• রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রহর গুণছে ব্রিটেন

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৩ জুলাই ২০১৯, ১২:৫৪
বরিস জনসন ও জেরেমি হান্ট
ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী বরিস জনসন ও জেরেমি হান্ট। (ছবিসূত্র : দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট)

ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা এখন মাত্র সময়ের অপেক্ষা। দেশটির বেশিরভাগ আইনপ্রণেতাদের মতে, এবার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে ঢুকতে চলেছেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব বরিস জনসন। যদিও বিতর্ক বরাবরই তার সঙ্গী। নাম ঘোষণার ঠিক আগ মুহূর্তে বেশকিছু গণমাধ্যম দাবি করছে, জনসনের পক্ষে একা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া অনেকটাই মুশকিল। তাই সেক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট।

সোমবার (২২ জুলাই) স্থানীয় সময় রাতে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা বাছাইয়ের জন্য ভোট পর্ব শেষ হয়েছে। এখন শুধু ফলাফলের অপেক্ষা। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের উত্তরসূরি হিসেবে দল থেকে বরিস জনসনের চেয়ে জেরেমি হান্টের নাম কোনো অংশে কম চর্চা হয় না। 

বিশ্লেষকদের মতে, বরিস জনসন কিংবা জেরেমি হান্ট, মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) যার নামই ঘোষণা হোক না কেন নয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি পরদিন বুধবার (২৪ জুলাই) শপথ নেবেন। আর সে দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে থেরেসা মে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। মূলত তখনই ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে তিনি শেষবারের মতো জন্য বক্তৃতা প্রদান করবেন। এর পরপরই নতুন প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ রানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং তিনিও সেখান থেকে নিজের প্রথম বক্তৃতাটি দেবেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন মুখোমুখি হতে হয়েছিল থেরেসা মেকে। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার যেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হয়ে আসুক না কেন তার সামনের পথটাও খুব মসৃণ হবে না।

থেরেসা মে

 ব্রিটেনের সদ্য পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। (ছবিসূত্র : এনবিসি নিউজ)

এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন দলেরই আইনপ্রণেতা ফিলিপ হ্যামন্ড হুমকি দিয়ে বলেছেন, 'বরিস প্রধানমন্ত্রীর পদে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমি পদত্যাগ করব।' হ্যামন্ডের দাবি, বরিসের ব্রেক্সিট নীতির সঙ্গে তিনি কখনই একমত নন। যদিও একই সঙ্গে ইস্তফার কথা জানিয়েছেন ব্রিটিশ আইনমন্ত্রী ডেভিড গোক। 

তার মতে- চুক্তি হোক কিংবা না হোক, আগামী ৩১ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাবে ব্রিটেন। বরিস সবসময়ই এই নীতির পক্ষে। সম্প্রতি বরিস বলেছিলেন, 'যেভাবেই হোক আগামী ৩১ অক্টোবর ইইউ ছেড়ে ব্রিটেনকে বেরোতেই হবে। 

যদিও জেরেমি হান্ট অবশ্য এখনো আশা করেন যে চুক্তিটি টেকানো সম্ভব। তিনি বলেছেন, 'ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া আরও পিছাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। তবে আমি এ ক্ষেত্রে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন একটি চুক্তি তৈরিতেও সম্মত আছি।'

এ দিকে ব্রিটিশ লেবার পার্টির সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের মতে, ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ চুক্তিহীন ব্রেক্সিট অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাদের মতে, ব্রিটেন বর্তমানের কঠিন পরিস্থিতি থেকে সামনে আরও ভয়ঙ্কর জায়গায় গিয়ে পৌঁছাবে। 

টনি ব্লেয়ার ব্রিটেনের একটি দৈনিকে নিজের সম্পাদকীয়তে লিখেন, 'চুক্তিহীন প্রক্রিয়ার ফলে আসলে ঠিক কী ঘটতে চলেছে, তা নিশ্চিতভাবে এখনো কেউই বুঝতে পারছে না। কেননা কোনো উন্নত দেশ রাতারাতি এভাবে নিজেদের সকল বাণিজ্যিক বন্দোবস্ত পরিবর্তন করে না।' 

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মতে, 'ব্রেক্সিট ইস্যুটি নিয়ে দ্বিতীয় গণভোটই হচ্ছে একমাত্র উপায়। কেননা ইইউ এখন আর এই চুক্তিটি নিয়ে ভাবনা চিন্তা করবে না। তাই কোনো প্রকারের চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট মানে দেশের অর্থনীতিকে খাদের কিনারে নিয়ে ফেলা।'

যদিও লেবার পার্টির ভেতরেও এখন বেশ সঙ্কট বিরাজ করছে। দেশটির প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা জেরেমি করবিনকে একদল সমর্থন জানালেও অপর দল তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাছাড়া দলের একাংশের মধ্যে ইতোমধ্যে ইহুদি বিদ্বেষের অভিযোগ উঠেছে। যে কারণে করবিন তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও দাবি বিশ্লেষকদের। 

তবে ব্রেক্সিট প্রসঙ্গে এখনো ঘোষিত কোনো অবস্থানে যাননি করবিন; আর সেটাও দলের ভেতর এক বড় ক্ষোভের কারণ। অনেকের ধারণা, এই ইস্যুতে পার্লামেন্টে দ্বিতীয়বার গণভোটের আয়োজন হলে সেখানেই হয়তো সমর্থন জানাতে পারেন করবিন; যদিও তিনি এখনো সেটাও স্পষ্ট করতে পারেননি।

পার্লামেন্টে বিরোধী দল নড়বড়ে হলে শেষ পর্যন্ত সুবিধা পাবেন বরিস জনসনই। কেননা এখনো সেখানে শাসক দল কনজারভেটিভ পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। তাই যেকোনো বিল পাশ করাতে গেলে আগে তাদের নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ডিইউপি পার্টির উপরে নির্ভর করে থাকতে হয়। যে কারণে বরিস জনসনকেও এবার পার্লামেন্টের সম্মতি নিয়ে ব্রেক্সিট চুক্তি বিষয়গুলোতে এগোতে হবে। 

আরও পড়ুন :- পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী

অপর দিকে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট বলবৎ করতে ব্রিটেনের নয়া প্রধানমন্ত্রী যাতে কোনো দিন পার্লামেন্টকে অচল করতে না পারেন; সে জন্য গত সপ্তাহে আইনপ্রণেতারা একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন। কেননা তাদের ধারণা, বরিস যদি একবার পদে আসেন, তাহলে নিজের অবস্থান শক্ত করতে খুব দ্রুতই তিনি ভোটের পথে হাঁটবেন।

ওডি/কেএইচআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড