• সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬  |   ৩৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সালথায় আ. লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

  ফরিদপুর প্রতিনিধি

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৯:১৬
ফরিদপুর
সংঘর্ষ (ছবি : প্রতীকী)

ফরিদপুরের সালথায় একটি গ্রামে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। 

বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ছয়টা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে সালথা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফসলী জমিতে সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী এ ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার কারণে বেশ কয়েক একর জমিতে রোপণ করা পেঁয়াজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মো. ওয়াহিদুজ্জামান। পরবর্তীকালে ২০১৬ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তিনি আওয়ামী লীগের একটি অংশে নেতৃত্ব দেন। অপর দিকে মো. এনায়েতের শ্বশুর ভাওয়াল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওহাব মাতুব্বর। এলাকায় ওহাব মাতুব্বরের দলকে নিয়ন্ত্রণ করেন এনায়েত।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউসুফদিয়া গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ওয়াহিদুজ্জামানের সঙ্গে মো. এনায়েতের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

এ বিরোধের সূত্র ধরে মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৮টা দিকে এনায়েত সমর্থক মো. নুর আলম ও মো. লিটনের সঙ্গে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামানের চাচাতো ভাই শাহিন মোল্লার ইউসুফদিয়া বাজারে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এ হাতাহাতির খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দুইদলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাতেই দুই পক্ষ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়া শুরু করে। পরে খবর পেয়ে সালথা থানার পুলিশ গিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ফলে গত মঙ্গলবার রাতে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।

তবে ওই উত্তেজনার জের ধরে বুধবার সকাল ৬টার দিকে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, ঢাল, সরকি, রামদা, ছেনদা, ইট, পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এক পক্ষ আরেক পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের ইট নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে  উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। 

এ ব্যাপারে মো. এনায়েত হোসেন বলেন, ‘ইউসুফদিয়া গ্রামের মো. বিলায়েত টুকু আমার দলে মিশায় তাকে ইউসুফদিয়া বাজারে ওহিদ চেয়ারম্যানের চাচতো ভাই শাহিন মোল্লা কটূক্তি করে কথা বললে, প্রতিবাদ করেন তারই ছেলে লিটন। এর প্রতিবাদ করাতে ওয়াহিদুজ্জামানের সমর্থকরা আমার সমর্থকদের ওপর হামলা চালালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।’

এ বক্তব্য নাকচ করে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘বিএনপির ও জামায়াতের ঘরোয়া লোক এনায়েত ও তার ভাই হেমায়েত হোসেন এখন আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে। ওদের লোকজন সবসময়ই উগ্র, আমার লোকদের দেখলেই বিভিন্ন আজেবাজে কথা বলেন। মঙ্গলবার ইউসুফদিয়া বাজারে আমার চাচাতো ভাই শাহিন বসা ছিল হঠাৎ এনায়েতের লোকজন শাহিনের ওপর হামলা করে। খবর পেয়ে আমার লোকজন জমায়েত হয়।’ 

আরও পড়ুন : গাইবান্ধায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত পুলিশের মৃত্যু

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা থানার ওসি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকা এখন শান্ত রয়েছে, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

ওডি/জেএস

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড