• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

মুহাররম-আশুরা : করণীয়-বর্জনীয় [পর্ব-০৪]

আশুরার সিয়ামের ফযিলত

  ধর্ম ও জীবন ডেস্ক

০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:৩৭
Ashoora_05
ছবি : সংগৃহীত

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,

«مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَحَرَّى صِيَامَ يَوْمٍ فَضَّلَهُ عَلَى غَيْرِهِ إِلّا هَذَا الْيَوْمَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَهَذَا الشَّهْرَ يَعْنِي شَهْرَ رَمَضَانَ»

‘আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সিয়াম রাখার জন্য আর কোন সময় এত অধিক আগ্রহী হতে দেখিনি, যতটা দেখেছি আশুরার দিন এবং এই মাস অর্থাৎ রমাদান মাসের সিয়ামের প্রতি।’ [বুখারি, আসসাহিহ : ১৮৬৭] 
এখানে يَتَحَرَّى অর্থ হলো তিনি এর সাওয়াব অর্জনে ব্রতী ও আগ্রহী ছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন,

«صِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ»

“আশুরার সিয়ামের ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি যে, এর দ্বারা তিনি পূর্ববর্তী এক বছরের পাপ ক্ষমা করে দিবেন”। [মুসলিম, আসসাহিহ : ১৯৭৬]

এটা আমাদের প্রতি মহান আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহ যে, তিনি মাত্র এক দিনের সিয়ামের বিনিময়ে পূর্ণ এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেন। সত্যিই আল্লাহ মহা-মহানুভব।

কোন্ দিনটি আশুরার দিন? 

ইমাম নববি (রহ.) বলেন, ‘আশুরা ও তাসুয়া দু’টি দীর্ঘায়িত নাম। অভিধানের গ্রন্থাবলিতে এটিই প্রসিদ্ধ। আমাদের সাথিরা বলেছেন, আশুরা হচ্ছে মুহাররম মাসের দশম দিন, আর তাসুয়া হচ্ছে নবম দিন। অধিকাংশ আলিমরা তা-ই বলেছেন। হাদিসের বাহ্য অর্থ ও শব্দের প্রায়োগিক দাবিও তা-ই। ভাষাবিদদের নিকট এটিই প্রসিদ্ধ। এটি একটি ইসলামি নাম,  জাহিলি যুগে এটি পরিচিত ছিল না।’ [হাজ্জাওয়ি, কাশ্শাফুল কিনা, ২য় খণ্ড, সাওমুল মুহাররম]
ইমাম ইবনু কুদামাহ (রহ.) বলেন, আশুরা হলো মুহাররম মাসের দশম দিন। এটি সাইদ ইবনুল মুসাইয়িব ও হাসান আল-বাসরির মত। কেননা ইবনু আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন,

«أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِصَوْمِ عَاشُورَاءَ يَوْمَ الْعَاشِرِ»

‘রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুহাররমের দশম দিনে সিয়াম রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।’ [তিরমিযি, আলজামি : ৭৫৫; হাসান, সহিহ]

দশম দিনের সাথে নবম দিনের সিয়ামও মুস্তাহাব 

আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেন,

«حِينَ صَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ يَوْمٌ تُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‏ فَإِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ - إِنْ شَاءَ اللَّهُ - صُمْنَا الْيَوْمَ التَّاسِعَ‏‏.‏ قَالَ فَلَمْ يَأْتِ الْعَامُ الْمُقْبِلُ حَتَّى تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم»

‘যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার সিয়াম রাখলেন এবং (অন্যদের) সিয়াম রাখার নির্দেশ দিলেন। লোকেরা বলল, ‘হে আল্লাহর রাসুল! এটি তো ইহুদি ও খৃস্টানদের নিকট সম্মানিত একটি দিন।’ তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আগামি বছর আমরা নবম দিনেও সিয়াম রাখব ইনশাআল্লাহ।’ বর্ণনাকারী বলেন, পরবর্তী বছর আসার পূর্বেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাত হয়ে যায়।’ [মুসলিম, আসসাহিহ : ১৯১৬]

ইমাম শাফিয়ি ও তার সাথিরা, ইমাম আহমাদ, ইমাম ইসহাকসহ আরও অনেকেই বলেছেন যে,  নবম ও দশম উভয় দিনেই সিয়াম পালন করা মুস্তাহাব। কারণ, নবিজি দশ তারিখ সিয়াম রেখেছেন এবং নয় তারিখ সিয়াম রাখার নিয়ত করেছেন।

এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, আশুরার সিয়ামের কয়েকটি স্তর রয়েছে। সর্ব নিম্ন হচ্ছে কেবল দশ তারিখের সিয়াম রাখা। উচ্চ স্তর হচ্ছে তার সাথে নয় তারিখের সিয়াম পালন করা। আর মুহাররম মাসে সিয়ামের সংখ্যা যত বেশি হবে মর্যাদা ও ফযিলত ততই বৃদ্ধি পাবে। 

চলবে ইনশাআল্লাহ। 

মূল (আরবি) : শাইখ সালিহ আল-মুনাজ্জিদ

বঙ্গানুবাদ : মুনীরুল ইসলাম ইবনু যাকির

প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যখ্যা, সমাজের কোন অমীমাংসিত বিষয়ে ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, কোরআনের আয়াতের তাৎপর্য কিংবা অন্য যেকোন ধর্মের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সর্বপরি মানব জীবনের সকল দিকে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে লিখুন আপনিও- [email protected]
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড