• বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ইসকো-হ্যাজার্ড নৈপুণ্যে কোয়ার্টারে রিয়াল

  ক্রীড়া ডেস্ক

২১ জানুয়ারি ২০২২, ১১:১৩
এলচেকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ (ছবি: সংগৃহীত)

এলচের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পথ হারাতে বসেছিল শক্তিশালী রিয়াল মাদ্রিদ। নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে ম্যাচ গড়াল অতিরিক্ত সময়ে। ১০ জনের দলে নেমে আসার পরপরই গোল হজম করল তারা। আরও একবার আগেভাগে কোপা দেল রে থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কা। তবে গোল করে সমতা টেনে আশা জাগালেন ইসকো। আর শেষ দিকে দারুণ নৈপুণ্যে দলকে কোয়ার্টার-ফাইনালে তোলার নায়ক ইডেন হ্যাজার্ড।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) রাতে প্রতিপক্ষের মাঠে শেষ ষোলোর ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। গনসালো ভের্দুর গোলে শুরুতে এগিয়ে গিয়েছিল এলচে। পরে দুই বদলি খেলোয়াড়ের নৈপুণ্যে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে করিম বেনজেমা-কোর্তোয়াদের ছাড়া খেলতে নামা রিয়াল।

ম্যাচের শুরুটা দারুণ হতে পারত এলচের। দশম মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণের ভুলের সুযোগে গোলমুখে বল বাড়ান লুকাস পেরেস। সামনে ফাঁকা জাল, কিন্তু পোস্ট বরাবর মেরে বসেন গিদো কারিয়ো। ২৬তম মিনিটে তার হেড ঝাঁপিয়ে ঠেকান রিয়ালের দ্বিতীয় পছন্দের গোলরক্ষক আন্দ্রি লুনিন।

প্রথমার্ধের শেষ ১৫ মিনিটে চাপ ধরে রেখে ভালো কয়েকটি আক্রমণ সাজায় রিয়াল। তবে প্রতিবারই শেষে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলছিল গ্যালাকটিকোসরা।

৪০তম মিনিটে ডি-বক্সের মুখে ফাঁকায় বল পেয়ে গোলরক্ষক বরাবর শট নেন মিডফিল্ডার এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। দুই মিনিট পর বাঁদিকে দারুণভাবে একজনকে কাটিয়ে ছয় গজ বক্সের মুখে কাটব্যাক করেন মার্সেলো। ওখানে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের শট লক্ষ্যে থাকেনি, পোস্টের কাছে বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি লুকাস ভাসকেস।

বিরতির পর উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারছিল না কেউই। নির্ধারিত সময়ও ফুরিয়ে আসছিল। ৭২তম মিনিটে জোড়া পরিবর্তন আনে গোল পেতে মরিয়া রিয়াল। ফেদে ভালভেরদেকে তুলে লুকা মদ্রিচ ও কামাভিঙ্গার বদলে কাসেমিরোকে নামান আনচেলত্তি।

মাঠে নামার পাঁচ মিনিট পরই দারুণ একটি সুযোগ তৈরি করেন ক্যাসেমিরো। তবে দূর থেকে নেওয়া তার শট ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান এলচে গোলরক্ষক। খানিক পর ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে গোলরক্ষক বরাবর দুর্বল শট নিয়ে হতাশ করেন ভিনিসিয়াস।

অতিরিক্ত সময়ের ১০২তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় রিয়াল। নিজেদের ডি-বক্সের বাইরে বিপজ্জনক সীমানায় প্রতিপক্ষের তেতে মরেন্তেকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন মার্সেলো।

ওই ফ্রি কিকেই এগিয়ে যায় এলচে। গনসালো ভের্দুর প্রথম শট রক্ষণ দেয়ালে প্রতিহত হয়। ফিরতি বল পেয়ে আবার শট নেন তিনি। সামনে ক্যাসেমিরোর পায়ে লেগে দিক পাল্টে বল জালে জড়ায়, কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষক লুনিনের।

তিন বদলি খেলোয়াড়ের নৈপুণ্যে পাঁচ মিনিট পরই অবশ্য সমতায় ফেরে রিয়াল। বাঁ দিক থেকে ডি-বক্সের মাঝ বরাবর পাস দেন ক্যাসেমিরো, শট নেন দানি সেবালোস। বলের দিকে চোখ রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন গোলরক্ষক, ফ্লিকে বলের দিক পাল্টে দেন সামনে দাঁড়ানো ইসকো।

১১৫তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন বেলজিয়াম তারকা হ্যাজার্ড। ডেভিড আলাবার দারুণ পাস পেয়ে বিনা বাধায় বাঁ দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়তে যাচ্ছিলেন হ্যাজার্ড। বিপদ বুঝে দ্রুত এগিয়ে আসেন গোলরক্ষক; কিন্তু ওখানেই ভুলটা করে বসেন তিনি। তাকে কাটিয়ে দূর থেকে কোনাকুনি শটে ঠিকানা খুঁজে নেন বেলজিয়াম ফরোয়ার্ড। ম্যাচের একেবারে শেষ সময়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এলচের ফরোয়ার্ড পেরে মিয়া।

স্প্যানিশ কাপ নামে পরিচিত স্পেনের দ্বিতীয় সেরা এই প্রতিযোগিতায় তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৯ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রিয়াল। কিন্তু সবশেষ শিরোপা জয়ের পর কেটে গেছে সাত বছর। গত আসরে শেষ বত্রিশ থেকে বিদায় নিয়েছিল তারা। তার আগেরবার হারতে হয়েছিল কোয়ার্টার-ফাইনালে। শঙ্কা কাটিয়ে এবারও শেষ আটে উঠল তারা।

ওডি/কেএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড