রয়েছেন যাদের চিন্তা-চেতনায় শুধুই বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এমনি এক মুজিবভক্ত শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পৌর শহরের গড়কান্দা মহল্লার বাসিন্দা পেশাদার চিত্রশিল্পী চিত্রকর গোলাম বাদশা। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করতে নিজের অবস্থান থেকে নিজ উদ্যোগে বাদশা মিয়া উপজেলার ১০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর লোগো আঁকার কাজ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লোগোটি এঁকেছেন। 

মুজিব পাগল গোলাম বাদশা বলেন, বর্তমান সরকার ঘোষিত মুজিব জন্মশতবার্ষিকীতে নিজ উপজেলা নালিতাবাড়ীর ১০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেওয়ালে আমি বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর লোগো আঁকার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নালিতাবাড়ী পৌর শহরের গড়কান্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেওয়ালে জন্মশতবার্ষিকীর লোগো আঁকার মাধ্যমে কাজ শুরু করেছি। আমার এ কাজে মুগ্ধ হয়ে অনেকেই আমাকে উৎসাহ-উদ্দীপনা দিয়ে যাচ্ছেন। 

বাদশা আরও জানান, ছোটকালে বাবাকে হারিয়ে বিভিন্ন কারণে তিনি লেখাপড়ায় বেশি দূর যেতে পারেননি। মাত্র ৮ম শ্রেণি পাসের পরেই তিনি পেটের দায়ে আয়ের উদ্দেশ্যে নেমে পড়েন। কোনো পুঁজি না থাকায় সামান্য পুঁজির ব্যবসা চিত্র আঁকার প্রতি ঝুঁকেন তিনি। বর্তমানে নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের সামনে ‘চিত্রকর বাদশা’ নামে একটি ছোট দোকান নিয়ে চিত্র আঁকার কাজ করছেন। সেখান থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে অতিসাধারণভাবে সংসার খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন। আর ওখান থেকেই কিছু টাকা বাঁচিয়ে তা দিয়ে বিনা পারিশ্রমিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজ খরচে ও নিজের হাতে তুলির ছোঁয়ায় মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর লোগো এঁকে যাচ্ছেন।

চিত্রশিল্পী বাদশার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নালিতাবাড়ী শহরতলীর মৃত আব্দুল মালেক ও মৃত হালেমন নেছার ৫ ছেলে ও ৩ মেয়ের মধ্যে গোলাম বাদশা ৭ম সন্তান। ১৯৮২ সালে জন্ম নেওয়া এ বাদশা সাড়ে ৩ বছর বয়সে তার বাবাকে হারান। পরে তার চাচা বর্তমানের গোলাম বাদশার নাম রেখেছিলেন গোলাম আজম। বাবা হারা এ গোলাম আজম আস্তে আস্তে বড় হতে থাকেন। তৎকালীন সারাদেশব্যাপী রাজাকার গোলাম আজমের ফাঁসির দাবি ওঠে। লোক মুখে শুধু গোলাম আজমের ফাঁসির দাবি ও তীব্র নিন্দার আলোচনা শুরু হয়। 

সকলের সঙ্গে নালিতাবাড়ীর শিশু গোলাম আজমেরও তার প্রতি ঘৃণা জন্ম নিতে থাকে। পরে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক নিজের নাম গোলাম আজম পরিবর্তন করে তার নাম রাখেন গোলাম বাদশা। এরপর থেকে তিনি আজ চিত্রকর গোলাম বাদশা হিসেবে পরিচিত এবং তার সকল কাগজপত্রেও গোলাম বাদশা হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি শুধু তাঁর কৃতকর্মের খবর, ভিডিও, বই পড়ে যতটুকু জেনেছি তাতেই তাঁর প্রতি আমি অন্ধভক্ত হয়ে পড়েছি। বঙ্গবন্ধুকে দেখতে না পারলেও বঙ্গবন্ধুর কন্যা বিশ্ব বরেণ্য নেতা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বশরীরে দেখার ইচ্ছা রয়েছে। এছাড়াও আমি শেষ লোগোটি এঁকেছি গোপালগঞ্জের হিমাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। যেখানে বঙ্গবন্ধু বাল্যকালে লেখাপড়া করেছেন।

এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান বলেন, গোলাম বাদশা যদি কোনো আবেদন করেন সেই প্রেক্ষিতে সার্বিকভাবে তাকে সহযোগিতা করা হবে।

নালিতাবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান মোকছেদুর রহমান লেবু বলেন, বাদশা সত্যিই বঙ্গবন্ধুর ভক্ত। যে নিজ খরচে ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর লোগো আঁকার কাজ শুরু করেছেন। আমার উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হবে যদি সে চায়।

বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মনে বাঙালি জাতির পিতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও প্রকৃত ভালোবাসা জাগাতে এবং এ ভালোবাসার প্রভাব সারাদেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে রং-তুলির ছোঁয়ার মাধ্যমে এমন অভিনব কৌশল অবলম্বন করছেন মুজিব পাগল চিত্রকর গোলাম বাদশা।

ওডি/আরবি

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড