ঢাকায় শুরু হয়েছে ৪ দিনব্যাপী ইরানি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী  

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০১৮, ১৫:৩১

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে রাজধানীতে শুরু হয়েছে ৪ দিনব্যাপী ইরানি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। 

শনিবার (৩ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে ৪ দিনব্যাপী ইরানি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব ইকবাল সোবহান চৌধুরী চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। এসময় তিনি বলেন, ইরানি চলচ্চিত্র বিশ্ব সিনেমায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।  

প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ধর্মীয় চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক সঙ্গতি-অসঙ্গতি, ইরানের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চেতনা ধারন করে ইরানের চলচ্চিত্র এগিয়ে চলেছে। তাদের চলচ্চিত্র অস্কার, কান থেকে শুরু করে নানাবিধ আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছে। তাদের চলচ্চিত্র থেকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের অনেক কিছু শেখার আছে। 

বাংলাদেশে শিল্পকলা একাডেমির নাট্য ও চলচ্চিত্র বিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক জনাব মো. বদরুল আনাম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এবরাহীম শাফেয়ী রেযভানী নেযাদ ও প্রখ্যাত অভিনেত্রী ও নাট্য পরিচালক লাকি এনাম।

অনুষ্ঠানে ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এবরাহীম শাফেয়ী রেযভানী নেযাদ বলেন, চলচ্চিত্রের প্রতি মানুষের আকাঙ্খা অনেক উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এই আকাঙ্খা পূরণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে অস্কার, কান থেকে শুরু করে নানা আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করে চলেছে। কেবল পুরুষেরা নয়, ইরানের নারী চলচ্চিত্র নির্মাতারাও খ্যতনামা সব সিনেমা নির্মাণ করে চলেছে। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কালচারাল কাউন্সেলর ড. সাইয়্যেদ মাহদী হোসেইনী ফায়েক। তিনি বলেন, নির্মাণ কৌশল, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও গুণগত মানের দিক থেকে ইরানের চলচ্চিত্র শিল্প চোখধাঁধানো পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। দেশটির শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নের একই সাথে উন্নয়ন হয়েছে দেশটির চলচ্চিত্র শিল্পের। বর্তমানে বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনে ইরানি চলচ্চিত্রের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। মানবতা, ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা এবং মানুষের প্রকৃতির বিশুদ্ধতার বার্তা সরবরাহের কারণেই ইরানি চলচ্চিত্র আজ বিভিন্ন দেশ, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র সকলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

উপস্থিত বক্তারা আরও বলেন, নির্মাণ কৌশল, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও গুণগত মানের দিক থেকে ইরানের চলচ্চিত্র শিল্প চোখধাঁধানো পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। দেশটির শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নের একই সাথে উন্নয়ন হয়েছে দেশটির চলচ্চিত্র শিল্পের। বর্তমানে বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনে ইরানি চলচ্চিত্রের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। মানবতা, ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা এবং মানুষের প্রকৃতির বিশুদ্ধতার বার্তা সরবরাহের কারণেই ইরানি চলচ্চিত্র আজ বিভিন্ন দেশ, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র সকলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

এছাড়া বক্তারা বলেন, বিশ্বের চলচ্চিত্র অঙ্গনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অস্কার থেকে শুরু করে বিশ্বের প্রায় সব আন্তর্জাতিক উৎসব থেকে পুরস্কার লাভের নজির তৈরি করেছে ইরানের চলচ্চিত্র শিল্প যা দেশটির চলচ্চিত্র শিল্পী, পরিচালক, প্রযোজক ও কলকুশলিদের সফলতারই দৃষ্টান্ত। 

উদ্বোধনী দিনে দেখানো হয় ইংরেজি সাব-টাইটেলযুক্ত চলচ্চিত্র ‘সো ফার, সো ক্লোজ’।

উল্লেখ্য, আগামী ৯ থেকে ১৩ নভেম্বর, ২০১৮ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগীয় মিলনায়তনে ইরানি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।