• শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

চাঁদপুরে ৫ শতাধিক স্কুলে নেই খেলার মাঠ

  মো. সিহাবুদ্দিন, চাঁদপুর

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬:৩৫
খেলার মাঠ বিহীন স্কুল
খেলার মাঠ বিহীন স্কুল (ছবি : দৈনিক অধিকার)

শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সাধনে জ্ঞান জগতের অন্যতম পুরোধা দার্শনিক প্লেটো বলেছিলেন শারীরিক বিকাশে সংগীত ও শরীর চর্চার কোনো বিজল্প নেই। কিন্তু সেই শিশুদের শারীরিক বিকাশের ব্যবস্থা নেই চাঁদপুর জেলার অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। 

জেলায় প্রাথমিকের ৫ শতাধিক স্কুলেই নেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য খেলার উপযুক্ত মাঠ। যে কারণে শিক্ষার প্রথম ধাপ থেকেই কোমলমতি শিশুরা মেধা বিকাশে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে তারা বিদ্যালয়ের চার দেয়ালের বন্দিখানায় ঘরকুনো ব্যাঙয়ের মতো আটকে পড়ছে। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলার এক হাজার ১৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। যার মধ্যে চাঁদপুর সদরের ১৪৭টি, কচুয়ার ২০টি, হাজীগঞ্জের ৬২টি, হাইমচরের ৬২টি, শাহারাস্থির ২৭টি, ফরিদগঞ্জের ৯৮টি, মতলব দক্ষিণের ১৬টি এবং মতলব উত্তরের ৭৬টিসহ মোট ৫০৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নেই খেলার উপযোগী কোনো মাঠ। 

চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী শ্রীধাম চন্দ্র ঘোষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩৩ শতাংশ জায়গার ওপর নির্মিত হয়। কিন্তু দেখা যায় শিক্ষার্থী বৃদ্ধিসহ নানাবিধ কারণে ওই স্কুলে এক পর্যায়ে নতুন ভবন নির্মাণ করতে হয়। যার কারণে খেলার মাঠ দখল করেই নতুন ভবন নির্মাণ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হচ্ছে। তাই প্রাথমিকের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই খেলার পর্যাপ্ত মাঠ নেই। 

তিনি আরও জানান, চাঁদপুর সদর ও হাইমচরের প্রাথমিকের স্কুলগুলোতে খেলার মাঠ নেই বললেই চলে। তার দেওয়া এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জেলার মোট এক হাজার ১৫৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে চাঁদপুর সদরে ১৭২টি স্কুলের মধ্যে খেলার মাঠ রয়েছে মাত্র ২৫টিতে এবং হাইমচরে ৭২টি স্কুলের মধ্যে খেলার মাঠ রয়েছে মাত্র ১০টিতে। 

এছাড়া কচুয়ায় ১৭১টি স্কুলের মধ্যে খেলার মাঠ রয়েছে ১৫১টিতে, হাজীগঞ্জের ১৫৭টি স্কুলের মধ্যে খেলার মাঠ রয়েছে ৯৫টিতে, শাহারাস্থির ১০১টি স্কুলের মধ্যে ৭৪টিতে, ফরিদগঞ্জের ১৯০টি স্কুলের মধ্যে ৯২টিতে, মতলব উত্তরের ১১৩টি স্কুলের মধ্যে ৯৭টিতে এবং মতলব দক্ষিণের ১৮০ স্কুলের মধ্যে খেলার মাঠ রয়েছে মাত্র ১০৪টিসহ মোট ৬৪৮টিতে। এ দিকে অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, রেজিষ্ট্রেশনের সময় জেলার অধিকাংশ প্রাথমিক স্কুলগুলো কাগজে কলমে ৩৩ শতাংশ জায়গা দেখাচ্ছে। 

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বাস্তবে ওইসব অনেক স্কুলেরই জায়গা রয়েছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। অথচ ওইসব জালিয়াতির চক্করে পড়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি সুবিধা ভোগ করলেও মেধা ও শারীরিক বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তারা স্কুলের টিফিন আওয়ার এমনকি স্কুলের ক্রীড়া উৎসবের অনেক আয়োজন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে তারা বদ্ধ দেয়ালের বন্দিশালায় শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষা অর্জন করতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। অথচ প্রাথমিক স্কুলগুলোর অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি শারীরিক উৎকর্ষ সাধন। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাহাব উদ্দিন জানান, প্রাথমিক স্কুলে খেলার মাঠ নিশ্চিত করতে মাস্টার প্লান করে কাজ করা শুরু হয়েছে। যেসব স্কুলে খেলার মাঠ নেই তা সম্ভবত ২০০৬-এর আগের। কারণ ২০০৬ সালের পর হতে স্কুলের জমি নির্ধারণে আমরা ক্রস-ম্যাচিং কার্যক্রম শুরু করেছি। তাই বাস্তবে যেসব স্কুলের জমি নেই তা এখন বেরিয়ে আসছে। 

তিনি আরও জানান, শিশুদের জন্য স্কুলের খেলার মাঠ নিশ্চিত করতে সরকার বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। অর্থাৎ এখন থেকে শহরের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ হলে ৬ তলা এবং ইউনিয়ন ভিত্তিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ হলে ৪ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করতে নিয়ম করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন : বিলুপ্তির পথে টালী শিল্প

এ দিকে, জেলায় প্রাথমিকে মোটের ওপর প্রায় অর্ধেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই খেলার মাঠ না থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সচেতন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল। তাই এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন মহল। 

ওডি/এএসএল

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড