• বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শরীয়তপুরে বারি সরিষা-১৪ চাষে সাফল্যের হাতছানি

  মো.জাবেদ শেখ, শরীয়তপুর

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২০:৩৯
বারি সরিষা-১৪
বারি সরিষা-১৪ চাষে সফলতা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

শরীয়তপুরে অল্প সময়ে অধিক ফলন পেতে বারি সরিষা-১৪ জনপ্রিয়তা পেয়েছে চাষিদের কাছে। এ সরিষা ৭৫ থেকে ৮০ দিনের মধ্যে কাটার উপযুক্ত হয়। প্রতি হেক্টরে ফলন হয় ১ দশমিক ৪ টন থেকে ১ দশমিক ৬ টন। 

সদর উপজেলার সুবচনী, আংগারিয়া, বিনোদপুর, কাশিপুর ও তুলাসার গ্রামে সরেজমিনে কৃষকদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, কৃষকদের সবার প্রায় একই কথা। বারি সরিষা-১৪-এর ফলন ভালো হয়েছে। অল্প জমিতে বেশি ফসল পাওয়া যায়। যদি আমরা ভালো দাম পাই তবে ভবিষ্যতে এই ফসল আরও বৃদ্ধি পাবে। কৃষি অফিস আমাদের সহযোগিতা করেছে। আমরা সবাই খুশি। 

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের নীতি অনুসারে তৈলের ঘাটতি পূরণে বারি সরিষা-১৪ একটি নতুন জাতের ফসল। এটি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট থেকে উদ্ভাবিত। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করছে। এছাড়াও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচীর আওতায় বারি সরিষা-১৪-এর প্রদর্শনী করে থাকে। 

এই সরিষার গড় আয়ুষ্কাল ৭৫ থেকে ৮০ দিন। হাজার বীজের ওজন ৩ দশমিক ২৫ থেকে ৩ দশমিক ৫০ গ্রাম। প্রতি হেক্টরে ফলন হয় ১ দশমিক ৪ থেকে ১ দশমিক ৬ টন। আমন ধান কাটার পর স্বল্প মেয়াদী জাত হিসেবে চাষ করে বোরো ধান রোপণ করা যায়। এর বীজে তেলের পরিমাণ শতকরা ৪৩ থেকে ৪৪ ভাগ। এটি টরি-৭-এর বিকল্প হিসেবে চাষ করা যায়। শরীয়তপুর সদর উপজেলায় এ বছর বোরো মৌসুমে মোট আবাদি জমির ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষাবাদ করা হয়েছে। 

শরীয়তপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন দৈনিক অধিকারকে বলেন, রবি মৌসুমে আমাদের কৃষি অফিসের সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় আছে। রবি ফসলের মধ্যে যত গুলো ফসল আছে সরিষা তার মধ্যে একটি সম্ভাবনাময় ফসল। বর্তমান সরকারের এজেন্ডা হলো। তৈল ফসলে আবাদ বৃদ্ধি করে তৈলের আমদানি বৃদ্ধি করা। কারণ তৈল আমদানি করতে আমাদের প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। 
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট থেকে উদ্ভাবিত বারি সরিষা-১৪। আমাদের শরীয়তপুর উপজেলায় সরিষার আবাদ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আশা করা যায়,আগামী বছর তা বৃদ্ধি পাবে।  

আরও পড়ুন : অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ী শরিফুলের বাড়িতে উৎসবের আমেজ

আমারা এই আবাদ বৃদ্ধি করার জন্য আমাদের মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আছে। তারা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। তাছাড়াও কৃষি অফিসে কিছু প্রকল্প আছে। সেই প্রকল্পের মধ্যে কৃষকদের ডেমন স্টেশন,ভালো বীজ ও সারের উপকরণ সহ নগদ অর্থ দিয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি। যাতে করে সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পায় এবং কৃষক আমাদের প্রদর্শনী দেখে সরিষা চাষে আগ্রহী হয়। বারি সরিষা-১৪ এই জাতটা আরও সম্প্রসারণ ও চাষ করার জন্য কৃষকদের পরামর্শের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আসা করি কৃষকরা যদি চাষ করে তাহলে বিদেশ থেকে তেলের আমদানি বন্ধ করতে পারবো। তেল আমদানি করে যে অর্থ ব্যয় হয় তা সংরক্ষণ করতে পারবো। 

ওডি/এএসএল

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড