• বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

‘অদ্ভুত নিয়তি’-এর ১০ম পর্ব

ধারাবাহিক উপন্যাস : অদ্ভুত নিয়তি

  রিফাত হোসেন

০৬ আগস্ট ২০১৯, ১৩:০৭
গল্প
ছবি : প্রতীকী

নিয়তি মানুষের জীবনের একটা অংশ। প্রত্যেককেই এর সম্মুখীন হতে হয়। আর সেটা যদি হয় অদ্ভুত, তাহলে তো আর কথাই নেই। বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে আমরা যতই ভালো থাকার চেষ্টা করি না কেন, নিয়তি আমাদের আরো কঠিন অবস্থায় ফেলে দেয়। একজন মানুষকে একাকীত্ব করে দেয় এই অদ্ভুত নিষ্ঠুর নিয়তি। জীবনের প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করতে হলে নিয়তির সম্মুখীন হতে হয়৷ তবে এই নিয়তি কখনো কখনো জীবন আলোকিত করে দেয়, আবার কখনো কখনো জীবন অন্ধকার করে দেয়। সেই মানুষটা তখন একাকীত্বের সাথে বন্ধুত্ব করে। নিয়তি এমন একটা জিনিস, যার শব্দ সংখ্যা খুব কম, কিন্তু এর অর্থ বিশাল। যা পরিমাপ করা যায় না। আদিত্য একাকীত্ব থেকে কিছুটা সরে আসতে চেয়েছিল। প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণা কিছুটা হলেও ভুলতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেটা আর হলো না।  সবাই মিলে শুভদের বাড়িতে পা রাখতেই ভিতর থেকে ওর বাবা-মা বের হয়ে আসলেন। শুভর মা, শুভ আর জ্যোতির সামনে এসে দাঁড়াল। 

কোনোদিকে খেয়াল না করে তিনি শুভকে জড়িয়ে ধরলেন। এক হাত দিয়ে জ্যোতির মাথাটা কাছে টেনে নিয়ে আসলেন। কপালে চুম্বন এঁকে দিয়ে নিজের কাধে মেয়ের মাথাটা রেখে তিনি হু হু করে কেঁদে উঠলেন। একটু একটু করে আদিত্যর দুই চোখ জলে ভিজে যাচ্ছে। বুকটা কেমন চিনচিন ব্যথা করতে শুরু করছে। মুহূর্তের মধ্যেই মনটা অস্থির হয়ে গেল ওর। কী করবে, কিছুই ভালো লাগছে না ওর। নিজের মনে মনে আদিত্য বলল, ‘শুভ ভাই আর জ্যোতি অনেকদিন পর বাড়িতে এসেছে বলে উনাদের মা উনাদের এত আদর কারছে। জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু একে দিয়েছে। আচ্ছা আমিও তো বেশ অনেকদিন হলো বাড়ি যাই না৷ মায়ের সাথে দেখা করি না। মা নিজেও তো আমাকে অনেকদিন ধরেই দেখে না। হঠাৎ করে মায়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে মা কী আমাকে এভাবে আদর করবে? নাকি আবার দূরে ঢেলে দিবে। মা’র কী একটুও কষ্ট হয় না? কিংবা সে কি আমার কষ্টটা বুঝে না? কেন আমার ভাগ্যটা এমন হলো? কী অপরাধ ছিল আমার? নিজে কোনো দোষ করিনি, তবুও অনেক অপমান সহ্য করেছি শুধুমাত্র নিজের আপনজনদের কাছাকাছি যাওয়ার জন্য। কিন্তু আমি পারলাম না।’

আদিত্য আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। বুক ফেটে কান্না বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে। নিজেকে সামলানো খুব কষ্টের হয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে এখানে আর এক মুহূর্তও দাঁড়িয়ে থাকলে নিজের চোখের জলকে আটকানো যাবে না। তড়িঘড়ি করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো আদিত্য। ইরা কিছু বলল না। শুধু এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল আদিত্যর যাওয়ার পথের দিকে। ইরা জানে না আদিত্যর কী হয়েছে? তবে ও যে আর আগের মতো স্বাভাবিক নেই তা বেশ বুঝতে পারছে ইরা। প্রথমে ভেবেছিল ওর আর আয়ানের সম্পর্কটা মেনে নিতে পারেনি আদিত্য। তাই সবসময় চুপচাপ থাকে৷ অস্থির থাকে প্রতিটি মুহূর্ত। কিন্তু এখন দেখছে শুধু ওই একটা কারণে আদিত্যর এতটা পরিবর্তন নয়। অন্য কোনো কারণও আছে।  ইরা ভাবনার জগৎ থেকে ফিরল শুভর কথায়। শুভ বলল, ‘কোথায় গেল আদিত্য?’

ইরা বলল, ‘জানি না আমি।’

পাশ থেকে জ্যোতি বলল, ‘আমি ডেকে নিয়ে আসবো?’

শুভ জ্যোতিকে থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘আমি বুঝতে পারছি ও কেন চলে গেছে এখান থেকে। তোরা ঘরে যা এখন, আমি ওকে নিয়ে আসছি।’

জ্যোতি আর কথা বাড়ালো না। ওর মনে গভীর চিন্তা। আদিত্যকে নিয়ে সেই কৌতূহলটা আজও রয়ে গেল। জ্যোতি জানে না আদিত্যর প্রতি এই অদ্ভুত কৌতূহলটা কবে বন্ধ হবে। তবে এটা জানে একদিন ও নিজের সব প্রশ্নের উত্তর পাবে। 

শুভ বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে লাগল। কিছুদূর যাওয়ার পরই দেখল আদিত্য পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে। শুভ গিয়ে ওর পাশে দাঁড়াল। কাধে হাত দিয়ে বলল, ‘কিরে, এভাবে চলে এলি কেন?’

আদিত্য একবার শুভর দিকে তাকালো। তারপর আবার পুকুরের দিকে তাকিয়ে রইল। মুখে কোনো কথা নেই।  বড় বড় করে নিশ্বাস নিচ্ছে ও। মাঝে মাঝে হাত দিয়ে চোখের কোণে জমে থাকা জল মুছছে। শুভ আবার বলল, ‘আমি বুঝতে পেরেছি তোর মন খারাপের কারণটা। কোনো চিন্তা করিস না। আমি তোর মায়ের সাথে ফোনে কথা বলার চেষ্টা করব। এবং তোকেও কথা বলিয়ে দিবো। তারপর দেখবি তোকে আর কষ্ট পেতে দিবে না আন্টি। ভালোবেসে কাছে টেনে নিবে নিজের ছেলেকে।’

আদিত্য কিছু বলল না। ও খুব ভালো করেই জানে এটা প্রায় অসম্ভব। সেই আগের মতো মায়ের সাথে কথা বলা, মায়ের স্নেহময় ছায়া সাথে নিয়ে পথ চলা আর সম্ভব নয়৷ আগের মতো মা আর নিজের হাতে দুই ভাই-বোনকে খাইয়ে দিবে না। নিজের হাতে চুল আঁচড়ে দিবে না আর। এগুলো ফিরে পাওয়া আর কখনোই সম্ভব নয়। শুভ শুধু শুধু আশ্বাস দিচ্ছে। যেকোনো সম্পর্কের শুরুতেই প্রয়োজন বিশ্বাস। হোক সেটা পারিবারিক ভালোবাসায়, কিংবা জীবন সঙ্গী এর ভালোবাসায়। আর মা তো ওকে বিশ্বাসই করে না৷ তাহলে কীভাবে সেই আগের ভালোবাসা ফিরে পাবে ও?

আদিত্যকে চুপ থাকতে দেখে শুভ আবারও বলল, ‘প্লিজ ভাই, আর মন খারাপ করে থাকিস না। তুই চুপচাপ থাকলে আমার ভালো লাগে না’

আদিত্য শুভর দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসি দিয়ে বলল, ‘এমনিতেই একটু মা আর বোনের কথা মনে পড়েছিল। তাই ওখান থেকে চলে এসেছি। এমন কিছু হয়নি যে তোমাকে মন খারাপ করে থাকতে হবে। তাছাড়া আমারও মন খারাপ না৷ ঠিক আছে চল বাড়িতে যাই৷’

- ওকে চল।

আদিত্য আর শুভ বাড়ির দিকে যেতে লাগল। ভিতরে গিয়ে আদিত্য খেয়াল করল অনেকেই আড়চোখে ওর দিকে তাকিয়ে আছে৷ সবার চোখেমুখে কৌতূহলের ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। হয়তো সবাই বুঝতে চেষ্টা করছে, ছেলেটা তখন ওভাবে চলে গিয়েছিল কেন? কী হয়েছে ছেলেটার? কেউ কিছু জিজ্ঞেস না করলেও আদিত্য জানে তাদের মাথায় এই টাইপের প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। আদিত্য, জ্যোতি আর ইরার দিকে তাকাল। ওদেরও একি অবস্থা। চোখেমুখে কৌতূহল সবার। আদিত্য সেদিকে আর ভ্রু-ক্ষেপ দিলো না। ভিতরে একটা ঘরে গিয়ে শুভ আর আদিত্য বসল। শুভ বলল, ‘আগে এটা আমার ঘর ছিল। এখন অবশ্য খালি থাকে। তবে আজ থেকে শহরের যাওয়ার আগ-পর্যন্ত আমি আর তুই এখানেই থাকবো।’

শুভর কথা শুনে আদিত্য শব্দ করে হাসতে লাগল। বিস্মিত কণ্ঠে শুভ বলল, ‘হাসছিস কেন?’

আদিত্য হাসতে হাসতে বলল, ‘পরশু আপনার বিয়ে। তারপর বাসর রাত। তা আপনি কী আমাকে ঘরে রেখেই বউকে নিয়ে বাসর করবেন।’

আদিত্যর কথা শুনে শুভ যে একটুও লজ্জা পেয়েছে, তার কোনো আবেশ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ওর মধ্যে। বরং আরো শব্দ করে হাসতে লাগল। আদিত্য বলল, ‘কী হলো?’

হাসি থামিয়ে শুভ বলল, ‘এখানে বাসর করলে তো তোকে ঘরে রাখবো বোকা ছেলে।’

জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে শুভর দিকে তাকাল আদিত্য। শুভ বলল, ‘বিয়ে করে বউকে নিয়েই তো ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিবো। সুতরাং বাসরটা আর এখানে হচ্ছে না৷’

- আপনার কথা আমি বুঝতে পারছি না ভাই৷ বিয়ে করে ঢাকায় চলে যাবেন মানে? সত্যি করে বলেন তো ভাই, বিয়েটা অন্যসব বিয়ের মতো স্বাভাবিকভাবে হচ্ছে তো, নাকি বিয়ে করেই বউকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ধান্দা করছেন?

- এখন এত কথা বলতে পারব না ভাই। বিকেলে একজনের সাথে তোদের দেখা করাবো৷ খুব খিদে পেয়েছে। ওই এক কাপ কফি আর বিস্কুটে পেট ভরে না। তাই এখন ফ্রেশ হয়ে নে, তারপর সবাই মিলে সকালের নাস্তাটা করে নিবো।

আদিত্য আর কিছু বলল না। দু’জনে গেল ফ্রেশ হতে। ফ্রেশ হয়ে ঘরে এসে জামা-কাপড় চেঞ্জ করে নিলো দু'জনে। আদিত্য আকাশী-নীল রঙের একটা টি-শার্ট পড়েছে। আর শুভ হলুদ রঙের টি-শার্ট পড়েছে। দু'জনে বাইরে এসে খাবার টেবিলে বসল। খাবার টেবিলে তখন জ্যোতি আর ইরা ছিল। জ্যোতি ওদের আসতে দেখে চেয়ারে বসা থেকে দাঁড়িয়ে  সবার প্লেটে ভাত  দিলো। খাওয়া-দাওয়ার মাঝখানে হঠাৎ শুভ বলল, ‘বিকেলে একজনের সাথে তোদের পরিচয় করিয়ে দিবো।’

জ্যোতি কৌতূহলী দৃষ্টিতে আড়চোখে শুভর দিকে তাকালো। কিন্তু কিছু না বলে আবার খাওয়া শুরু করল জ্যোতি। 

সকালে খাওয়া-দাওয়া শেষে বেশ কিছুক্ষণ আড্ডা দেওয়ার পর ঘরে এসে ঘুমিয়েছিল আদিত্য আর শুভ। এখন ফোনের শব্দে ঘুম ভাঙল আদিত্যর। শুভর ফোন বাজছে। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে দেখল সুমাইয়া নামে নম্বরটা সেইভ করা। আদিত্য বুঝতে পারছে না সুমাইয়া কে। ও যতদূর জানে সুমাইয়া নামে শুভর কোনো ফ্রেন্ড নেই। আর শুভ ভাইয়ের হবু স্ত্রীর নাম চৈতি। তাহলে কে এই সুমাইয়া? কিছুক্ষণ ভেবে আদিত্য বলল, ‘হয়তো উনার কোনো কাজিন।" ফোনের রিংটোন অফ হয়ে গেল। আদিত্য ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে চারটা বাজে। প্রায় বিকেল হয়ে গেছে। এতটা সময় ঘুমিয়েছে ও, নিজেই যেন বিশ্বাস করতে পাছে না। ফোনটা আবারও বেজে উঠল। শুভ বেঘোরে ঘুমোচ্ছে। এখন উনাকে ডাকাটা ঠিক হবে কিনা বুঝতে পারছে না ও। তবে তার অনুমতি ছাড়া ফোনটাও রিসিভ করা উচিত নয়। হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে একবার শুভ ভাই বলে ডাকল আদিত্য। শুভ একটু নড়েচড়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লো। আদিত্য আবার একটু জোরে ডাক দিতেই শুভ ঘুমন্ত কণ্ঠস্বরে বলল, ‘হুমমম।’

‘কেউ একজন ফোন করেছে, রিসিভ করব আমি?’

শুভ আবারও ঘুমন্ত কণ্ঠে বলল, ‘হুমমম।’

আর কিছু না ভেবে ফোন রিসিভ করল আদিত্য। কানের কাছে ধরতেই ওপাশ থেকে, ‘এই যে মি: শুভ কোথায় আপনি?’

মেয়েলী কণ্ঠস্বরটা আদিত্যর বুকে এসে ধনুকের তীরের মতো আঘাত করল। এত নরম এবং শীতল কণ্ঠস্বর ও আগে কখনো শুনেনি। মনে হচ্ছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কণ্ঠস্বরের অধিকারী এই মেয়ে৷ আদিত্য কথা বলতে পারছে না। ফোনের ওপাশের মেয়েটা আবার বলল, ‘কি হলো, কথা বলছেন না যে?’

আদিত্য কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলল, ‘আসলে আমি আদিত্য। শুভ ভাই ঘুমোচ্ছে।’

কথাটা এমনভাবে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলেছে আদিত্য। ওপাশের মেয়েটা বুঝতে পারল কিনা ও জানে না। কিছুক্ষণ নীরবতা,  হঠাৎ মেয়েটার হাসির শব্দ শুনতে পেলো আদিত্য। মুগ্ধ হয়ে হাসির শব্দ শুনছিল। ওর কথা বলার কোনো শক্তি নেই। পুরো শরীর হিম শীতল হয়ে গেছে৷ কিছুক্ষণ নীরবতা, তারপর মেয়েটা বলল, ‘কী করছ বাবু সোনা? খাওয়া- দাওয়া করেছ? আচ্ছা তুমি না বলেছিলে আজ রাতে আমার বাড়িতে আসবে। একটু তাড়াতাড়ি এসো প্লিজ। তোমাকে না দেখে আমি থাকতে পারছি না। তোমার বুকে মাথা না রাখলে আমি সারাক্ষণ অস্থির হয়ে থাকি। তোমার বুকের সেই অদ্ভুত শব্দটা না শুনলে আমি দুই চোখের পাতা এক করতে পারি না। তোমার ঠোঁটের স্পর্শ না পেলে আমার কাছে চিনি-ও তেতো লাগে। তোমার প্রতিটি স্পর্শে আছে গভীর ভালোবাসা, সেই স্পর্শ না পেলে আমার রাতের ঘুম হারিয়ে যায়।’

কথাগুলো একনাগাড়ে বলে আবার হা হা করে হাসতে লাগল মেয়েটা। আদিত্যর দম বন্ধ হয়ে আসছিল। হার্টবিট দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। হৃদপিণ্ডের ডিপডিপ শব্দটা ক্রমশ জোরে জোরে আওয়াজ হচ্ছে। বালিশ দিয়ে শুভর মাথায় একটা মারল আদিত্য। তবুও শুভর সাড়া নেই। অতঃপর কোনো উপায় না পেয়ে শক্তি দিয়ে জোরে ধাক্কা মারল শুভকে। সাথে সাথে তড়িঘড়ি করে বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠল শুভ।  চোখ কচলাতে কচলাতে আদিত্যকে বলল, ‘এভাবে ধাক্কা মারলি কেন?’ 

আদিত্য কিছু বলছে না। ওর চোখেমুখে ভয়ঙ্কর রকমের রাগ। শুভর দিকে তাকিয়ে আছে অগ্নি দৃষ্টিতে। শুভ বলল, ‘আরে ভাই রেগে আছিস কেন? কী হয়েছে বল আমাকে।’

আদিত্য রাগী কণ্ঠে বলল, ‘আপনার কাছ থেকে এমনটা আশা করিনি ভাই। ছি:, দু'দিন পর আপনার বিয়ে, আর আপনি এখন অন্য একটা মেয়ের সাথে রিলেশন করেন। তাও আবার অনেক গভীর রিলেশন। মেয়েটা বলল আপনি উনার বাড়িতে যান রাতে। আবার বলল, আপনার ঠোঁটের স্পর্শ না পেলে নাকি উনার কাছে চিনি-ও তেতো লাগে। ভাই, আপনি এইরকম কিছু করবেন, তা আমার কল্পনারও বাইরে ছিল।’

আদিত্যর কথাগুলো শুনে শুভ থতমত খেয়ে গেল। হা করে তাকিয়ে রইল আদিত্যর দিকে। নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে আদিত্যকে প্রশ্ন করল, ‘এইসব কী বলছিস তুই? আমার সম্পর্কে কোন মেয়ে তোকে কী বলেছে?’

আদিত্য ফোনটা দেখিয়ে বলল, ‘সুমাইয়া নামের মেয়েটা আপনাকে ফোন করে এগুলো বলছিল। ফোনটা আমি রিসিভ করেছি, তাই আমি সব শুনে ফেলেছি।’

শুভ আদিত্যর হাত থেকে ফোনটা নিলো। স্ক্রিনের দিকে ভ্রু-কুঁচকে তাকালো। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর ফোনটা কেটে দিয়ে আদিত্যর দিকে তাকালো শুভ। তারপর হঠাৎ করেই হো হো করে হাসতে লাগল। বিস্ময় আর কৌতূহল নিয়ে শুভর দিকে জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল আদিত্য। শুভ হাসতে হাসতে বলল, ‘আরে ভাই, এটা আমার হবু স্ত্রী নম্বর, মানে তোর ভাবীর নম্বর।’

আবার হো হো করে হাসতে লাগল শুভ। আদিত্য বলল, ‘আপনি তো বলেছিলেন ভাবীর নাম চৈতি। কিন্তু এই নম্বর তো সুমাইয়া দিয়ে সেইভ করা।’

- ওর পুরো নাম সুমাইয়া চৈতি। আমি সুমাইয়া বলেই ডাকি। অন্যরা চৈতি বলে।
আদিত্য রাগী কণ্ঠে বলল, ‘তাই বলে বিয়ের আগে এতটা গভীরে চলে যাবেন? বিয়ের আগেই রাতেরবেলা তার বাড়িতে যান আপনি! আপনি তো এমন ছিলেন না শুভ ভাই।’

শুভ হাসি থামিয়ে বলল, ‘ওর হাতটা পর্যন্ত এখনো ধরিনি আমি। আর রাতে ওদের বাড়িতে যাওয়া তো দূরে থাক, দিনের বেলায় ও যাইনি কখনো। তারপর কী যেন বললি, ঠোঁটে স্পর্শ করা, ও আমার বুকে মাথা রাখে। আরে ভাই, যেখানে একবারের জন্যও ওর হাতটা ধরিনি আমি, সেখানে এইসব করার তো কোনো প্রশ্নই আসে না।’

- জ্ঞান থাকতে নিজের কানকে অবিশ্বাস করতে পারব না আমি। ভাবী এইসব নিজের মুখে আমাকে বলেছে।

- আমি বুঝতে পারছি না ও এইসব কেন বলেছে। আচ্ছা এটা নিয়ে এখন আর ভেবে কাজ নেই। আমি পরে জিজ্ঞেস করব ওকে। এখন তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নে। একজনের সাথে দেখা করতে যাবো। বিশেষ করে তোকে আর ইরাকে দেখা করানো খুব দরকার ওর সাথে।

আদিত্য থমকে গেল। মনে মনে বলল, ‘কার সাথে দেখাবকরাবে শুভ ভাই? আর বিশেষ করে আমাকে আর ইরাকে কেন? কে সেই ব্যক্তি? আমাদের পরিচিত কেউ? নাকি শুভ ভাই আমার আর ইরার সম্পর্কের কথা জেনে গেছে। কিন্তু আমি তো কখনো বলিনি যে আমি যাকে ভালোবাসতাম, সেই মেয়েটা ইরা। আমক কিছুই বুঝতে পারছি না। সবকিছু কেমন উল্টো পাল্টা হয়ে যাচ্ছে।’

(চলতে...)
আরো পড়ুন ‘অদ্ভুত নিয়তি’-এর ৯ম পর্ব - ধারাবাহিক উপন্যাস : অদ্ভুত নিয়তি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড