• শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

খুলনাকে উড়িয়ে চট্টগ্রামের টানা দ্বিতীয় জয়

  ক্রীড়া ডেস্ক

২৪ জানুয়ারি ২০২২, ২২:০৭
চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স
চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। (ছবি: সংগৃহীত)

সাকিব আল হাসানের ফরচুন বরিশালের কাছে হেরে শুরু হয়েছিল মেহেদি হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের। তবে পরের ম্যাচেই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মিনিস্টার ঢাকাকে ৩০ রানের ব্যবধানে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় তারুণ্যনির্ভর দল চট্টগ্রাম।

আজ নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে মুশফিকুর রহিমের খুলনা টাইগার্সকেও হারিয়ে দিলো মিরাজের চট্টগ্রাম। এবারে তাদের জয়ের ব্যবধান ২৫ রানের। আগে ব্যাট করা চট্টগ্রামের সংগ্রহ ছিল এবারের আসরের সর্বোচ্চ ১৯০ রান। জবাবে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রানে থেমেছে খুলনা।

১৯১ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা প্রত্যাশামাফিক ছিল না খুলনার। শরিফুল ইসলামের করা দ্বিতীয় ওভারে একটি করে ছক্কা হাঁকান দুই ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচার ও তানজিদ হাসান তামিম। কিন্তু নাসুম আহমেদের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন ৯ রান করা তানজিদ।

পরের ওভারে খুলনার প্রথম ম্যাচের জয়ের নায়ক রনি তালুকদার সরাসরি বোল্ড করে দেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক মিরাজ। আউট হওয়ার আগে ৭ রান করতে পেরেছেন রনি। তবে মিরাজের করা ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে তিন চারের মারে ১৪ রান নিয়ে পাওয়ার প্লে'তে ৪৫ রান করে ফেলে খুলনা।

পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পর প্রথম বলেই রেজাউর রহমান রাজার বাউন্সারে পরাস্ত হন ফ্লেচার, বল গিয়ে আঘাত হানে তার ঘাড় ও চোয়ালের মাঝের অরক্ষিত জায়গায়। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন খুলনার ক্যারিবীয় ওপেনার। পরে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

মাঠ ছাড়ার আগে ১২ বলে ১৬ রান করেছিলেন ফ্লেচার। পরে ব্যাটিংয়ে নেমে হতাশ করেন খুলনার অধিনায়ক মুশফিক। তিনি ১৫ বলে মাত্র ১১ রান করে আউট হন বেনি হাওয়েলের বলে। তার আগে নামা শেখ মেহেদি হাসান ৫ চারের মারে খেলেন ২৪ বলে ৩০ রানের ইনিংস।

দলের ৭৬ রানের মাথায় ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় খুলনা। সেখান থেকে চেষ্টা করেছিলেন ফ্লেচারের কনকাশন সাব হিসেবে নামা সিকান্দার রাজা ও ইয়াসির আলি রাব্বি। কিন্তু রাজার ১২ বলে ২২ ও ইয়াসিরের ২৬ বলে ৪০ রানের ইনিংস শুধু পরাজয়ের ব্যবধান কমাতেই সক্ষম হয়।

শেষ দিকে কামরুল ইসলাম রাব্বি ৭ বলে ১৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। ফ্লেচারকে বাউন্সারে কুপোকাত করা ছাড়াও পুরো ম্যাচে দারুণ বোলিং করেন রেজাউর রাজা। নিজের স্পেলের শেষ বলে ছক্কা হজমের পরে পুরো ৪ ওভারে মাত্র ২০ রান খরচায় ২ উইকেট নেন তিনি।

এছাড়া তরুণ বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম ও অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজও নেন ২টি উইকেট। বেনি হাওয়েল ও নাসুম আহমেদের শিকার ১টি করে উইকেট। ব্যাট হাতেও ৩৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলায় ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন বেনি হাওয়েল।

এর আগে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হওয়া ম্যাচটিতে চলতি আসরে টানা ষষ্ঠবারের মতো আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় টস জেতা অধিনায়ক। মুশফিকুর রহিমের আমন্ত্রণে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারে তাণ্ডব চালায় চট্টগ্রাম। সোহরাওয়ার্দী শুভর করা সেই ওভার থেকে তুলে নেয় ২৩ রান।

তবে পরের ওভারেই ৭ বলে ১৭ রান করা উইল জ্যাকসকে ফিরিয়ে দেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। অন্য প্রান্তে ঝড়ো ব্যাটিং চালিয়ে নেন আরেক ওপেনার কেনার লুইস। মাত্র ৩.৩ ওভারেই পূরণ হয়ে যায় চট্টগ্রামের দলীয় পঞ্চাশ। ঠিক পরের বলেই রাব্বির দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন ১৪ বলে ২৫ রান করা কেনার।

এরপর দূর্ভাগ্যজনক রানআউটের শিকার হন আফিফ হোসেন ধ্রুব। তার ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে ১৫ রান। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৬.২ ওভারে ৪৮ রান যোগ করেন অধিনায়ক মেহেদি মিরাজ ও সাব্বির রহমান। চট্টগ্রামের দলীয় শতরান পূরণ হয় ১২.৩ ওভারে।

নবীন উল হকের করা ইনিংসের ১৪তম ওভারে পরপর তিন চার মেরে আরও একটি বাউন্ডারির আশায় স্কুপ করেছিলেন মিরাজ। কিন্তু বল উঠে যায় আকাশে, ধরা পড়ে যান থিসারা পেরেরার হাতে। আউট হওয়ার আগে চট্টগ্রাম অধিনায়ক চারটি চারের মারে ২৩ বলে করেন ৩০ রান।

আগের দিনের মতো আজও বড় ইনিংসের সম্ভাবনা জাগিয়ে এর অপমৃত্যু ঘটান সাব্বির। তার ব্যাট থেকে আসে ১ ছয়ের মারে ৩৩ বলে ৩২ রান। সাব্বিরের বিদায়ের পর ১৬ ওভারে চট্টগ্রামের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৩৩ রান। সেখান থেকে শেষ ৪ ওভারে ৫৭ রান যোগ করে তারা।

ওডি/জেআই

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড