• রোববার, ০৭ জুন ২০২০, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ৩৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মেহেদীর রঙ শেষ হতেই জীবন প্রদীপ নিভে গেল গৃহবধূর

  বাগেরহাট প্রতিনিধি

০১ এপ্রিল ২০২০, ২৩:১৩
বাগেরহাট

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জেরে চুরির অপবাদ দিয়ে দুটি বসত বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাটের বর্ণনা দেওয়া ইতি বেগম (২০) নামের এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার কুনিয়া গ্রামে স্বামীর ঘরে তার গলাকাটা মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনার পর থেকে ইতি বেগমের ভাসুর আমিনুর ইসলাম মীরের ১২ বছর বয়সী ছেলে সাগর ইসলামও নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই পরিবারের লোকেরা। 

হত্যার খবর শুনে চিতলমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। নিহত ইতি বেগম চিতলমারী উপজেলার কুনিয়া গ্রামের সদর আলী মীরের ছেলে জাহিদুল মীরের স্ত্রী। মাত্র চার মাস আগে ইতির বিয়ে হয়েছিল।

এর আগে সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে সদর আলী মীরের দুটি বসত বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও বাড়িতে থাকা নারীদের মারধর করে একই গ্রামের প্রতিপক্ষরা। ৯৯৯ নাইনে ফোন করে বিষয়টি জানালেও প্রতিকার পায়নি পরিবারটি। পুলিশ ঘুরে যাওয়ার পরেও ওই পরিবারের গরু, ছাগল, হাস-মুরগি, কবুতরসহ সবকিছু লুটপাট করেছে প্রতিপক্ষরা এমন অভিযোগ করেছে পরিবারের লোকেরা। বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণা দেওয়ার পরে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে চিতলমারী থানায় মামলা দায়ের করেন সদর আলীর পুত্রবধূ সানজিদা বেগম।

মারধরের শিকার সদর আলী মীরের আরেক পুত্রবধূ সানজিদা বেগম বলেন, প্রতিপক্ষ ইকবাল, সফিক ও ফেরদৌস আলমের নেতৃত্বে আমাদের বাড়িতে লুটপাট ও ভাঙচুর করে। স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকাসহ সিন্দুক, ৮টি গরু, ১০ টি ছাগল, শতাধিক কবুতরসহ নিত্য প্রয়োজনীয় অনেক মালামাল লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এরপর থেকে হামলাকারীরা হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। মঙ্গলবার রাতে থানায় মামলা দায়েরের পর আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়। তারা পরিকল্পিতভাবে আমার দেবরের স্ত্রীকে হত্যা করেছে। আমার ভাসুরের ছেলে সাগরকে খুঁজে পাচ্ছি না। হামলার পর থেকে আমরা কেউ বাড়িতে ছিলাম না। কিন্তু পুলিশ আমাদের বাড়িতে গিয়ে থাকতে বলেছে। পুলিশের উপর ভরসা করেই আমার দেবরের স্ত্রী ও ভাসুরের ছেলে আমাদের বাড়িতে ছিল।

নিহত ইতি বেগমের ননদ সৈয়দা সুলতানা বেগম জানান, আমাদের বাড়িতে হামলা করে হামলা ও ভাঙচুর করে ইকবাল, সফিক ও ফেরদৌস আলমের নেতৃত্বে এলাকার ২৫-৩০ জন যুবক। আমাদের বাড়িতে থাকা ভাইপো ও ভাইয়ের বউয়ের মুখে হামলার ঘটনা শুনে আমরা ৯৯৯কে ফোন দেই। ৯৯৯ স্থানীয় থানা পুলিশের সাথে কানেক্ট করিয়ে দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলেও সন্দেহজনক কারণে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। সোমবার রাতে তারা আবারও তাণ্ডব চালায়। আমাদের বাড়ি থেকে গরু ছাগল, হাস-মুরগী, কবুতর ও আলু নিয়ে যায়। সোমবার হামলার পরে এবং মঙ্গলবার রাতে মামলা দায়েরের পরে পুলিশের ভূমিকা স্পষ্ট হলে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটত না বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এই নারী।

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর শরিফুল হক বলেন, ইতি বেগম ও তার ভাসুরের ছেলে সাগর ইসলাম বাড়িতে ছিল। রাতের কোন একসময় ইতি বেগমকে হত্যা করা হয়। দুপুরে আমরা মরদেহ উদ্ধার করি। 

দুদিন আগে হামলার ঘটনায় পুলিশের অসহযোগিতা ও নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। আমি নিজেও দুইবার গেছিলাম। পুলিশ যাবার পরে আর কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি। ওই পরিবারের বিরুদ্ধে থানায় বেশকিছু চুরির মামলা রয়েছে। তাই এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওই হামলা করে বলে দাবি করেন তিনি।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড