• বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ ‘হাতির মাথা’

  আল-মামুন, খাগড়াছড়ি

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৭:৫৫
খাগড়াছড়ি
পাহাড়ের চূড়া থেকে অপরূপ দৃশ্য (ছবি : দৈনিক অধিকার)

স্থানীয়দের চলাচলের জন্য ২০১৫ সালে পাহাড়ের গায়ে সিঁড়ি স্থাপন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। পাহাড়ি গ্রাম মায়ুক কপাল নামের এলাকায় যেতেই মূলত সিঁড়িটি নির্মাণ করা হয়। পাহাড়টা দেখতে অনেকটা হাতির মাথার মতো হওয়ায় স্থানীয়রা একে হাতির মুড়া বলেন।

চাকমাদের কাছে এটি ‘এদো শিরে মোন’ এবং ত্রিপুরাদের কাছে ‘মাইয়োং কপা’ নামে পরিচিত। তবে দুটোর অর্থই হাতির মাথা পাহাড়। অনেকের কাছে এটি পরিচিত ‘স্বর্গের সিঁড়ি’ নামেও। পর্যটকদের কাছে ‘স্বর্গের সিঁড়ি’ নতুন এক আকর্ষণ। হাতির মাথার চূড়া থেকে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের অনেক অংশ দেখা যায়। চোখে পড়ে খাগড়াছড়ির সুউচ্চ পাহাড়ের ঢেউ। চেঙ্গী ও মাইনী নদীর গা ঘেঁষে পার্বত্য এ জেলা খাগড়াছড়ি।

সবুজ অরণ্য ভূমি, উপত্যকা, ঝরনা-ঝিরি ও অসংখ্য পাহাড় নিয়ে গড়ে উঠেছে পাহাড়ি এই জনপদ। এখানে পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে আলুটিলা ও রিছাং ঝরনা পর্যটকদের কাছে প্রধান আকর্ষণ হলেও বর্তমানে খাগড়াছড়ির নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠছে হাতির মুড়া বা স্বর্গের সিঁড়ি।

ঘুরতে আসা পর্যটক (ছবি : দৈনিক অধিকার)

খাগড়াছড়ি শহর থেকে কিছুদূর পেরাছড়া গ্রাম। নিভৃত এই পাহাড়ি পল্লী পেরিয়ে খরস্রোতা চেঙ্গী নদী। নদী পার হয়ে আবারও পাহাড়ি গ্রাম বানতৈসা। এখানে মূলত ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বসবাস। বানতৈসা গ্রাম পেরিয়ে হাঁটতে হয় পুরোটা পথ। সবুজে মোড়ানো পথে প্রায় এক ঘণ্টার পায়ে হাঁটা পথে উঁচু উঁচু পাহাড় পেরিয়ে যেতে হবে হাতির মুড়া।

খাড়া পাহাড় বেয়ে ওঠা নান্দনিক সিঁড়ি স্থানীয়দের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। প্রায় দুইশত সিঁড়ির ধাপ পেরিয়ে এই পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে হয়। স্থানীয় পর্যটকদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও পর্যটকরাও এখানে বেড়াতে আসেন।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক ডালিয়া জানান, হাতি মুড়া বা হাতির মাথার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে জেনেছি। খাগড়াছড়ি আসার পর এখানে ঘুরতে এসেছি। পাহাড়ের উঁচু-নিচু পথ পেরিয়ে এখানে এসে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। খাগড়াছড়ি এসে হাতির মুড়া বা স্বর্গের সিঁড়ি না দেখলে ভ্রমণটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয়ারাও হাতির মুড়ার নান্দনিক স্থাপনা দেখার জন্য আসছে। লংগদু থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক মো. হাবিব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খাগড়াছড়ির হাতির মুড়ার অনেক গল্প শুনেছি। হাতির মুড়া দেখে ভালো লাগছে। তবে পাহাড়ের চূড়ায় পর্যটকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করা গেলে ভালো হতো। 

খাড়া পাহাড়ের গায়ে বসানো সিঁড়ি (ছবি : দৈনিক অধিকার)

হাতি মুড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক সময় এই পাহাড়ে গাছের গুঁড়ির ওপর বাসিন্দারা আসা যাওয়া করত। বিকল্প পথ না থাকায় গাছের গুঁড়ি বেয়ে পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে হত। এভাবে পাহাড় উঠতে গিয়ে কয়েকজন মারাও গেছে।

স্থানীয়দের দুর্ভোগ লাঘবে এখানে সিঁড়ি নির্মাণ করে। এরপর থেকে নান্দনিক এই সিঁড়ি থেকে পর্যটকরা বেড়াতে আসে। পাহাড়ের চূড়া থেকে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের অনেকটাই চোখে পড়ে। পর্যটকরা অনেক সময় ভুল পথে চলে যায়। বিড়ম্বনার এড়ানোর ব্যবস্থা করা গেলে পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে আসতে পারবে।

পেরাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তপন বিকাশ চাকমা জানান, হাতিমুড়া পাহাড়ের নতুন পর্যটন এলাকায় পরিণত হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে পর্যটকদের জন্য একটি যাত্রী ছাউনির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া হাতিমুড়া যাওয়ার জন্য পর্যটকদের জন্য গাইড ব্যবস্থা করা হবে।

ওডি/এমবি 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড