• শনিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২২, ১৫ মাঘ ১৪২৮  |   ১৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ধর্ষণ মামলায় জেলে অলিম্পিক মাতানো জহির

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১৪:৪২
অ্যাথলেট জহির রায়হান (ছবি: সংগৃহীত)

ধর্ষণ মামলায় হাজতে গেলেন অ্যাথলেট জহির রায়হান। গতকাল বুধবার (৮ ডিসেম্বর) টোকিও অলিম্পিকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী এই অ্যাথলেটকে হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন গাজীপুরের শিশু ও নারীবিষয়ক ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক।

এর আগে উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়েছিলেন জহির। বুধবার ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করলে জামিন নামঞ্জুর করে হাজতে পাঠানো হয় তাকে। এর আগে ২০১৯ সালের ২১ মে জহির রায়হানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন এক নারী ক্রীড়াবিদ।

গাজীপুরের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বাদী অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে সাভার বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণ চলাকালে জহিরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। দেড় বছর তাদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বাদীকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে সংসার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জহির। তারই সূত্র ধরে ২০১৯ সালের ৩ মে বিয়ে করার কথা বলে বাদীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন জহির।

এরপর একাধিকবার বিয়ের তারিখ ঠিক করেও টালবাহানা করেন। স্থানীয় গণ্যমান্যদের বিষয়টি জানানোর পরও কোনো সুরাহা হয়নি। এরপর ২০১৯ সালের ৫ মে কালিয়াকৈর থানায় অভিযোগ করেন বাদী। কিন্তু কালিয়াকৈর থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ মামলা গ্রহণ না করায় গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ভুক্তভোগী। যার মামলা নং ৮১/১৯ (তারিখ-২৯/০৫/২০১৯)। এরপর আসামিকে আদালতে হাজির করার জন্য ওয়ারেন্ট জারি করেন বিজ্ঞ আদালত। চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের মাধ্যমে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসিকে গ্রেফতারি ওয়ারেন্ট তামিল করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরও আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। সম্প্রতি অবস্থা বেগতিক দেখে উচ্চতর আদালত থেকে অন্তর্বর্তী জামিন নিয়ে ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের জন্য বুধবার হাজির হন জহির।

বিচারের আশায় জহিরের পরিবার ও অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বাদী। শেষপর্যন্ত কোনো ন্যায়বিচার না পেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন তিনি। এ প্রসঙ্গে বাদী বলেন বলেন, ‘আমি কোথাও ন্যায়বিচার না পেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হই। অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রকিব মন্টুর সঙ্গে কয়েকবার কথা বলেছি। কিন্তু উনিও কোনো সুরাহা করেননি। দেখব, দেখছি বলে পাশ কাটিয়ে গেছেন। একজন ধর্ষণকারীকে মন্টু সাহেবরা কীভাবে টোকিও অলিম্পিকে পাঠালেন, তা দুঃখজনক। আমার জায়গায় যদি মন্টু সাহেবদের মেয়ে কিংবা বোন হতো, তাহলে উনারা কী করতেন? আমি ন্যায়বিচার চাই।’

এদিকে জহিরের বিরুদ্ধে আরও একজন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত ২ সেপ্টেম্বর জহিরের কর্মস্থলে লিখিত অভিযোগ করেন ওই নারী। অভিযোগে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পরিচিত হওয়ায় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে জহির ও তার মধ্যে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাদীর বাসায় গিয়ে দুই দফা ধর্ষণ করেন জহির। এরপর বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন জহির।

প্রসঙ্গত, বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অ্যাথলেটিক্সে বার বার আলোচনায় উঠে এসেছেন জহির। দেশের স্বনামধন্য এই অ্যাথলেট প্রথম খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন কেনিয়ায় বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপে সেমিতে পা রেখে। সবাইকে তাক লাগানো জহির এবার খবরের শিরোনাম ভিন্ন কারণে।

ওডি/কেএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড