• রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সবুজের ঘ্রাণ আর রহস্যে মোড়ানো ‘গুণিন’

  নিশীতা মিতু

২৯ মার্চ ২০২২, ১০:৩৪
গুণিন
গুণিন সিনেমার একটি দৃশ্য (ছবি : অধিকার)

দেখে শেষ করলাম গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত বাংলা চলচ্চিত্র ‘গুণিন’। মনে হলো অনুভূতি জানাতে দেরি করা একদম উচিত হবে না। সদ্য প্রয়াত ঔপন্যাসিক ও ছোট গল্পকার হাসান আজিজুল হকের ছোটগল্প ‘গুণিন’ থেকে তৈরি সিনেমা। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় চরিত্র রয়েছেন একজন গুণিন মানে মন্ত্রবিদ্যাবিদ।

সিনেমার কাহিনী যেমন-

সবুজে ঘেরা একটি গ্রামের মানুষ। যাদের বিশ্বাস, আস্থায় ভর করে আছে জ্বীন, ভুত, তাবিজ, কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ইত্যাদি। এসবকে পুঁজি করেই টিকে আছেন রজব আলী গুণিন। ব্যাপক আধ্যাত্মিক ক্ষমতা আছে তার। গুণিনের ৩ নাতি। রহম, আলী ও রমিজ।

একসময় রজব গুণিনের মৃত্যু হয়। সেই মৃত্যুও রহস্যময়। এদিকে মিয়াবাড়ির মেয়ে রাবেয়ার সঙ্গে গুণিনের দুই নাতি আলী আর রমিজের ত্রিভুজ প্রেম। ভাই-ভাই দ্বন্দ্ব আর ত্রিভুজ প্রেম নিয়েই মূলত সাজানো পুরো কাহিনী।

সিনেমা যেমন লেগেছে-

গ্রাম আমার সবসময়ের প্রিয়। গ্রাম্য চিত্রপটে নির্মিত যেকোনো সিনেমাই তাই অন্যরকম ভালো লাগে। গুণিন দেখে যেন সবুজে হারিয়ে গেলাম। বিশাল বট গাছ, নদী, কাঁদা মাটি, ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, গ্রাম্য নিস্তব্ধতার শব্দ- সব মিলিয়ে দারুণ। চোখ বন্ধ করলেই যেন মাটির সোঁদা গন্ধ নাকে লাগছিল। এক্ষেত্রে সিনেমাটোগ্রাফি, কালারগ্রেডিং, ক্যামেরার কারসাজি প্রশংসার দাবি রাখে।

এবার আসি অভিনয়ের দিকে। অনেক গুণী অভিনেতা অভিনেত্রী কাজ করেছেন সিনেমাটিতে। গ্রাম্য চরিত্রে সবার পোশাক থেকে শুরু করে কথা বলার ধরন মানিয়ে গেছে দারুণভাবে। কখনো মনে হয়নি যে শহরের কাউকে জোর করে গ্রামের চরিত্রে সাজানো হয়েছে। বিশেষ করে আলী আর রমিজ দুজন গ্রামের বলিষ্ঠ যুবক শারীরিক গঠন, তেজ, চোখের ভাষায় পুরোপুরি মানিয়ে গেছেন।

সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ হয়েছি রমিজ চরিত্রে শরিফুল রাজের অভিনয়ে। দুষ্টু মিষ্টি হাসি, রাগ প্রকাশ, বিরক্তি দেখানো- সব এক্সপ্রেশন ঠিকঠাক দিয়েছেন। এমনকি প্রেমিকাকে একটু সময় কাছে পেলে প্রেমিকের মনের যে আকুলতা, তার শ্বাসের যে পরিবর্তন সেটিও তিনি প্রকাশ করেছেন গভীর থেকে। লেগে থাকলে আর নিজের সর্বোচ্চ দিতে পারলে তার কাছ থেকে বাংলা সিনেমা আরও দারুণ সব কাজ পাবে বলে আমার বিশ্বাস। আলী চরিত্রে মোস্তফা মনোয়ারও চমৎকার অভিনয় করেছেন। আজাদ আবুল কালাম, শিল্পী সরকার অপু, ইরেশ যাকের, দিলারা জামানসহ সবার অভিনয়ই ভালো ছিল।

পরীমনিকে আরেকটু বেশি সময় অন স্ক্রিনে রাখা যেত হয়তো। নায়িকা হিসেবে উনি দেখতে চমৎকার, অভিনয়ে আরেকটু মনযোগী হলে উনিও ভালো করবেন আশা করি।

সিনেমাজুড়ে রহস্য ছিল, সাবলীলতা ছিল- দর্শক হিসেবে তাই সিনেমা দেখতে গিয়ে বিরক্ত হইনি। গান দুটি সিনেমায় আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছে। আমি সিনেমা দেখার ক্ষেত্রে দুটো কাজ করি না। ১. পরিচালকের অন্য কোনো সৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করা; ২. কোনো গল্প থেকে সিনেমা নির্মিত হলে সেই গল্প মেনে সিনেমা কতটা বানানো হয়েছে তা দেখা। এই দুটো বিষয়কে পাশে রেখে তাই একটি ‘বাংলা সিনেমা’ হিসেবে গুণিন দেখে আমি তৃপ্তি পেয়েছি।

ওডি/নিমি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড