• মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

ঘরের ছেলের বিশ্বজয়

  মাহবুব নাহিদ

২৬ জুন ২০১৯, ০২:৪০
সাকিব আল হাসান

এমন একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশের সাথে কোনো দল ক্রিকেট খেলতে আসলে টস করতে চাইত না। বাংলাদেশ কে সুযোগ দিতে চাইত ইচ্ছামতো ব্যাটিং বা বোলিং করার। এক সময় বাংলাদেশ শুধু সম্মানজনকভাবে হারার জন্য খেলত। কোনো রকম দুইশ রান করতে পারলে সেদিন বাংলাদেশ গর্বিত মনে করত নিজেদের। জিম্বাবুয়ের সাথে সিরিজ জিতেই রং মাখামাখি হতো। আর এখন অস্টেলিয়াও বাংলাদেশের সাথে ম্যাচ জেতার পর দীর্ঘনিশ্বাস নেয়, হাফ ছেড়ে বাঁচে। বাংলাদেশের এই এগিয়ে যাওয়ার শুরুটা আমাদের ত্রিরত্ন সাকিব-তামিম-মুশফিকের হাত ধরেই। ২০০৭ সালে ইন্ডিয়াকে বধ করে দিয়েই এরা নিজেদের জাত চিনিয়েছে। অবশ্য এদের তিনজনের সাথে মাশরাফি আর মাহমুদউল্লাহ এক হয়ে পঞ্চপাণ্ডব তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের জয়যাত্রা আরও বেগবান হয়েছে। তবে এই জয়যাত্রার মাঝে সেদিনের এক নতুন ছেলে যে বিশ্বজয় করে ফেলবে তা কে বুঝেছে! বাংলাদেশের এই জয়যাত্রাকে যে মানুষটি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি হলেন আমাদের সাকিব আল হাসান। তাকে বলা হয় বাংলাদেশের জান, বাংলাদেশের প্রাণ তাকে বলা হয়। আসলে কথাটি তো ভুল নয়।

বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে চিনিয়েছেন সাকিব। বিশ্ববাসী বড় গলায় উচ্চারণ করেছেন আমাদের দেশের নাম "সাকিবের দেশ, বাংলাদেশ" তিন ফরমেটের ক্রিকেটে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার আর কেই বা হয়েছে? আইপিএল, বিগ ব্যাশ, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লীগ কিংবা কাউন্টি ক্রিকেট সব জায়গায়ই তো তিনি উচিয়ে ধরেছেন বাংলাদেশের পতাকা। উচ্চারিত হয়েছে আমাদের দেশের নাম। দেখতে দেখতে সাকিব টপকে যাচ্ছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার দের। সেদিন আর বেশি দূরে নয় যেদিন সাকিবকেই বলা হবে সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার। কিন্তু আমাদের অনেকেরই সাকিবকে নিয়ে বিষেদাগার। সাকিবের বিভিন্ন জিনিস নিয়ে সমস্যা। সাকিব না কি টাকার জন্য খেলে, দেশের জন্য। তাহলে কি সাকিবের করা রান শুধু সাকিবের অ্যাকাউন্টে জমা হয়? দেশের অ্যাকাউন্টে হয় না? পরিসংখ্যান ঘাটলে দেখা যায় যে বাংলাদেশের জয়ে তার অবদানই সবচেয়ে বেশি। সবচেয়ে বেশি ম্যান অফ দ্যা ম্যাচের সংখ্যা তারই। ৬০০০ রান আর ২৫০ উইকেটের ক্লাবে নাম লেখালেন এই বিশ্বকাপেই। তিনি বিশ্বকাপই শুরু করেছেন এক নম্বর অলরাউন্ডার হিসেবে। সব বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই করেছেন ফিফটি। সর্বশেষ আফগানিস্তানের সাথে পৃথিবী দেখল অন্য এক সাকিবকে। এইদিন সাকিব গড়লেন এক অনন্য রেকর্ড। সাকিব এখন বিশ্বকাপে ১০০০ রান, ৩০ উইকেট পাওয়া একমাত্র প্লেয়ার। হয়তো সাকিব সে রেকর্ড করবেনই, কারণ সাকিবের অপর নাম রেকর্ড। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় রয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপে বুক চিতিয়ে খেলছেন। দুই নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে বুঝিয়ে দিয়েছেন এতদিন তাকে এত নিচে ব্যাটিং করিয়ে কী ভুলই না করেছেন টিম ম্যানেজমেন্ট।

বিশ্বকাপের আগে থেকেই ছিলেন সিরিয়াস। আইপিএলে টিমে সুযোগ না পাওয়াকে কাজে লাগিয়েছেন দারুণভাবে, ব্যক্তিগত কোচ নিয়ে করেছেন ব্যাটিং প্রাকটিস, যার ফলাফল বর্তমান। বিশ্বকাপে সিরিয়াস ছিলেন একদম প্রথম থেকেই। জানিনা সাকিব বিশ্বকাপ কিংবা অন্য কোনো ট্রফি জিতবেন কি না কিন্তু সাকিব যা জয় করেছেন তা কম নয়। জয় করেছেন বাংলাদেশের মানুষের মন, জয় করেছেন বিশ্ব ক্রিকেটের মর্যাদার স্থান। বাংলাদেশ পেয়েছে এক লড়াকু যোদ্ধা, এক ভালোবাসার পরশ, একটি প্রশস্ত কাঁধ যাতে ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। আরেকজন সাকিব এই শতাব্দীতে তৈরি হবে কি না জানি না তবে পুরো বাংলাদেশ চাইবে যেন প্রত্যেক ঘরে ঘরে একজন সাকিব আল হাসানের জন্ম হয়।

 

 

লেখক : কলামিস্ট 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড