• সোমবার, ০১ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

৪০ বছরের ইতিহাসে ভয়াবহ অবস্থায় দক্ষিণ এশীয় অর্থনীতি

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৩ এপ্রিল ২০২০, ২১:৫৯
শ্রমিক

করোনাভাইরাসের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি তলানিতে গিয়ে ঠেকবে এমনি আশংকার কথা শুনিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। মাত্র কয়েক মাস আগে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির উন্নয়নের আশা দেখা দিয়েছিল, এই ভাইরাসের থাবায় লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে সে আশা। করোনা-মোকাবিলায় লকডাউনের কোপে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক পথে এগিয়ে চলেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে,  বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান-সহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে করোনা-সংক্রমণের হার বিশ্বের অন্যান্য দেশের থেকে তুলনামূলক ভাবে অনেক কম হলেও ভবিষ্যতে এই অঞ্চলই হয়ে উঠতে পারে করোনার ‘হটস্পট’। এর জেরে ধসে পড়তে পারে দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশের অর্থনীতি।

রবিবার বিশ্ব ব্যাংক জানায়, গত কয়েক দশক ধরে দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যে সুফল দেখা গিয়েছিল, লকডাউনের ফলে তা প্রবল ঝুঁকির মুখে। অনিশ্চয়তার মুখে অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির ভবিষ্যৎ। লকডাউনের জেরে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা বির্পযস্ত হওয়ার প্রভাব পড়েছে সমাজের সব স্তরেই। তবে অর্থনৈতিক ভাবে সমাজের নিম্নবর্গের মানুষেরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। আমদানি-রফতানি নেই, বেহাল পর্যটন শিল্প, বন্ধ কলকারখানা, মার খাচ্ছে ছোট, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ব্যবসা। যার জেরে হঠাৎই কাজ হারিয়েছেন দিনমজুর বা অস্থায়ী কর্মীরা। 

বিশ্ব ব্যাংকের রিপোর্টে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আদর্শ প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়া। পর্যটন শিল্প অসাড় হয়ে পড়ে রয়েছে, সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত, বস্ত্র শিল্পে চাহিদা নেই, ক্রেতা বা বিনিয়োগকারীর কাজেও ধাক্কা লেগেছে।  বিশ্ব ব্যাংকের পূর্বাভাস, এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার কোনও দেশে মন্দা, কোনও দেশে বা মহামন্দাও দেখা দিতে পারে। চলতি আর্থিক বছরে এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার কমে দাঁড়াতে পারে ১.৮ শতাংশ থেকে ২.৮ শতাংশে। যদিও বিশ্বব্যাপী করোনা-সংক্রমণের আগে এ অঞ্চলে৬.৩ শতাংশ আর্থিক বৃদ্ধি পূর্বাভাস করেছিল বিশ্ব ব্যাংক। ওই সংস্থার দাবি, এই আবহে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে মালদ্বীপ। মূলত পর্যটন শিল্পের উপরে নির্ভরশীল মলদ্বীপের জিডিপি ১৩ শতাংশ নীচে নেমে যেতে পারে। অন্য দিকে, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তা যথাক্রমে ৫.৯ শতাংশ ও ২.২ শতাংশ নিম্নমুখী হতে পারে। 

বিশ্ব ব্যাঙ্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ শেফারের বলেন, এগুলোর বন্দোবস্ত করা না হলে দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধি বাধা পাবে। সেই সঙ্গে দারিদ্র দূরীকরণে যে কষ্টার্জিত উন্নতি হয়েছে, তা বিপরীতমুখী হবে।

তবে শুধুমাত্র পরামর্শ দিয়েই থেমে থাকেনি বিশ্ব ব্যাংক। আগামী ১৫ মাসে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি বা বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রকে চাঙ্গা করতে ১৬ হাজার কোটি ডলারেরও আর্থিক সাহায্য দেবে তারা।

সংশ্লিষ্ট ঘটনা সমূহ : করোনা ভাইরাস

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড