• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৬ আশ্বিন ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শয্যাশায়ী প্রতিবন্ধী ময়নার আকুতি একমুঠো ভাত 

  কাজী কামাল হোসেন, নওগাঁ

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬:০৫
প্রতিবন্ধী ময়না
প্রতিবন্ধী ময়না ( ছবি : দৈনিক অধিকার )

দুই বছর পূর্বে প্রতিবেশীদের তৈরি করে দেওয়া একটি খুপরি (বসতঘর) ঘরের মধ্যে পলিথিনের বিছানায় প্রতিবন্ধী ময়নার বসবাস। মশারি ও আলোহীন ঘরে সঙ্গী বলতে মশা, মাছি, ছারপোকা আর ঠান্ডা বাতাস। ডান হাত ও ডান পা একেবারে অচল।

রাস্তায় পথচারীদের শব্দ পেলেই ‘দে, দে, দে...’ বলে চিৎকার করে সচল বাম হাতটি বাড়িয়ে দেয় একমুঠো খাবারের জন্য। সরকারি ও বেসরকারি সকল প্রকার সহায়তা বঞ্চিত ময়নার এ যেনো আজন্ম আকুতি।

পুরো নাম মাহমুদা বেওয়া (ময়না)। বয়স প্রায় ৭০। নওগাঁ সদর উপজেলার মসরপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামে মিরি ফকিরের স্ত্রী।

প্রতিবেশী সূত্রে জানা যায়, ভিক্ষুক মিরি ফকির ভিক্ষা করতে গিয়ে নাম পরিচয়হীন, বোবা ও কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন এক কিশোরীকে কুড়িয়ে পেয়ে নিয়ে আসে নিজের ভাঙা ঘড়ে। বিয়ের পরে মিরি ফকির মাহমুদার নাম রাখে ময়না।

প্রতিবেশী নজরুল ইসলামের একখন্ড জমিতে তালপাতার তৈরি ছোট্ট বসতি ঘরে এক সঙ্গে ভিক্ষা করে কোনোমতে চলছিল ময়না-মিরি ফকিরের সংসার।

ভিক্ষুক স্বামী মিরি ফকির মারা গিয়েছে প্রায় ২৫ বছর আগে। এরপর থেকে একাই কখনো নওগাঁর বালুডাঙ্গা আবার কখনো নওহাটা বাসস্ট্যান্ডে, কখনো যাত্রী ছাউনিতে রাত কাটে ময়নার। এরপর প্রতিবেশীরা ময়নাকে পুনরায় নিয়ে আসে তার স্বামীর ঠিকানায়।

নিজের চিকিৎসা ও দুবেলা খাবার কিংবা মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য সরকারি কোনো সাহায্য জোটেনি ময়নার।

জমির মালিক প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম বলেন, বয়স্ক এই নারীর বিষয়টি ভাবতেও কষ্ট লাগে। এই ঠান্ডার মধ্যে আলো বাতি ছাড়া অচল হাত-পা নিয়ে একটি মানুষ কতদিন বাঁচতে পারে। সরকারি কোনো জায়গায় অথবা বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে গেলে সে হয়তো বাঁচত।

অসহায় মাহমুদাকে দেখা শোনার কাজে সেচ্ছায় নিয়োজিত প্রতিবেশী সাহারা বানু বলেন, ‘আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করে খাই। আশপাশের মানুষ প্রতিদিন মাহমুদাকে খাবার দেয়, আমি সেই খাবার নিয়ে যাই এবং কাপড় পরিবর্তন করে দিয়ে আসি।’

প্রতিবেশী ডা. মোহাব্বত আলী বলেন, বছর দুয়েক আগে মাহমুদা স্ট্রোক করেছে। আমি আমার ক্লিনিকে নিয়ে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখন আমরা প্রতিবেশীরা মিলে সাহারা বানুর মাধ্যমে খাবার দিয়ে মাহমুদাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছি।

তিনি আরও বলেন, মাহমুদার বিষয়টি নিয়ে উপজেলা সমাজ সেবা অফিস, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের কাছে গত ২ বছর ধরে ঘুরেছি শুধু একটা কম্বল দেওয়া ছাড়া কিছুই করতে পারিনি। অগত্যা নিজে যখন যতটুকু সম্ভব করার তাই করছি।

হাপানিয়া ইউপির চেয়ারম্যান আফসার আলী জানান, আমি মাহমুদাকে চিনি। ২০-২৫ বছর আগে তার ভিক্ষুক স্বামী মারা গেছে। এক সময় তারা দুজনেই ভিক্ষা করে চলতো। এখন তো সে পঙ্গু, বিছানা থেকেই উঠতে পারে না।

আরও পড়ুন: শপিং ব্যাগে নবজাতকের মরদেহ

তিনি আরও বলেন, কিছু দিন আগে তাকে একটা কম্বল দিয়েছি। তবে তার কোনো অভিভাবক নেই, থাকলে হয়তো তার নামে একটা কার্ড করে দিতাম।

নওগাঁ সদর উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, আমি এখানে অল্প কিছুদিন আগে এসেছি। প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, বিধবা মাহমুদার কোনো প্রকার ভাতা ভোগী না হওয়ার বিষয়টি সত্যি অমানবিক। তার এনআইডি কার্ড এবং ছবিসহ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করে দেব।

ওডি/এসএএফ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড